
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম দাবি করেছেন, আদর্শিক বিরোধিতার কারণে সরকারের ভেতরে তাকে কোণঠাসা করা হয়েছিল। এ কারণে নিজের জীবন ও সম্মান রক্ষার স্বার্থে তিনি অনেক বিষয়ে নীরব থাকতে বাধ্য হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সব দোষ মাহফুজ আলমের ইতিবৃত্ত’ শিরোনামের ওই স্ট্যাটাসে তিনি নিজের বিরুদ্ধে চলমান সমালোচনা, রাজনৈতিক আক্রমণ এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিতর্ক নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান।
মাহফুজ আলম বলেন, তিনি জুলাই আন্দোলনের পক্ষের কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বক্তব্য দেননি। তবে তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা ও আক্রমণ এসেছে জুলাইয়ের কথিত পক্ষের বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছ থেকে। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে তাকে ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, তার সময়কালের জন্য যদি তাকে দায়ী করা হয়, তাহলে একই মন্ত্রণালয়ের অন্য সময়ের দায়িত্বশীলদের কেন দায়মুক্ত রাখা হবে।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, জামায়াতের রাজনৈতিক আদর্শের সমালোচনা করাকে কেন্দ্র করে তাকে বিভাজনের জন্য দায়ী করা হচ্ছে। তবে তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিতর্ক গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ এবং এ কারণে তিনি নিজের অবস্থান নিয়ে অনুতপ্ত নন।
সাবেক এ উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আদর্শিক কারণে তাকে একঘরে করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি কোনো সরকারি দায়িত্বে নেই কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় নেতা নন, তবুও ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যক্তিগত আক্রমণ, গালিগালাজ ও বিদ্বেষমূলক রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানান। নীতিমালা ও মতাদর্শভিত্তিক বিতর্কের মাধ্যমে একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

