
কানাডার জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় শীর্ষ পর্যায়ের এক বেসামরিক কর্মকর্তাকে ঘিরে স্বার্থের দ্বন্দ্ব সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দেশটির সরকারি এথিকস নজরদারি সংস্থা। এ ঘটনায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারি এথিকস কমিশনার কনরাড ভন ফিনকেনস্টাইন বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, জাতীয় প্রতিরক্ষা বিভাগের শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা ক্রিস্টিয়ানি ফক্স তার পরিচিত একজন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়ে স্বার্থের দ্বন্দ্ব সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ফক্স তার ব্যক্তিগত পরিচিত বিয়র্ন চার্লস-কে সরকারি পদে নিয়োগ দিতে প্রভাব খাটিয়েছিলেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, ফক্স এবং চার্লসের পরিচয় নতুন নয়। ফক্স যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন, তখন থেকেই তাদের মধ্যে পরিচিতি ছিল। পরবর্তীতে, ২০২৩ সালে ফক্স যখন ইমিগ্রেশন, রিফিউজি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন তিনি চার্লসকে একটি প্রকল্প ব্যবস্থাপক পদে নিয়োগ দেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। বরং ফক্সের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে, যাতে চার্লসকে নির্দিষ্ট পদে বসানো যায়।
তদন্তে আরও জানা যায়, ফক্স এবং তার পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত একটি জিমে যেতেন, যেখানে চার্লস ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। এই সামাজিক যোগাযোগ তাদের সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করে তোলে। এছাড়া, ২০০১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ফক্স যখন কার্লটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন, তখন তার স্বামী চার্লসের সহকারী বাস্কেটবল কোচ হিসেবে কাজ করতেন। অর্থাৎ, ব্যক্তিগত ও সামাজিক দুই পর্যায়েই তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল।
বর্তমানে চার্লস প্রিভি কাউন্সিল অফিসে অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন অ্যান্ড প্রাইভেসি শাখায় একজন অ্যানালিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও ফক্সের প্রভাব ছিল। এথিকস কমিশনার কনরাড ভন ফিনকেনস্টাইন তার বিবৃতিতে বলেন, “এই প্রতিবেদনটি ফেডারেল কর্মকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা স্বার্থের কারণে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা আইনবিরুদ্ধ। সরকারি পদে থেকে নিজের বা পরিচিত কারও সুবিধা আদায় করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।”
এই ঘটনায় কানাডার প্রশাসনিক কাঠামোয় নৈতিকতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এমন আচরণ শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং জনআস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফক্স এর আগে প্রিভি কাউন্সিলের ডেপুটি ক্লার্ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তাকে কানাডার প্রশাসনিক ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ফলে তার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই ঘটনা স্পষ্টভাবে দেখায়, সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাব কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এথিকস কমিশনের এই প্রতিবেদন ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা ক্ষমতার অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

