কর্মী ছাঁটাই নিয়ে ফেডারেল ইউনিয়নের টাউনহল মিটিং

কর্মী ছাঁটাই নিয়ে ফেডারেল ইউনিয়নের টাউনহল মিটিং - the Bengali Times
কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসতে যাচ্ছে পাবলিক সার্ভিস অ্যালায়েন্স অব কানাডা পিএসএসি

কানাডার ফেডারেল সরকারি খাতে সম্ভাব্য বৃহৎ পরিসরের কর্মী ছাঁটাই ও অফিসে ফেরার বাধ্যবাধকতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসতে যাচ্ছে পাবলিক সার্ভিস অ্যালায়েন্স অব কানাডা (পিএসএসি)। আগামী ২৩ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ভার্চুয়াল টাউনহল মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে সরকারি কর্মীরা তাদের প্রশ্ন, উদ্বেগ ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে পারবেন।

সাম্প্রতিক তিন সপ্তাহে ২৬ হাজারেরও বেশি সরকারি কর্মীকে সম্ভাব্য চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এই পদক্ষেপটি মূলত কানাডা সরকারের বৃহত্তর ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে ফেডারেল পাবলিক সার্ভিস থেকে মোট ২৮ হাজার কর্মী কমানো।

- Advertisement -

গত বছরের নভেম্বরে উত্থাপিত “কানাডা স্ট্রং” বাজেটে এই পরিকল্পনার রূপরেখা স্পষ্ট করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী : প্রায় ১৬ হাজার পূর্ণকালীন চাকরি বাতিল করা হবে ব্যয় পর্যালোচনার মাধ্যমে, আরও প্রায় ১২ হাজার কর্মীকে আগাম অবসর প্যাকেজের আওতায় আনা হবে এবং এর মধ্যে প্রায় ৩৫০ জন নির্বাহী কর্মকর্তাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। পিএসএসি জানিয়েছে, ইতোমধ্যে তাদের ১৩ হাজারের বেশি সদস্য “ওয়ার্কফোর্স অ্যাডজাস্টমেন্ট” নোটিশ পেয়েছেন, যা সরাসরি চাকরি হারানোর পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পিএসএসি তাদের বিবৃতিতে বলেছে, এই টাউনহল মিটিং কর্মীদের নিজেদের উদ্বেগ তুলে ধরার, তথ্য বিনিময় করার এবং সম্ভাব্য ছাঁটাই ও বাধ্যতামূলক অফিসে ফেরার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়ার কৌশল শেখারজন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ । ইউনিয়নের মতে, এই পরিকল্পনা শুধু কর্মীদের নয়, বরং দেশের অর্থনীতি ও জনসেবার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী তিন বছরে প্রায় ৩০ হাজার ফেডারেল কর্মী কমানোর যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা জনসেবার মান কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পিএসএসি প্রেসিডেন্ট শ্যারন ডিসুজা সম্প্রতি হাউস অব কমন্সের একটি কমিটিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ফেডারেল কর্মীরা প্রতিদিন লাখ লাখ নাগরিককে গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদান করেন। এই সেবাগুলোর ওপর নির্ভরশীলতা অত্যন্ত বেশি। তিনি আরও সতর্ক করেন, ২০২৫ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে প্রায় ৫৬.৭ বিলিয়ন ডলার (৫ হাজার ৬৭০ কোটি ডলার) ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে জনসেবার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, পরিষেবার প্রাপ্যতা কমে যেতে পারে এছাড়াও নাগরিকদের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে।

এই ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের জন্য অফিসে ফেরার বাধ্যবাধকতাও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। মহামারির পর অনেক কর্মী রিমোট বা হাইব্রিড ব্যবস্থায় কাজ করছিলেন। এখন আবার অফিসে নিয়মিত উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

কানাডা সরকারের এই ব্যয় সংকোচন নীতি একদিকে বাজেট ঘাটতি কমানোর চেষ্টা হলেও, অন্যদিকে এটি কর্মসংস্থান, জনসেবা এবং অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। বড় পরিসরের কর্মী ছাঁটাই অর্থনীতিতে ভোক্তা ব্যয় কমাতে পারে এমনকি সরকারি সেবার মান হ্রাস পেলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং কর্মীদের মনোবল ও কর্মদক্ষতা কমে যেতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে পিএসএসি’র টাউনহল মিটিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, কারণ এটি কর্মীদের সংগঠিত হওয়া এবং তাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠছে। কানাডার সরকারি খাতে এই পরিবর্তন শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে যার প্রতিফলন আগামী কয়েক বছরে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles