অটো ইন্স্যুরেন্সে আসন্ন পরিবর্তন নিয়ে এখনো দ্বিধায় চালকরা

অটো ইন্স্যুরেন্সে আসন্ন পরিবর্তন নিয়ে এখনো দ্বিধায় চালকরা - the Bengali Times
অন্টারিও প্রদেশে অটো ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন কার্যকর হতে যাচ্ছে

আগামী ১ জুলাই থেকে অন্টারিও প্রদেশে অটো ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন কার্যকর হতে যাচ্ছে। প্রাদেশিক সরকারের নতুন নীতির আওতায় দুর্ঘটনাজনিত বিভিন্ন ক্ষতিপূরণ ও সুবিধার একটি বড় অংশ আর বাধ্যতামূলক থাকবে না। ফলে চালকরা চাইলে এসব সুবিধা বাদ দিতে পারবেন এবং এর বিনিময়ে কিছুটা কম প্রিমিয়াম পরিশোধ করবেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, স্বল্পমেয়াদে অর্থ সাশ্রয় হলেও দুর্ঘটনার সময় অনেকেই প্রয়োজনীয় আর্থিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

অন্টারিওর অনেক চালকের মতো সামিউল হাসানও এই পরিবর্তন সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না। তিনি বলেন, “আমি এখনো এ বিষয়ে কিছু শুনিনি।” অথচ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কার্যকর হতে যাওয়া এই পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলবে লাখো গাড়িচালকের ওপর। বর্তমানে অন্টারিওতে গাড়ির বীমা পলিসির আওতায় দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের জন্য একাধিক সুবিধা বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত থাকে। দুর্ঘটনাটি চালকের নিজের ভুলে ঘটুক বা অন্য কারও কারণে ঘটুক, নির্দিষ্ট কিছু সুবিধা পাওয়ার অধিকার থাকে পলিসিধারীদের। এই সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে : দুর্ঘটনার কারণে আয় বন্ধ হয়ে গেলে আয়-প্রতিস্থাপন সুবিধা, মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার খরচ, কেয়ারগিভার সুবিধা, আয় না করা ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সুবিধা, চিকিৎসা ব্যয়, পুনর্বাসন ব্যয় এবং অ্যাটেন্ডেন্ট বা পরিচর্যাকারীর খরচ। তবে ১ জুলাই থেকে এসব সুবিধার অধিকাংশই ঐচ্ছিক হয়ে যাবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী শুধুমাত্র মেডিকেল, রিহ্যাবিলিটেশন এবং অ্যাটেন্ডেন্ট কেয়ার সংক্রান্ত সুবিধাগুলো বাধ্যতামূলক থাকবে। বাকি সব সুবিধা চাইলে আলাদাভাবে কিনতে হবে।

- Advertisement -

পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে নতুন অটো ইন্স্যুরেন্স পলিসি গ্রহণকারীদের ওপর। নতুন পলিসিগুলোতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেবল ন্যূনতম বাধ্যতামূলক সুবিধাগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অতিরিক্ত সুবিধা পেতে হলে গ্রাহকদের আলাদাভাবে সেগুলো নির্বাচন করতে হবে। অন্যদিকে, যাদের বর্তমানে পলিসি রয়েছে এবং যারা নবায়ন করবেন, তাদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুবিধাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহাল থাকবে। অর্থাৎ তারা যদি নিজে থেকে কোনো সুবিধা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত না নেন, তাহলে আগের মতোই সুরক্ষা পাবেন।

ইন্স্যুরেন্স খাতের প্রতিনিধিরা বলছেন, এই পরিবর্তনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো চালকদের হাতে আরও বেশি পছন্দের সুযোগ তুলে দেওয়া। একজন ইন্সুরেন্স বিশেষজ্ঞের মতে, “সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ভোক্তার হাতে থাকবে। কেউ যদি নির্দিষ্ট কিছু সুবিধা না নিতে চান, তাহলে তিনি সেই অংশের প্রিমিয়াম সাশ্রয় করতে পারবেন।” তবে এই সাশ্রয়ের পরিমাণ সবার জন্য এক হবে না। চালকের বয়স, ড্রাইভিং রেকর্ড, অবস্থান এবং ব্যবহৃত গাড়ির ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তা নির্ভর করবে। ব্ল্যাকউডের হিসাব অনুযায়ী, একজন চালক মাসে আনুমানিক ৭ থেকে ২০ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারেন।

শুধু সুবিধার ধরনই নয়, দুর্ঘটনার পর কে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য হবেন, সেই নিয়মেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ১ জুলাই থেকে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে চালক সুবিধা পাওয়ার অধিকার থাকবে কেবল পলিসিধারীর, তার স্বামী বা স্ত্রীর, নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের এবং পলিসিতে তালিকাভুক্ত অনুমোদিত চালকদের। এর বাইরে কোনো যাত্রী যদি গাড়িতে উপস্থিত থাকেন কিন্তু এসব শর্তের মধ্যে না পড়েন, তাহলে তিনি আর সব ধরনের সুবিধা পাবেন না। তারা কেবল বাধ্যতামূলক সুবিধাগুলোর আওতায় চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং অ্যাটেন্ডেন্ট কেয়ার বাবদ সহায়তা পাবেন।

নতুন নীতিকে কেন্দ্র করে ভোক্তা অধিকারকর্মী এবং কিছু বীমা বিশেষজ্ঞ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, অনেক চালক হয়তো মাসে কয়েক ডলার সাশ্রয়ের আশায় অতিরিক্ত সুবিধাগুলো বাদ দেবেন। কিন্তু গুরুতর দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা বা পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় এসব সুবিধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে চালকদের উচিত নিজেদের পলিসি ভালোভাবে পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজন হলে বীমা প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। কারণ প্রিমিয়াম কমানোর সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

১ জুলাইয়ের পর নতুন অটো ইন্স্যুরেন্স পলিসি নেওয়ার সময় চালকদের খেয়াল রাখতে হবে কোন সুবিধাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং কোনগুলো অতিরিক্তভাবে কিনতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে সামান্য অতিরিক্ত প্রিমিয়াম ভবিষ্যতের বড় আর্থিক বিপর্যয় থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। অন্টারিও সরকারের এই পরিবর্তন চালকদের আরও বেশি স্বাধীনতা ও পছন্দের সুযোগ দিলেও, একই সঙ্গে নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্বও অনেকাংশে এখন ভোক্তার কাঁধেই তুলে দিচ্ছে।

সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles