
মন ভালো নেই। একদমই ভালো নেই।
জীবনের পথে চলতে গিয়ে মানুষ অনেক কিছু করে ফেলে—কখনো বুঝে, কখনো না বুঝেই। পরে সেই কাজগুলোর ভার নিজের মনকেই সবচেয়ে বেশি বিষণ্ন করে তোলে। যারা আমাকে বহু বছর ধরে চেনেন, ভালোবাসেন, আশা করি তারা আমার এই অস্থিরতা আর বিষণ্নতার জায়গাটা বোঝার চেষ্টা করবেন।
সব সময় নিজেকে সামলে রাখা যায় না। গত কয়েক বছর ধরে আমি মানসিকভাবে খুব কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। কখনো কখনো নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। তারপর নিজের কাছেই নিজের অস্বস্তি, অনুশোচনা আর অস্থিরতার শেষ থাকে না।
যাদের আমি বন্ধু ভাবি, বোনের মতো ভাবি, ভাইয়ের মতো আপন মনে করি—তাদের কাছে আমার বিশ্বাস, তারা আমাকে বোঝার চেষ্টা করবেন। আমিও প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি এই ট্রমা থেকে নিজেকে বের করে আনতে।
মাঝে মাঝে মনে হয়, একটু একা থাকা দরকার। হয়তো একাকীত্বও এক ধরনের থেরাপি। একা থাকলে মানুষ নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে পারে, নিজের জীবনটাকে নতুনভাবে গড়ে তোলার সাহস পায়।
অনেকদিন হলো লেখা হয় না। একসময় কিছুদিন না লিখলেই মন অস্থির হয়ে উঠত। এখন মাসের পর মাস কেটে যায়, তবুও সেই অস্থিরতা নেই। মনে হয় যেন লেখার জগৎটাকেই ভুলতে বসেছি। অথচ এখন বুঝছি, আমাকে আবার লেখালেখিতেই ফিরতে হবে—সেই জগতে, যেখানে নিজের ভাবনায় ডুবে থাকা যায়, যেখানে হয়তো খুঁজে পাওয়া যায় মনের শান্তি।
নিজের অজান্তে, না বুঝে যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি—আমার ছোট বোন, ভাই, বন্ধু, যারা সবসময় পাশে থেকেছেন, সহযোগিতা করেছেন—তাদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। আমার বিশ্বাস, আমাদের সম্পর্ক আগের মতোই থাকবে।
এই মুহূর্তে আমার দরকার একটু চিন্তামুক্ত জীবন, কিছু মানসিক শান্তি। হয়তো বইয়ের ভেতরে ডুবে থাকা, লেখার ভেতরে হারিয়ে যাওয়া আমাকে সেই শান্তির পথ দেখাতে পারে।
সবসময় ইচ্ছে ছিল—জীবনের অবসরে অনেক বই পড়বো, অনেক লিখবো। কিন্তু নিয়তি সবসময় সাড়া দেয়নি। এখন ভাবছি, নিয়তির সঙ্গেই একটা নতুন বোঝাপড়া করে নেব।
সবাই ভালো থাকবেন। আমাকেও ভালো থাকতে সাহায্য করবেন।

