পুরোপুরি অফিসে ফিরছেন অন্টারিওর অর্ধেক সরকারি কর্মী

পুরোপুরি অফিসে ফিরছেন অন্টারিওর অর্ধেক সরকারি কর্মী - the Bengali Times
কয়েক বছর ধরে চলা হাইব্রিড ওয়ার্ক ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে অন্টারিও প্রদেশের প্রায় ৬০ হাজার সরকারি কর্মীর প্রায় অর্ধেক আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোপুরি সশরীরে অফিসে ফিরতে শুরু করছেন

কয়েক বছর ধরে চলা হাইব্রিড ওয়ার্ক ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে অন্টারিও প্রদেশের প্রায় ৬০ হাজার সরকারি কর্মীর প্রায় অর্ধেক আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোপুরি সশরীরে অফিসে ফিরতে শুরু করছেন। কোভিড-১৯ মহামারির পর কর্মক্ষেত্রে যে নমনীয়তার যুগ শুরু হয়েছিল, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুধু সরকারি খাত নয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অন্টারিওসহ কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাংক, প্রযুক্তি কোম্পানি এবং টেলিকম খাতের হাজারো কর্মীকেও পূর্ণকালীন অফিসে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের রিমোট ওয়ার্ক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে কর্মীদের আবার নিয়মিত অফিসমুখী করার যে প্রবণতা শুরু হয়েছে, অন্টারিও পাবলিক সার্ভিস (ওপিএস) কর্মীদের অফিসে ফেরা তারই অংশ।

- Advertisement -

স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সাম্প্রতিক উপাত্ত এই পরিবর্তনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, টানা চতুর্থ বছরের মতো বাড়িতে বসে কাজ করা কর্মীদের সংখ্যা কমছে। গত বছরের মে মাস পর্যন্ত টরন্টোর সব কর্মীর মধ্যে ৭৬ শতাংশই কাজে যাওয়ার জন্য নিয়মিত ভ্রমণ করেছেন, যা মহামারিকালীন সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

কোভিড-১৯ মহামারি শুরু হওয়ার পর অন্টারিও পাবলিক সার্ভিসের কর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে বাড়িতে বসে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। মহামারির প্রথম দুই বছরে তারা পুরোপুরি বা আংশিকভাবে রিমোট ওয়ার্কে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো সপ্তাহে তিনদিন সশরীরে অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর ধাপে ধাপে সেই উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় প্রাদেশিক সরকার।

গত বছরের আগস্টে অন্টারিও সরকার ঘোষণা দেয়, যারা এখনও পুরোপুরি সশরীরে অফিস করছেন না, তাদের অক্টোবর থেকে সপ্তাহে চারদিন এবং চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি থেকে সপ্তাহে পাঁচদিন অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এখন পূর্ণকালীন অফিস ব্যবস্থায় ফিরে যাচ্ছেন বিপুলসংখ্যক সরকারি কর্মী।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নীতি বর্তমান শ্রমবাজার ও কর্মশক্তির বাস্তব চিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পাশাপাশি প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের দাবি সশরীরে কাজ করলে উৎপাদনশীলতা বাড়ে এ বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। প্রিমিয়ার ফোর্ড এক বক্তব্যে বলেন, “ফোনের মাধ্যমে আপনি কাউকে কীভাবে পরামর্শ দেবেন? আপনি পারবেন না। মানুষকে চোখে চোখ রেখে কথা বলতে হয়।”

তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মীদের একাংশের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, অফিসে ফিরে দলগত কাজ ও সরাসরি যোগাযোগ সহজ হবে। আবার অনেকের মতে, দীর্ঘদিনের হাইব্রিড ব্যবস্থায় কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের যে ভারসাম্য তৈরি হয়েছিল, তা এই সিদ্ধান্তে বিঘ্নিত হতে পারে।

সব মিলিয়ে, অন্টারিওতে সরকারি ও বেসরকারি দুই খাতেই রিমোট ওয়ার্ক থেকে সশরীরে অফিসে ফেরার যে ধারা জোরালো হচ্ছে, তা কর্মক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ রূপকেই নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে চলেছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles