
আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন
আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন বর্তমানে কনডেম সেলে রয়েছেন। কারাগার সূত্রের দাবি, দিনের বেশিরভাগ সময় কান্নাকাটি করে কাটান তিনি। প্রথম সংসারের সন্তান ও মায়ের কথা মনে করে প্রায়ই ভেঙে পড়েন।
স্বপ্নার বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম এলাকায়। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার প্রথম বিয়ে হয়। সেই সংসারে একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। পরে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দ্বিতীয় বিয়েতে অনীহা থাকলেও ২০২৩ সালে পরিবারের অমতে সোহেল রানাকে বিয়ে করেন।
কারাগারে দেওয়া বক্তব্যে স্বপ্না দাবি করেন, বিয়ের আগে স্থানীয়রা সোহেল সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন এবং তিনি নিয়মিত ইয়াবা সেবন করতেন। তাকে মাদক ছাড়তে বললেও সোহেল তা মানতেন না। বিয়ের পর তারা নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করেন। শেষ পর্যন্ত মিরপুরের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন, যেখানে সোহেল মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন।
ঘটনার দিন সকালে সোহেল কাজে যাওয়ার আগে তাকে ওষুধ খেয়ে বিশ্রাম নিতে বলেন বলে দাবি করেন স্বপ্না। পরে দরজায় ধাক্কার শব্দে ঘুম ভাঙার পর তিনি রক্ত দেখতে পান। স্থানীয় লোকজন দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে খাটের নিচে শিশু রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতিতে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, সোহেল রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন এবং লাশ গোপনের উদ্দেশ্যে মাথা বিচ্ছিন্ন করেন। মামলার রায়ে উল্লেখ করা হয়, হত্যাকাণ্ডে স্বপ্না সরাসরি সহযোগিতা করেন এবং সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দেন। এ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দুজনকেই মৃত্যুদণ্ড দেন।
মামলার বাদী ছিলেন নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। ঘটনার পর প্রথমে স্বপ্না এবং পরে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

