
আজ আমার ভাগ্যটা এতোই ভালো!
দিন-রাত গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। রাত বারোটায় পেটে হাল্কা মেঘের গর্জনের আভাস পাওয়াতে ফ্রিজের উপরের কর্ণার থেকে দুই সপ্তাহ আগের বিরিয়ানিটা খুঁজে বের করি। গরম দানাপানি পেটে না পড়লে ঘুম আসবে না। বক্স খুলে শুঁকে কনফিউজ্ড হয়ে যাই; নষ্টও হয়নি, আবার ভালোও না। গরুর ছিটেফোঁটা আছে; কিছু ভাঙা মাংস, সাদা চর্বি। আর এক টুকরো থ্যাতলানো আলু বোখারা। ভালো আর খারাপের মাঝামাঝি বিরিয়ানি বা তেহারি হলো দুনিয়ায় বেস্ট।
মানুষের মতো।
যেমন কালোজাম। যখন মনে হবে মিষ্টিটা কি হাল্কা টক টক, নাকি ঠিকই আছে? ঐগুলা হলো বেস্ট।
আম ডালের মতো।
বিয়ে বাড়িতে কিছু সুইটি আছে; দেখে মনে হবে মেয়েটা কি আসলেই দেখতে সুন্দর? নাকি সাধারণ? নাকি শাড়ি পরার কারনে মানিয়েছে? এরকম গবেষণা চলবে বেশ খানিকক্ষণ।
এরাই অনুষ্ঠান চুরি করে।
ছোট উঁচু সস প্যানে দেড় লিটার পানি সেদ্ধ করতে দিয়ে ফ্রিজ থেকে কিছু গাজর, পাতাকপি, ক্যাপ্সিকাম, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ বের করে ছোট সাইজ করে কেটে থালায় রাখি। আর এক টুকরো ফ্রেশ আদা; এটাই আসল। ডিপের দরজায় রাখা ছোট জিপলক ব্যাগ থেকে কয়েক টুকরো ফ্রোজেন মুরগী বক্ষ মাংস নিয়ে চুলার পানিতে ছেড়ে দিলাম।
ফুটুক।
স্যুপের খুব দরকার।
গলা কেশে নিয়ে বাথরুমে গিয়ে নাক ঝেড়ে ফ্রেশ হয়ে এলাম। সিজন চেন্জড, জীবানুদের খুব উপদ্রব। ফাইট দিতে হবে।
ফুটন্ত পানি থেকে এক টেবিলচামচ সবজি তুলে টিপে দেখতে থাকি সেদ্ধ হয়েছে কিনা। কনফিউজ্ড।
পরীক্ষা দিয়ে আসার পর যখন যখন দোস্তরা জিজ্ঞেস করে, কি রে রিপন পরীক্ষা কেমন হইছে?
তখন যদি রিপন উত্তর দেয়, “ঠিক বুঝতেছি না বা মোটামুটি;” তার মানে পরীক্ষা ভালো হইছে।
মাংসে আলু সিদ্ধের মতো।
মাইক্রোতে গরম করার সময় বিরিয়ানি থেকে হালকা বাসি গন্ধ ছুটলো। পারফেক্ট। দুই পিস হার্ড চিকেনও গরমে দিলাম। দাঁতের তলায় শক্ত প্রোটিন না পড়লে জুত পাই না। হার্ড চিকেনের কচকচে শক্ত চামড়াটাই আসল। বক্সটা ফ্রিজে একদম কর্ণারে ছিল; সিমের বিচির টিনের কৌটার পেছনে। কে লুকায়ে রাখছিল কে জানে..
আমার মেয়েটা একবারে বেশি খেতে পারে না। তিন দিন আগে “পরে খাবো” বলে তার পোপেইজ চিকেনের থাইয়ের বড়ো অংশ সে রেখে দিয়েছিল। তাকে পরে গরম করে দেওয়া মানে খুবই অমানবিক ব্যাপার ঘটবে; আমার ছেলেটা মুখে কিছু না বললেও কষ্ট পাবে। এসব জটিল সমস্যার একমাত্র সমাধান হলো গুম করে ফেলা।
কেল্লা ফতে!
ফ্রিজের নিচে সবজি বক্সের উপরে ফিস সস, আচার আর ভিনেগারের জেরিকেনের পাশে সাড়ে সাতশো এমেলের একটা কোকের বোতলের বয়স কমপক্ষে ছয় মাস। তিনভাগের একভাগ অবশিষ্ট আছে। এক ঢোক খেয়ে খুব কনফিউজ্ড হয়ে যাই; ঝাঁঝ কি আছে, না নেই? ওটা গ্লাসে ঢেলে ডিপ থেকে তিন পিস বরফ কিউব ছেড়ে রিসাইকল করে নিলাম।
জিনিস নষ্ট করা গুনাহ।
ওগুলা গরম করতে দিয়ে দুটা কমলা, কয়েকটা বার্বিকিউ চিপস বের করে চিবাতে চিবাতে খবর দেখতে বসি। ভিটামিন সি’র অভাবে ভুগছি; দাঁত ব্রাশ করতে গেলে টের পাওয়া যায়। খবরে জাস্টিন ট্রুডো আর কেটি’র মধ্যে প্রেম দেখাচ্ছে। তার পিরিতির কারনেই আসলে দেশ চালানোতে মন ছিল না। আর ট্রুডো আগে এতোই এলজিবিটিকিউদের পক্ষে কথা বলতো যে আমার সন্দেহ হতো, ব্যাটা গে কিনা। কোন প্যারোড মিস দিতো না। কেটির সাথে প্রেম করাতে সন্দেহ খানিকটা দূর হয়েছে।
তাও কনফিউজ্ড..
এক থালা টইটম্বুর বিরিয়ানীর ওপর প্রচুর পেঁয়াজ কাঁচামরিচ দিয়ে করা ডিমভাজি, মিষ্টি প্রুনের দুই চামচ চাটনি, পোপেইজের চিকেন, অর্ধেকটা লাল পেঁয়াজ, শসা-
“সরি দেখিনি! ”
“ইটস ওকে, গরম স্যুপ খেলে ভালো লাগবে।”
গিন্নিকেও এক বাটি স্যুপ দিলাম। পা ব্যাথায় কাজে দিবে। স্যুপ শেষ করে প্লেটের দিকে চেয়ে বলল, ডিম সেদ্ধ ছাড়া বিরিয়ানি জমে? চান্দু, একটু কষ্ট করে ফ্রিজের বাম কর্নারে ডিমের বাক্সগুলার পিছনে ঘি এর বয়মের পেছনে সাওর ক্রিমের সাদা কৌটায় তিনটা সেদ্ধ ডিম আছে, দুইটা নিয়ে আসো তো? ছিলার দরকার নাই। আর কয়েকটা কাঁচা মরিচ।
আমি আবার বাঁকা হাসা হাসি।
সেই কখন থেকে মনে হচ্ছিল কি জানি নাই, কি জানি নাই..। সেদ্ধ ডিম ছাড়া বিরিয়ানী আর বৌ ছাড়া বাসর ঘরের মধ্যে কোনো পার্থক্য নাই।
ভাগ বাটোয়ারা করে আমরা সব শেষ করি। জিজ্ঞেস করি,”চা খাবা?”
“আগে ফিরনি খাবো”
“এখনো আছে!”
“আছে, অল্প”
গিন্নি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে যেতে থাকে রান্না ঘরের দিকে..
আমি খুবই কনফিউজ্ড..
অটোয়া, কানাডা

