
পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের প্রতি নাগরিকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। তারই প্রমাণ মিলেছে টরন্টো সিটির কম খরচে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ কর্মসূচিতে। ২০২৬ সালের বাজেটে ঘোষিত ‘রেইন ব্যারেল’ কর্মসূচির জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল চালু হওয়ার মাত্র নয় ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়ায় এবার অতিরিক্ত ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার যোগ করার প্রস্তাব দিয়েছেন টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউ।
১৬ জুন সিটি অব টরন্টোর নির্বাহী কমিটির কাছে পাঠানো এক প্রস্তাবে মেয়র চাউ জানান, কর্মসূচিটি নিয়ে বাসিন্দাদের আগ্রহ প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি। প্রাথমিক বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত রেইন ব্যারেল পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে অসংখ্য অনুসন্ধান ও আবেদন এসেছে। এর ফলে স্পষ্ট হয়েছে যে, নগরবাসীর মধ্যে পানি সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে সচেতনতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মেয়র অলিভিয়া চাউ বলেন, রেইন ব্যারেল শুধু বৃষ্টির পানির অপচয় কমায় না, বরং শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর চাপও হ্রাস করে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে যখন পানির ব্যবহার বেড়ে যায়, তখন এই ধরনের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। একইসঙ্গে এটি সাধারণ পরিবারের নাগালের মধ্যেই রয়েছে, যা কর্মসূচিটির জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়েছে।
সিটি অব টরন্টোর রেইন ব্যারেল কর্মসূচির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, শহরের আওতাধীন সব আবাসিক সম্পত্তির মালিক এই সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি রেইন ব্যারেলের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৮.৯৫ ডলার। শুরুতে একটি বাড়ি সর্বোচ্চ দুটি ডিভাইস পাওয়ার সুযোগ পেলেও নতুন প্রস্তাব অনুমোদিত হলে প্রতি বাড়িতে একটি রেইন ব্যারেলের সীমা নির্ধারণ করা হতে পারে, যাতে অধিকসংখ্যক পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসতে পারে।
অন্যদিকে, যেসব বাসিন্দা বড় আকারের পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন করতে চান, তাদের জন্য বেসরকারি খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে ১০০ ডলারেরও বেশি মূল্যের বৃহদাকৃতির রেইন ব্যারেল কেনার সুযোগ রয়েছে।
তবে অতিরিক্ত তহবিল অনুমোদিত হলে ঠিক কতসংখ্যক নতুন রেইন ব্যারেল কেনা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিষয়টি টরন্টো সিটি কাউন্সিলের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।
রেইন ব্যারেল সবচেয়ে কার্যকরভাবে কাজ করে একক পরিবারভিত্তিক বা কম উচ্চতার আবাসিক ভবনগুলোতে। এসব ডিভাইস বাড়ির ছাদে জমে থাকা বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে সাময়িকভাবে সংরক্ষণ করে। পরে সেই পানি বাগান পরিচর্যা, লন সেচ এবং অন্যান্য বহিরাঙ্গন কাজে ব্যবহার করা যায়।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নগর এলাকায় হঠাৎ ভারী বৃষ্টিপাত এবং জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে রেইন ব্যারেল ব্যবহারের মাধ্যমে বৃষ্টির পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, যা স্থানীয় বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমাতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি, সংরক্ষিত পানি ব্যবহারের ফলে গ্রীষ্মকালীন মাসগুলোতে পরিবারের পানির বিলও কমে আসবে।
টরন্টোর এই উদ্যোগ শুধু পানি সংরক্ষণ নয়, বরং নগরবাসীর মধ্যে টেকসই জীবনযাপনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কর্মসূচিটির প্রতি নাগরিকদের ব্যাপক সাড়া প্রমাণ করে যে, পরিবেশবান্ধব এবং সাশ্রয়ী সমাধানের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।
সিটি কাউন্সিল অতিরিক্ত তহবিল অনুমোদন করলে আগামী মাসগুলোতে আরও হাজারো পরিবার এই কর্মসূচির সুবিধা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে টরন্টো শহরের পানি ব্যবস্থাপনা আরও টেকসই হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও নতুন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হতে পারে।
সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

