
দুপুরটা খু্ব বেশী নিরজন। অলস শরীর এলিয়ে দিয়ে বিছানায় শুয়ে জানালা দিয়ে বাতাসের দুরন্ত পানা দেখছিলাম। আমাদের বাড়ীর সামনের বড় গাছটি যাকে আমি তার শিশুবেলা থেকে অতি যত্নে লালন পালন করে এতোটা বড় করে তুলেছি।বাতাসের দুরন্ত পানায় সারা দিয়ে গাছের পাতাগুলোও দোল খাচ্ছে তালে তালে, তাদের আনন্দ যেনো উপছে পড়ছে চারিদিকে। দুর থেকে একটি ঘুঘু পাখি ডেকে চলেছে বিরামহীন ভাবে। ঘুঘুর ডাক আমার মনকে বিষন্ন করে তুললো।ঘুঘুর ডাকে কোথায় যেনো একটা করুন সুর লুকিয়ে থাকে।
আমার বিষন্ন মনটা আমাকে নিয়ে দাঁড় করিয়ে দিলো বহু বছর আগের জীবনে।আমাদের কুমিল্লার বাসা।এমন একটি অলস দুপুর। নিরজতা চারিদিকে শুধু কিছু রিকশার টুংটাং শব্দ।বাইরে বসন্তের বাতাস। নারিকেল সুপারি গাছের শন শন শব্দ বাতাসের সাথে সাথে তাল মিলিয়ে দুলছে।দুরে কোথাও মধুর কন্ঠে একটি কোকিল ডেকে যচ্ছে। মনটা উদাস হয়ে গেলো। আমার কিশোর মনটা কোথায় যেনো হারিয়ে কাউকে খুঁজে বেড়াতে লাগলো। বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠেছিলো ,সবাই আছে তবু মনে হচ্ছিলো কে যেনো নেই।
আজ এতো বছর পর এই নিরজন দুপুরে মনটা আবার হাহাকার করে উঠলো , সবকিছু আছে তবু মনে হচ্ছে আমি বড়বেশী একা।
তবে এই হাহাকার অন্য রকমের। খালি বাসা।ছেলে মেয়েরা যার যার মতো করে ব্যস্ত তাদের জীবনে। আমরা দুজন মানুষও আছি যার যার মতো করে।বাড়ীতে নানা রকমের ছোটখাট ব্যস্ততা আছে তবে তার চাইতে অনেক বেশী নিরবতা। ছেলে মেয়েদের ঘরগুলোতে দাঁড়িয়ে দেখি সবকিছু একই ভাবে রেখে দিয়েছি ওদের ছোট বেলায় ছবি স্কুল , বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছবি, নানা রকম এচিভমেন্ট এর ছবি, সব ছবি গুলো সে ভাবেই দেয়ালে টানানো। শুধু আমার ছেলেমেয়েরা আমার কাছে নেই।নিজের অজান্তেই চোখ বেয়ে জল ঝরে। বহু বছর আগের বিষন্ন মনের হাহাকারটা ঘুঘু পাখির ডাক আর দুরন্ত বাতাস আমার কাছে আবার ফিরে এলো।

