টরন্টোতে নতুন বাড়ির বিক্রি বেড়েছে

টরন্টোতে নতুন বাড়ির বিক্রি বেড়েছে - the Bengali Times
দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করেছে গ্রেটার টরন্টো এরিয়া জিটিএ এর নতুন আবাসন বাজার

দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করেছে গ্রেটার টরন্টো এরিয়া (জিটিএ)-এর নতুন আবাসন বাজার। বিশেষ করে সম্প্রতি ঘোষিত সম্প্রসারিত এইচএসটি (হারমোনাইজড সেলস ট্যাক্স) রিবেট কর্মসূচির ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যেই বাজারে পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করছেন আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা।

বিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিল্ড) বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিলে জিটিএতে মোট ৯০১টি নতুন সিঙ্গেল-ফ্যামিলি বাড়ি বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ডিটাচড, সেমি-ডিটাচড, লিঙ্কড ও টাউনহাউস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিক্রির এই সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি এবং গত এক দশকের গড় বিক্রির চেয়েও প্রায় ২১ শতাংশ বেশি।

- Advertisement -

আবাসন বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাদেশিক ও ফেডারেল সরকারের যৌথ উদ্যোগে চালু হওয়া নতুন কর-ছাড় কর্মসূচি ক্রেতাদের মধ্যে নতুন করে আস্থা তৈরি করেছে। ফলে অনেক পরিবার ও বিনিয়োগকারী, যারা দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলেন, তারা এখন নতুন বাড়ি কেনার দিকে ঝুঁকছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিলে জিটিএ অঞ্চলে সর্বমোট ১,১০০টি নতুন বাড়ি বিক্রি হয়েছে। তুলনামূলকভাবে ২০২৫ সালের এপ্রিল ছিল আবাসন বাজারের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক একটি সময়, যখন পুরো অঞ্চলে মাত্র ৩১০টি নতুন বাড়ি বিক্রি হয়েছিল। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বিক্রির হার কয়েকগুণ বেড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সাম্প্রতিক এই উন্নতি সত্ত্বেও বাজার এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। কারণ, চলতি বছরের এপ্রিল মাসের বিক্রির পরিমাণ এখনও গত ১০ বছরের গড়ের তুলনায় ৫৫ শতাংশ কম। অর্থাৎ বাজারে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত মিললেও পূর্ণাঙ্গ স্থিতিশীলতা অর্জনে আরও সময় লাগতে পারে।

যেখানে সিঙ্গেল-ফ্যামিলি বাড়ির বিক্রিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, সেখানে কন্ডোমিনিয়াম বা কন্ডো বাজারে মন্দা অব্যাহত রয়েছে। বিল্ডের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে জিটিএ অঞ্চলে মাত্র ১৯৯টি নতুন কন্ডো ইউনিট বিক্রি হয়েছে। এই সংখ্যা গত ১০ বছরের গড় বিক্রির তুলনায় প্রায় ৮৮ শতাংশ কম। উচ্চ সুদের হার, বিনিয়োগকারীদের অনীহা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে কন্ডো খাত এখনও উল্লেখযোগ্য চাপের মধ্যে রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

নতুন এইচএসটি রিবেট কর্মসূচির আওতায় ১৫ লাখ ডলার পর্যন্ত মূল্যের নতুন বাড়ি কিনলে ক্রেতারা সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত কর ছাড় পাচ্ছেন। এর আগে এই সুবিধা কেবলমাত্র প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনছেন এমন ক্রেতাদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। জিএসটি/এইচএসটি ফার্স্ট-টাইম হোম বায়ার্স রিবেট কর্মসূচির মাধ্যমে তারা এই কর-ছাড় পেতেন। তবে নতুন ঘোষণার ফলে এখন অনেক বেশি সংখ্যক ক্রেতা এই সুবিধার আওতায় আসছেন। ফলে আবাসন বাজারে নতুন করে চাহিদা তৈরি হচ্ছে এবং নির্মাণ খাতও কিছুটা আশাবাদী হয়ে উঠেছে।

সরকারি ঘোষণার অনুযায়ী, সম্প্রসারিত এইচএসটি রিবেট কর্মসূচি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছে এবং এটি ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত চালু থাকবে। তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য কিছু শর্তও রয়েছে। ক্রয় করা বাড়িটি অবশ্যই ক্রেতার প্রধান আবাসন হিসেবে ব্যবহার করতে হবে অথবা সেটি ভাড়াভিত্তিক আবাসন ভবন হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী হতে হবে।

দীর্ঘদিন ধরে ক্রমবর্ধমান সুদের হার, নির্মাণ ব্যয়ের বৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে জিটিএর আবাসন বাজার বড় ধরনের চাপের মধ্যে ছিল। নতুন কর-ছাড় কর্মসূচি সেই স্থবির বাজারে কিছুটা গতি ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য বাড়ি কেনার মোট খরচ কমে যাওয়ায় বাজারে ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও কন্ডো খাত এখনও দুর্বল অবস্থানে রয়েছে, তবুও সিঙ্গেল-ফ্যামিলি বাড়ির বিক্রিতে সাম্প্রতিক উল্লম্ফন ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সরকার যদি একই ধরনের সহায়ক নীতি অব্যাহত রাখে এবং সুদের হার স্থিতিশীল থাকে, তাহলে আগামী কয়েক প্রান্তিকে জিটিএর আবাসন বাজারে আরও শক্তিশালী পুনরুদ্ধার দেখা যেতে পারে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles