কানাডার সবচেয়ে দামি ব্র্যান্ড টিডি ব্যাংক

কানাডার সবচেয়ে দামি ব্র্যান্ড টিডি ব্যাংক - the Bengali Times
র‌্যাংকিং অনুযায়ী অ্যাপলের ব্র্যান্ড মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার উদ্ভাবনী প্রযুক্তি শক্তিশালী গ্রাহক আস্থা প্রিমিয়াম পণ্যের বাজার এবং বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত ইকোসিস্টেমের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে

বিশ্বের কর্পোরেট ব্র্যান্ডগুলোর শক্তি, বাজার প্রভাব এবং আর্থিক মূল্যায়নের দিক থেকে আবারও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। ব্রিটিশ ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস প্ল্যাটফর্ম ট্রেডিংপিডিয়ার প্রকাশিত ‘গ্লোবাল পাওয়ার সার্ভে ২০২৬’-এ বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ব্র্যান্ড হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে অ্যাপল। একইসঙ্গে কানাডার সবচেয়ে মূল্যবান ব্র্যান্ডের স্বীকৃতি পেয়েছে টিডি ব্যাংক। ব্র্যান্ড মূল্যায়ন সংস্থা ব্র্যান্ড ফাইন্যান্সের তথ্য সংকলনের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা এই র‌্যাংকিংয়ে দেখা গেছে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এখনও মার্কিন ব্র্যান্ডগুলোর আধিপত্য অটুট রয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ ১০টি মূল্যবান ব্র্যান্ডের মধ্যে সাতটিই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান।

র‌্যাংকিং অনুযায়ী, অ্যাপলের ব্র্যান্ড মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার। উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, শক্তিশালী গ্রাহক আস্থা, প্রিমিয়াম পণ্যের বাজার এবং বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত ইকোসিস্টেমের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, শুধু স্মার্টফোন নির্মাতা হিসেবেই নয়, বরং প্রযুক্তি, সফটওয়্যার, ডিজিটাল সেবা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পণ্য উন্নয়নের ক্ষেত্রেও অ্যাপলের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। ফলে ব্র্যান্ডটির আর্থিক মূল্যও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

- Advertisement -

অ্যাপলের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মাইক্রোসফট, যার ব্র্যান্ড মূল্য ৫৬ হাজার ৫২৫ কোটি ডলার। ক্লাউড কম্পিউটিং, এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার এবং এআই খাতে আগ্রাসী বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানটিকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে গুগল। সার্চ ইঞ্জিন, বিজ্ঞাপন ব্যবসা এবং এআই প্রযুক্তির কল্যাণে কোম্পানিটির ব্র্যান্ড মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৩০৮ কোটি ডলার। চতুর্থ স্থানে থাকা অ্যামাজনের ব্র্যান্ড মূল্য ৩৬ হাজার ৯৮৮ কোটি ডলার। ই-কমার্স, ক্লাউড সেবা এবং ডিজিটাল বিনোদন খাতে বিস্তৃত উপস্থিতি প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ব্র্যান্ডে পরিণত করেছে।

ট্রেডিংপিডিয়ার ডেটা সায়েন্টিস্ট মাইকেল ফিশার এক বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান তথ্য-উপাত্ত স্পষ্টভাবে দেখায় যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মার্কিন ব্র্যান্ডগুলোর প্রভাব এখনও অত্যন্ত শক্তিশালী। প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং ভোক্তা আস্থার কারণে আমেরিকান কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে নেতৃত্ব ধরে রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল অর্থনীতির দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে আগামী কয়েক বছরেও মার্কিন প্রযুক্তি ব্র্যান্ডগুলোর প্রভাব বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

কানাডার সবচেয়ে মূল্যবান ব্র্যান্ড হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে টরন্টো-ডমিনিয়ন বা টিডি ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ড মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ২২৫ কোটি মার্কিন ডলার, যা কানাডিয়ান মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি ডলারের সমান। উত্তর আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা এবং দীর্ঘমেয়াদি গ্রাহক আস্থার কারণে টিডি ব্যাংক এই অবস্থান অর্জন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সবচেয়ে মূল্যবান ব্র্যান্ডগুলোর তালিকায়ও রয়েছে বেশ কিছু পরিচিত নাম। চীনের সবচেয়ে মূল্যবান ব্র্যান্ড হিসেবে স্থান পেয়েছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক। প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ড মূল্য ১৫ হাজার ৩৫৪ কোটি ডলার। মেক্সিকোর শীর্ষ ব্র্যান্ড হিসেবে রয়েছে বিয়ার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান করোনা, যার ব্র্যান্ড মূল্য ১ হাজার ৩৩৬ কোটি ডলার। ফ্রান্সের বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ড শানেলের ব্র্যান্ড মূল্য ৩ হাজার ৪৩৪ কোটি ডলার, যা দেশটির সবচেয়ে মূল্যবান ব্র্যান্ড হিসেবে তাকে শীর্ষে রেখেছে। অন্যদিকে সুইডেনের বহুজাতিক আসবাবপত্র নির্মাতা আইকিয়ার ব্র্যান্ড মূল্য ১ হাজার ৩৪২ কোটি ডলার। বৈশ্বিক ফার্নিচার বাজারে দীর্ঘদিনের আধিপত্যের কারণে ব্র্যান্ডটির অবস্থান এখনও শক্তিশালী।

যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে মূল্যবান ব্র্যান্ড হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে জ্বালানি খাতের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান শেল। কোম্পানিটির ব্র্যান্ড মূল্য ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে দীর্ঘদিনের উপস্থিতি, অবকাঠামোগত সক্ষমতা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে শেল এখনও ব্রিটেনের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অন্যদিকে কানাডায় সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ভ্যানকুভারভিত্তিক অ্যাথলেটিক পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লুলুলেমন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্র্যান্ডটির ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। ইনস্টাগ্রামে লুলুলেমনের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৫৮ লাখ, আর ফেসবুকে রয়েছে প্রায় ৩৬ লাখ অনুসারী। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসচেতন তরুণ প্রজন্ম এবং ফিটনেস অনুরাগীদের মধ্যে ব্র্যান্ডটির গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

একটি ব্র্যান্ডের মূল্য শুধু আর্থিক সক্ষমতার প্রতিফলন নয়; এটি গ্রাহকের আস্থা, বাজারে প্রতিষ্ঠানের অবস্থান, উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাকেও নির্দেশ করে। ২০২৬ সালের এই র‌্যাংকিং থেকে স্পষ্ট যে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও বৈশ্বিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। একইসঙ্গে ব্যাংকিং, জ্বালানি, ফ্যাশন এবং ভোক্তাপণ্য খাতের শক্তিশালী ব্র্যান্ডগুলোও নিজ নিজ বাজারে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। বিশ্ব অর্থনীতি দ্রুত পরিবর্তিত হলেও ব্র্যান্ড শক্তির দৌড়ে আপাতত প্রযুক্তি খাতের নেতৃত্বে থাকা অ্যাপল, মাইক্রোসফট, গুগল ও অ্যামাজনের মতো কোম্পানিগুলোর অবস্থান এখনও অপ্রতিদ্বন্দ্বী বলেই মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles