কানাডিয়ান ট্রিটমেন্ট কেমন হলো?

কানাডিয়ান ট্রিটমেন্ট কেমন হলো? - the Bengali Times
আমি বেশ অনেক দিন ধরে হেব্বি ব্লিডিংয়ের সমস্যায় পড়ে ছিলাম

আমার সার্জারির কারণ! কানাডিয়ান ট্রিটমেন্ট কেমন হলো?

শুরুটা কেমন ছিল?

- Advertisement -

আমি বেশ অনেক দিন ধরে হেব্বি ব্লিডিংয়ের সমস্যায় পড়ে ছিলাম। প্রথমে মনে করেছিলাম এসব নরমাল। পরে পরিস্থিতি তীব্র হওয়ায় ফ্যামিলি ডাক্তারের কাছে আলোচনা করি। তিনি কিছু আল্ট্রাসাউন্ড দিয়েছিলেন।

পরে আমি এপ্রিলের দিকে সরাসরি emergencyতে যাই। কিছু হলেই আমি সেখানে ছুটে যাই। সময় যা-ই লাগুক সেটা আমার জন্য সমস্যা না। তো এপ্রিলে যখন গিয়েছিলাম তখন তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে সবকিছু চেক-আপ করেন। আল্ট্রাসাউন্ড করেন। সকালে গিয়েছিলাম। সব শেষ কর বাড়ি পাঠিয়েছিল ভোর দুইটায়। তখন তাঁরা আমার uterus এর internal ও external আল্ট্রাসাউন্ড করেছিলেন। কিছু সমস্যা দেখা যায় রিপোর্টে। যেমন, Fibroids.এটা মেয়েদের জন্য একটা কমন ব্যাপার।

emergencyএর কাজ হলো তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া। চেক-আপ করা। কিন্তু সেটার একটা পার্মানেন্ট ব্যবস্থা তাঁরা নেন না। এইজন্য তাঁরা রেফার করে দেন স্পেশালিস্টের কাছে। গাইনোকোলজিস্টের কাছে।

তো আমি আমার গাইনোকোলজিস্টের কাছে নিজেই সরাসরি ফোন দিয়ে এপোয়েন্টমেন্ট নিলাম। লাস্ট ভিজিটের এক বছরের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়। এক বছর পার হলে ফ্যামিলি ডাক্তারের রেফারেন্স লাগে।

তো আমার Obstetrician-gynecologist হলেন Dr. Melanie Ornstein। তাঁর অফিস হলো Pape and Danforth এ। আমি বারো বছরেরও বেশি সময় ধরে ওনার কাছে যাই। উনি অত্যন্ত অভিজ্ঞ, বিগ ক্যারিয়ার, ভেরি প্রফেশনাল ও সর্বোচ্চ আন্তরিক।

আমার এসব সমস্যা নিয়ে প্রথম ভিজিটে তিনি Michael Garron Hospital এর বিভিন্ন আল্ট্রাসাউন্ড এর রেজাল্ট দেখেন।  আমার সমস্যার গতিবেগ দেখে কিছু ডাক্তারি টেস্ট ও আল্ট্রাসাউন্ড করার জন্য রিকুইজেশন দিয়েছিলেন তখন।

তারমধ্যে দুইটা আল্ট্রাসাউন্ড নরমাল যেসব internal ও external সেই দুইটা। ভালো আল্ট্রাসাউন্ড সেন্টারে পাঠালেন। এখানে একটা পরামর্শ দিয়ে রাখি। আপনি যদি ভালো আল্ট্রাসাউন্ড সেন্টারে না করেন রেজাল্ট উল্টোও আসতে পারে।

তো যাই হোক, ডা. মিলানি আমাকে আরেকটা ভেরি বিশেষ আল্ট্রাসাউন্ড দিয়েছিলেন। যেটা একটা বিশেষ সময়ে সম্পন্ন করতে হয় ও অত্যন্ত সেনসিটিভ। এই আল্ট্রাসাউন্ডটা হলো একেবারেই uterus এর ভেতরে ঢুকে পরীক্ষা করা। যদি সেখানে কোনো সমস্যা থাকে তাহলে ধরা পড়বে। এটার নাম হলো Sonohysterography.

ডা. মিলানি জানালেন, “এই আল্ট্রাসাউন্ড না দেখে আমি কোনো ডিসিশন নিতে পারব না যে কী করা উচিৎ।”

যদিও এর আগে কেউ কেউ আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে পুরো uterus ধরে কেটে ফেলে দিতে।

কিন্তু এদেশের ডাক্তাররা এমন পাগলা সিদ্ধান্ত নেন না। অন্তত আমার বেলায় যা যা ঘটেছে সেটা থেকেই বললাম।

তো আমি অপেক্ষা করে নির্দিষ্ট টাইমে ডাউনটাউনের একটা আল্ট্রাসাউন্ড সেন্টারে গিয়ে Sonohysterography আল্ট্রাসাউন্ডটা করিয়ে আনলাম।

এখানে বলে রাখি যেখানে যতবার আমি যে কাজেই যাচ্ছি সেখানেই কিন্তু বিষয়টা দেখা ও কাজটা করা হচ্ছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে। আমি কানাডার সাদা চামড়ার, না উগান্ডা থেকে আসা ইমিগ্রান্ট সেসবের ওপর কিন্তু গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

তো যেদিন আমাকে Sonohysterographyটা করল, শেষ হওয়ার তিন ঘণ্টা পরেই রেজাল্ট পাঠিয়ে দিয়েছে আমার গাইনোকোলজিস্ট ডা. মিলানির কাছে।

আমি বাড়ি এসেই ডা. মিলানির অফিসে ফোন দিলাম বলতে যে আমি কিন্তু Sonohysterography করে এসেছি। তোমরা রেজাল্ট পেলে আমাকে ডাকিও বা এখন একটা এপোয়েন্টমেন্ট দিয়ে রাখতে পার। ডা. মিলানির রসিপ্টশনিস্ট জানালো তারা অলরেডি রেজাল্ট পেয়ে গেছে। সুতরাং সে আমাকে দুইদিন পরে একটা সাক্ষাতের টাইম দিল।

আমি টাইম মতো ডা. মিলানির কাছে গেলাম। তিনি এমনই একজন মানুষ যে, বিষয়টা এতটা সুন্দর করে দরদ দিয়ে, আন্তরিকতার সঙ্গে বোঝাবেন যে, মনে হবে তিনি ডা. না, পরিবারের মানুষ। যদিও কানাডার অলমোস্ট সব ডাক্তারের আচরণ এমনই দেখেছি।

তারপর তিনি রেজাল্ট নিয়ে আলোচনা করলেন। জানালেন যে,Sonohysterography এর রেজাল্টে আমার uterus এর lining এ মানে দেওয়ালে আরকি একটা বিশাল বড়ো very large  polyp (পলিপ) হয়েছে। ঐ যে যেসব পলিপ মানুষের বিভিন্ন জায়গায় হতে পারে। যেমন, নাকে, গলায়। সেটা হয়েছে একেবারে uterus এর গভীরে। uterus এর পলিপটা সম্পর্কে একটু বলি যদিও আপনারা অনেকেই জানেন। Uterus এ হতে পারে polyps, হতে পারে fibroids. Fibroidটা মোর কমন, আর এটাতে ক্যান্সারে সম্ভাবনা জিরো বলা যায়।

আর polyps এর বেলায় কিছু কিছু পলিপস ক্যান্সার বা প্রিক্যান্সারের কারণ হতে পারে। তাছাড়া এই পলিপস যখন জন্মায় তখন হেব্বি ব্লিডিং হয়। অন্য দিকে প্রেগন্যান্সির জন্য তীব্র সমস্যা সৃষ্টি করে।

তিনি বললেন “ছোট পলিপগুলো মনিটরিং রাখা হয়। তবে এটা large। এটার কোনো অপশন নেই মনিটরিংয়ের। সার্জারি করে ফেলতে হবে। তারপর তিনি বললেন, আমার একটা রোগী জুলাইয়ের ২ তারিখে সার্জারি ডেট ক্যান্সিল করেছে, তুমি কি এই ডেটে করতে চাও সার্জারিটা? না হলে ডেট পেতে সেপ্টেম্বর লাগবে।”

আমি এক কথায় রাজি হলাম। আমি আগেও আপনাদের সব সময় বলেছি কানাডার দীর্ঘ আঠারো বছরে প্রতিটা পদে-পদে আল্লাহর রহমত পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। তারই আরেকটা উদাহরণ এটা। আমার যখন যে সার্জারিটা দরকার হলো তার আগে একজন তার সার্জারি বাদ দিয়ে পথ পরিস্কার করে রাখল। আলহামদুলিল্লাহ !

এরপর তো ধরেন, ডা. মিলানির কাছে অনেকগুলো পেপার ওয়ার্ক করতে হলো। তিনি আরো কিছু টেস্টের পেপার ও আল্ট্রাসাউন্ড দিলেন। যা সার্জারির আগে ও পরে করতে হবে। নানা রকম নির্দেশনা দিলেন যা-যা করতে হবে। আন্তরিকতা ও নিষ্ঠাবান দায়িত্বশীলতার অভাব নেই।

যে টেস্টটা সার্জারির আগে করতে বলেছিলেন সেটা করেছি কিনা তাও ফোন করিয়ে উনি শুনে নিয়েছিলেন। তাহলে বোঝেন ডাক্তারের কতোটা গরজ রোগীর চেয়ে।

এরপর হাসপাতালে ফোন করে টাইমটা জেনে নিলাম। টাইমটা সার্জারির আগের দিন হাসপাতালে ফোন করে জেনে নিতে হয়েছে। তারা বলল, আমার সার্জারি হবে সকাল 11.05 AM.

তো যাই হোক, গতকাল জুলাই ২ তারিখ ছিল আমার সার্জারির দিন। পহেলা জুলাইয়ের রাত এ দশটার পরে থেকে খাওয়া বন্ধ করতে হয়েছে। দুই জুলাইয়ের সকাল সাতটার দিকে দুইটা মেডিসিন ইউজ করতে হয়েছে। সার্জারির চার ঘণ্টা আগে করার কথা। তারপর শুরু হয়ে গেলে তীব্র cramping.

আমি একাই হাসপাতালে যাব এমন সিদ্ধান্ত। আমার husband গিয়ে রিসিভ করে আনবেন। এ ধরণের কেসে রোগীকে একা ছাড়ে না।

আমি সকাল দশটায় বাস ও ট্রেনে চড়ে হাসপাতালে চলে গেলাম। গাড়ি রাখার সমস্যা।

আমি J4 এর রেজিস্ট্রেশনে চলে গেলাম। আমার নাম-ধাম ও অন্যান্য ইনফরমেশন চেক করা হলো। গাউন দেওয়া হলো। আমি গাউন পরে অপেক্ষা করতে লাগলাম। এদিকে সকাল সাতটায় যে দুইটা মেডিসিন ইউজ করতে হয়েছে তার যন্ত্রণা তো আধা ঘণ্টা পর থেকেই শুরু হয়েছিল। তা ক্রমশ বেড়েই চলেছে।

আমাকে একজন সাদা চামড়ার মেল নার্স ডেকে নিয়ে গেল আইভি সেকশনে। সেখানে উঁচু-লম্বা আরেকজন সিনিয়র সাদা কানাডিয়ান মেল নার্স ছিলেন। আগের জন একটু ডিরেক্টর টাইপের।

আবারো আমার নাম-ধাম, যাবতীয় ইনফরমেশন, কে আসবে রিসিভ করতে, আমার পারসোনাল জিনিস-পত্র কী কী আছে সবকিছু  ঐ জুনিয়র নার্সটা কম্পিউটারে লিপিবদ্ধ করলেন। তা তো করলেনই একটু পরপর আমাকে জিজ্ঞেস করতেছে “R U ok Qazi?” এমন আতিথেয়তা মনে হচ্ছে আমি কোনো এক ভিআইপি আইছি।

তারপর তো ধরেন, হাতে পরম যত্ন সহকারে নিডল ফুটিয়ে আইভি সেট করে স্যালাইন টাঙানো হলো।

এর মধ্যে হয়েছে কী, আমার পেটের যন্ত্রণা একশো আশি ডিগ্রি এঙ্গেলে উঠে গেছে। আমি অনেকটা চিৎকার করতেছিলাম অসহনীয়তায়।

তারপর জুনিয়র নার্সটা আমার গাইনোকোলজিস্ট ডা. মিলানির কাছে দ্রুত ফোন করে দিলেন। বললেন, “Qazi is exoeriencig severe cramping. What medication would you recommend doctor?”

ডা. মিলানি একটা ঔষধের নাম বললেন। জুনিয়র নার্স আমাকে বললেন, “এক্টু অপেক্ষা করো মেডিসিন আনতেছি।” কিছুক্ষণ পরে ঔষধ ও পানি নিয়ে আমার মুখর কাছে ধরে রাখলেন। ওদিকে সিনিয়র সাদা নার্সের মতো ভদ্র ও বিনয়ী শুধুমাত্র কানাডিয়ানদের মধ্যে দেখা যায়।

তারপর আমার বমির ভাব তীব্র হলো, এটা জানাতেই জুনিয়র নার্স ছুটে গিয়ে ব্রেন্ড নিউ কিডনী বিন ডিজাইনের একটা ডিশ এনে আমার মুখে ধরে রাখলেন। আমি হাত দিয়ে ধরে রাখলে পরে এক মিনিটের মধ্য তিনটা ডিশ পাল্টিয়ে দিলেন জুনিয়র নার্স। এদিকে পাশের রুম থেকে ছুটে এলেন আরেকজন সাদা চামড়ার উঁচু-লম্বা ফিমেল নার্স। তিনি অনেকগুলো টিস্যু  এনে আমার হাতে দিলেন। ওদিকে জুনিয়র নার্স ছুটে বাইরে গিয়ে ব্রান্ড নিউ আরেকটা টিস্যু  বক্স এনে আমার হাতে দিলেন।

তারপর ব্যথা একটু কমলে জুনিয়র নার্স বললেন, ” I am so glad that you are feeling good.” তারপর আবারো রিসিপশনের চেয়ারে গিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম। হাতে আইভি, স্যালাইন সবই আছে। গাউন পরা।

তারপর আরেকজন নার্স এসে আমিসহ কয়েকজন রোগীকে সঙ্গে করে J6 ফ্লোরে নিয়ে গেলেন আরকটা ওয়েটিং রুমে। এ রুমটা তো মনে হলো কোনো ভিআইপিদের লাউঞ্জ। সোফা-টোফা সবই পাতা আছে।

আমি বসা মাত্রই একজন ফিলিপিনো ফিমেল নার্স এসে আবারো আমার নাম-ধাম, ইনফরমেশন, আমাকে কী করা হবে, করার পর কী করতে হবে ইত্যাদি অবগত করলেন। যে সার্জারিটা করা হবে তাকে বলে hysteroscopic polypectomy ও সঙ্গে বায়োপসিও করা হবে। সবকিছু  জানিয়ে চলেন গেলেন।

কিছুক্ষণ পর ডা.মিলানি এলেন সার্জারির ড্রেস-আপে, মাথায় প্রিন্টের ক্যাপ। আমার কোল ঘেঁষে বসলেন। আমার ডান কাঁধে ওনার বাম হাত দিয়ে বুলাতে লাগলেন। তারপর বললেন,” I am so sorry you are experiencing so much cramping. But it will go away.”

তারপর তিনি নিজেই আরেকবার বললেন, কী ধরণের সার্জারি হবে, কীভাবে হবে। আমার কোনো প্রশ্ন আছে কিনা জানতে চাইলেন। আমি জানতে চাইলাম, কতোটা সময় লাগতে পারে? তিনি জানালেন, “আধা ঘণ্টা মতো লাগবে।’

তারপর উনি চলে গেলে আর দুইজন ফিমেল নার্স আসলেন একটা হুইল চেয়ার নিয়ে। আমাকে বসতে বললেন তার ওপরে।

আমি বসলাম। ওনারা দুইজন মিলে স্যালাইনের তার ঠিকঠাক করে হুইল চেয়ার ঠেলে আমাকে সামনের দিকে নিয়ে গেলেন।

একটা রুমের দরজার সামনে ড. মিলানি দাঁড়িয়ে আছেন আমাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে ভেতরে নিতে।

অটোমেটিক বাটনে চাপ দিয়ে দরজা খোলা হলো।

দেখলাম তিন-তিনজন ফিমেল নার্স আগেই রেডি হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। আমাকে দুইজন হাই বললেন। ডা. মিলানি আমাকে বেডে শুয়ে পড়তে বললেন।

একজন উঁচু-লম্বা ইয়াং দেখতে সুন্দর ও স্মার্ট কৃষ্ণাঙ্গ নার্স আমার মুখের ওপরে মুখ ঝুঁকে পড়ে বিনয়ী গলায় হাসি মুখে বললেন, “I am…( name) I didn’t have chance to introduced myself. I will be with dr. Melanie.”

তারপর হাসপাতালের আরেকজন বড়ো মাপের সিনিয়র ডাক্তার আসলেন। মুখে মাস্ক দেওয়ায় মুখটা ঢাকা থাকলেও উনি যে মুখে দারুণ করে হাসি দিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলছেন তা আমি স্পস্ট বুঝতে পারছি।

তিনি ওনার পরিচয় দিলেন। আমার মুখ বড়ো করে হা করতে বললেন। চেক করলেন। তারপর উনি মেশিনের মধ্যে ঘুমের ঔষধ দিবেন। একটু ঘুম আসবে। তারপর আরো ঔষধ দেবেন তারপর একেবারেই ঘুমিয়ে পড়ব। এটা অ্যানেস্থেশিয়া আরকি। এটাই এই ডাক্তারের কাজ বললেন।

তারপর আরেকজন এসে আমার মুখে অক্সিজেন লাগিয়ে দিলেন। রুমটার চারিদিকে বড়ো বড়ো লাইট ও টিভি স্ক্রিন টাঙানো। ঐ স্ক্রিনের দেখা যাবে uterus এর প্রতিটা অংশ। এভাবে দেখে পলিপ সার্জারি করা হবে। সময়টা ছিল দুপুর সাড়ে বারোটা সে সময়।

তারপর বিকেল তিনটার সময় আমি হঠাৎ চোখ মেললাম। আমি রিকোভারি রুমে বেডের ওপরে। আমার পাশে দুইজন নার্স। আরেকজন সিনিয়র নার্স। তাঁরা আমার বললেন ” You are in recovery room. How are you feeling at present? আমি বললাম, আমার Cramping লেভেল 10 এ। তারপর তারা ছুটে গিয়ে চারটা বড়ি আনলেন। একজন আমার বোতল খুলে আমার মুখে পানি ধরলেন।

আরেকজন বললেন, জুস খাবা? আমি বললাম, হ্যাঁ। তারপর তিনি নিজের হাতে জুস ধরে রাখলেন আমার মুখে ও চারটা বড়ি দিয়ে দিলেন মুখে। আমি এক গ্রাসেই গিলে ফেললাম।

আরেকজন জিজ্ঞেস করলেন, শীত লাগছে কিনা। আমি বললাম হ্যাঁ। তিনি দৌড় দিয়ে গিয়ে গরম blanket এনে আমার ওপের দিয়ে দিলেন। উঞ্চতায় ভালো লাগল বেশ।

তারপর সাড়ে তিনটায় তারা আমার husband কে ফোন করলেন সিনিয়র নার্স নিতে আসতে। আমার মেয়েরা ও husband পৌঁছালেন সাড়ে চারটার দিকে।

তারা নিচ থেকে হুইল চেয়ার এনেছে আমাকে নিতে। বলা হয়েছিল আনতে। তার আগে আরেকজন অন্য নার্স এসে সবকিছু  ডিরেকশন দিয়ে দিলেন নিয়মকানুন মেনে চলার।

ডা. মিলানির কাছে ছয় সপ্তাহ পর সাক্ষাতের ডেট আছে। সার্জারি পরবর্তী কী অবস্থা জানতে। তার আগে একটা আল্ট্রাসাউন্ড দিয়েছেন সেটা ডান করতে হবে যাওয়ার আগে। তখন তিনি বলবেন, তিনি কতো বড়ো পলিপ পেয়েছিলেন। এখন কী অবস্থা, ক্যান্সারে কোনো চান্স আছে কিনা ইত্যাদি। বায়োপসি করা হয়েছে। সে রেজাল্টেই জানা যাবে।

আমি বাড়ি চলে আসলাম। পরের দিন গোসল করার নির্দেশ তাই হাত-মুখ ধুয়ে লাল শাক দিয়ে ভাত খেয়ে নিলাম। বাগানের লাল শাক। এর চেয়ে তৃপ্তির খাবার আর নেই তখন মনে হচ্ছিল।

যাই হোক, কানাডায় আমার যতবারই শারীরিক সমস্যা হয়েছে আল্লাহর রহমতে আমি এরকমই বা এর চেয়েও কেয়ার পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ! এটা আমার স্বীকার করতেই হবে।

তাছাড়া দেখেন, কতোবার যে ইমারজেন্সিতে গেলাম। সেখানে কতোবার যে আল্ট্রাসাউন্ড, টেস্ট ইত্যাদি করল, সেখানে যে কতো ডাক্তার দেখলেন আন্তরিকতার সঙ্গে আমি কি একটা পেনি দিয়েছি? না।

এই যে ধরেন, নিজেই ফোন করে এক সপ্তাহের মধ্যে গাইনোকোলজিস্টের সঙ্গে দেখা করতেছি, আমি কি একটা পেনি পে করতেছি? না। এই যে ধরেন, কতো দামি আল্ট্রাসাউন্ড দেওয়া হলো, টেস্ট অলমোস্ট ইভরিডে করা লাগতেছে। আমার কি পে করতে হচ্ছে? না।

এই যে ধরেন, একটা সার্জারির জন্য কতোগুলো ডাক্তার-নার্স নিবেদিত হয়ে কাজ করলেন, রেসপেক্টের সঙ্গে আমি কি তাঁদের পে করেছি? না।

কতোগুলো মেডিসিন দিলেন। হাসপাতালে যতদিন থাকা হয়, ততদিন যদি মেডিসিন লাগে হাসপাতাল থেকে ফ্রি দেয়। আমার দিয়েছিল 2012 সালে দুই মাস হাসপাতালে ছিলাম একেধারে।  ছেলে হওয়ার সময়।

তারপরেও চিল্লাচিল্লি করে বলেন সব, কানাডায় চিকিৎসা হয় না, খারাপ, হেনতেন।

হতে পারে। কিন্তু আমার সঙ্গে একই সঙ্গে শতশত মানুষের চিকিৎসা হলো সবাইকেই একইভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলো। কে বড়ো, কে ছুড়ো, কে কালো, কে সাদা এসব দেখাদেখি নেই।

তবে হতে পারে কারোর কারোর অভিজ্ঞতা খারাপ। কভিডের পর থেকে ডাক্তার-নার্স কমে গিয়েছিল। এখন কানাডায় ডাক্তার-নার্স বাড়ানোর ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রচুর নেওয়া হচ্ছে। সুতরাং যাদের সমস্যা হয়েছে বা হচ্ছে আশা করা যায় কম সমস্যা হবে শিগগিরি।

তবে আমার ও আমার পরিবারে সদস্যদের কখনোই কোনো সমস্যা হয় নি। একটু দেরি হলে আকাশ ভেঙ্গে আমাদের মাথায় পড়ে না। আমরা কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। বিশেষ করে আমি। আমার যে কতোবার সমস্যা হয়। চিন্তা করেন, এর বিল যদি নগদ টাকায় পে করতে হতো কতো কানাডিয়ান ডলার পে করতে হতো? ধারণা নেই।

এবার তো কিছু সুশীল এসে মোটা ডায়ালগ দিয়ে বলবেন, আমরা তো 40% ট্যাক্স দিই। ডাক্তারের ফি ফ্রি বলতেছেন কেন? বুঝলাম দেন কিন্তু তার বিনিময়ে কি শুধু ডাক্তারের কাছে যান? দুনিয়ার সুবিধা ভোগ করেন সে সব হিসেব যাবে কোথায়?

আর আমি যদি চাকরি না করতাম, ঘরে বসে থাকতাম তাহলে কি আমি চিকিৎসা পেতাম না?

এই দেখেন সরকারি পলিসিতে কী বলতেছে;

“As a permanent resident in Ontario, you are eligible for OHIP coverage regardless of whether you are employed or not. OHIP eligibility is primarily based on residency and not employment status. To qualify, you need to make Ontario your primary residence and be physically present in the province for a certain period.”

আল্লাহ আপনাদের সুস্থ রাখুন।

 

টরন্টো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles