ফুটবলের অন্ধকার অধ্যায় : সুলিভানের বিরুদ্ধে ৮ নারীর শারীরিক সম্পর্কের ভয়াবহ অভিযোগ

ফুটবলের অন্ধকার অধ্যায় : সুলিভানের বিরুদ্ধে ৮ নারীর শারীরিক সম্পর্কের ভয়াবহ অভিযোগ - the Bengali Times
ধনকুবের ব্যবসায়ী এবং ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের সহ মালিক ডেভিড সুলিভানের বিরুদ্ধে একাধিক নারী যৌন হয়রানি ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন

ধনকুবের ব্যবসায়ী এবং ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের সহ-মালিক ডেভিড সুলিভানের বিরুদ্ধে একাধিক নারী যৌন হয়রানি, ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলেছেন, তিনি নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের যৌন সম্পর্কের জন্য প্রলুব্ধ ও চাপ প্রয়োগ করেছেন। কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগকারীরা ঘটনার সময় ছিলেন কিশোরী।

বিবিসি প্যানোরামা এবং দ্য টাইমসের যৌথ অনুসন্ধানে সাত নারীর এসব অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগগুলোর সময়কাল ১৯৮০-এর দশক থেকে শুরু হয়ে কয়েক দশকজুড়ে বিস্তৃত। অভিযোগকারী সবাই তখন বয়সে কিশোরী বা বিশের কোটার শুরুতে ছিলেন। তারা সুলিভানের মালিকানাধীন ডেইলি স্পোর্ট ও সানডে স্পোর্ট পত্রিকায় কাজ পাওয়ার আশায় মডেলিং করতেন। তাদের অভিযোগ, সুলিভান যৌন শোষণমূলক ও শিকারি ধরনের আচরণ করতেন। ব্যবসায়িক বৈঠকের সময় তিনি যৌন সম্পর্কের জন্য চাপ দিতেন এবং বলতেন, তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বা ‘ওরাল সেক্স’ করলে তিনি তাদের ক্যারিয়ার এগিয়ে দিতে পারবেন।

- Advertisement -

অভিযোগকারীদের একজনকে ছদ্মনাম ‘ফ্লোরেন্স’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, যৌন সম্পর্ক করতে বাধ্য করা হয়েছিল তাকে। বর্তমানে ৭৭ বছর বয়সী সুলিভান এসব অভিযোগ দ্ব্যর্থহীনভাবে অস্বীকার করেছেন। অভিযোগগুলোর সময়কাল সেই সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত, যখন তিনি পর্নোগ্রাফি ব্যবসা, সংবাদপত্র এবং ফুটবল থেকে বিপুল সম্পদ অর্জন করেন। শনিবার বিবিসি প্যানোরামা ও দ্য টাইমস এই প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করার কয়েক ঘণ্টা পর তিনি ওয়েস্ট হ্যামের যৌথ চেয়ারম্যানের পদ ত্যাগ করেন। তিনি বলেন, তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তথ্যগতভাবে ভুল এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা, বহু দশক আগের অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতেই তিনি মনোযোগ দিতে চান। তিনি অনুসন্ধানটিকে মৌলিকভাবে অন্যায্য বলে অভিহিত করেন।

বিবিসি লিখেছে, আমরা আরও জানতে পেরেছি, সুলিভান আলাদাভাবে স্বীকার করেছেন যে ১৯৯০-এর দশকে তিনি এমন এক মেয়ের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে যৌন সম্পর্ক করেছিলেন, যাকে তিনি মনে করেছিলেন ১৬ বা ১৭ বছর বয়সী। সে সময় সুলিভানের বয়স ছিল চল্লিশের কোটায়। উল্লেখ্য, ১৬ বা ১৭ বছর বয়সী কারও সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা বৃটেনে ২০০৩ সাল পর্যন্ত অবৈধ ছিল না। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে গ্ল্যামার মডেলিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী নারীদের জন্য সুলিভান ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী এক ব্যক্তি। ফ্লোরেন্স বলেন, সুলিভান তার বাড়িতে অনুষ্ঠিত এক ব্যবসায়িক বৈঠকে তাকে বলেছিলেন, তারা যদি যৌন সম্পর্ক করেন, তাহলে তার পত্রিকার নিয়মিত মডেলদের একজন হয়ে উঠবেন ফ্লোরেন্স।

তখন ২০ বছর বয়সী ফ্লোরেন্স নানা অজুহাত দেয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, তখন তার পিরিয়ড চলছিল। কিন্তু তার অভিযোগ, সুলিভান তাকে একটি বেডরুমে নিয়ে যান এবং যৌন সম্পর্ক শুরু করেন। সুলিভানের আইনজীবীরা এই বর্ণনাকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। আরও দুই নারী বলেছেন, নিজেদের মডেলিং ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় তারা তখন মনে করেছিলেন সুলিভানের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক ছাড়া তাদের আর কোনো বিকল্প ছিল না। তারা অভিযোগ করেন, সুলিভান নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। একজন বলেন, সুলিভান তরুণীদের সুযোগ নিচ্ছিল।
আরেক সাবেক মডেল অভিযোগ করেন, সুলিভান যখন তাকে যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব দেন এবং তিনি বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যেতে চান, তখন তিনি দেখতে পান দরজা বন্ধ। তিনি জোরে কথা বলা শুরু করার পরই সুলিভান তাকে যেতে দেন। অভিযোগকারী অধিকাংশ নারীই পরিচয় গোপন রাখতে চেয়েছেন। কারও কারও আশঙ্কা, সুলিভানের বিরুদ্ধে কথা বললে তারা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন।

বিবিসি লিখেছে, আমাদের প্রতিবেদকরা ডায়েরির নোট, পুলিশি নথি, অন্যান্য রেকর্ড এবং বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তাদের বর্ণনার বিভিন্ন অংশ যাচাই করেছেন। অভিযোগকারীরা অতীতে এসব মানুষের কাছেও ঘটনাগুলো জানিয়েছিলেন। আমরা আরও জানতে পেরেছি, সুলিভানের আচরণ নিয়ে অন্তত আটজন নারী মেট্রোপলিটন পুলিশ বা এসেক্স পুলিশের কাছে অভিযোগ বা তথ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন এই অনুসন্ধানেরও অংশ। সুলিভান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে কখনও কোনো ফৌজদারি অভিযোগ গঠন করা হয়নি। এই অনুসন্ধান ফুটবল কর্তৃপক্ষের জন্যও প্রশ্ন তৈরি করেছে- সুলিভানের আচরণ সম্পর্কে তারা কতটা জানত।

‘সে আমার কুমারিত্ব কেড়ে নিয়েছে’
ফ্লোরেন্স বলেন, ১৯৯৯ সালে তাকে সুলিভানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন স্পোর্ট পত্রিকার তৎকালীন প্রধান সম্পাদক টনি লাইভসি। তিনি বর্তমানে বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভের উপস্থাপক। তখন ফ্লোরেন্স ছিলেন ২০ বছর বয়সী উদীয়মান এক গ্ল্যামার মডেল। তিনি বলেন, প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে তিনি এসেক্সে সুলিভানের প্রাসাদোপম বাড়িতে যান। তার প্রেমিক বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। আর তিনি প্রবেশ করেন সুলিভানের অফিসে। ফ্লোরেন্স সব খুঁটিনাটি মনে করতে পারেন না। তবে বৈঠকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ তার স্পষ্ট মনে আছে। তার ডায়েরিতেও সফরটির উল্লেখ রয়েছে। সেখানে লেখা আছে, তিনি ১৪ পাউন্ড খরচ করে ভোরের কোচে লন্ডন গিয়েছিলেন। এরপর ট্রেন ও ট্যাক্সি ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, বাড়িটির বিশালতা ও আড়ম্বর দেখে তিনি বিস্মিত হন। অন্যদিকে সুলিভানকে তিনি দেখেন ডেস্কে বসে আছেন সবচেয়ে এলোমেলো ট্র্যাকস্যুট পরে।

তার মডেলিং পোর্টফোলিও দেখেন। এরপর তাকে একটি বাথরুমে গিয়ে নিজেকে একটু ফ্রেশ করতে বলেন। ফ্লোরেন্স বলেন, তিনি এতটাই সরল ছিলেন যে পরে সুলিভানকে স্পষ্ট করে বলতে হয় তিনি আসলে তাকে অন্তর্বাস পরে আসতে বলছেন। এরপর তিনি তাই করেন।

মিয়া ও অন্যান্য নারীর অভিযোগ
মিয়া (ছদ্মনাম) বলেন, যখন তার বয়স ২০ বছর, তখন তিনি স্পোর্ট পত্রিকায় কাজের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে সুলিভানের বাড়িতে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন যে সুলিভান তার কাছ থেকে যৌন সম্পর্ক প্রত্যাশা করছেন। তার দাবি, সুলিভান তাকে পোশাক খুলতে বলেন এবং তিনি পরিস্থিতির চাপে তা করেন। কারণ তার মনে হয়েছিল পত্রিকায় কাজ পেতে হলে এটাই করতে হবে। মিয়ার ভাষায়, দরজা বন্ধ ছিল। আমি তখন তরুণী। সত্যি বলতে কী করব বুঝতে পারছিলাম না। তিনি অভিযোগ করেন, সুলিভান তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে একটি সিন্দুক থেকে ৫০ পাউন্ড বের করে তাকে দেন, যদিও আগে কোনো অর্থের বিষয়ে আলোচনা হয়নি। মিয়ার ধারণা, এই অর্থ দেয়ার উদ্দেশ্য ছিল তাকে চুপ করিয়ে রাখা অথবা ভবিষ্যতে তাকে যৌনকর্মী হিসেবে দেখিয়ে তার অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা। তিনি ঘটনাটিকে ক্ষমতার অপব্যবহার বলে বর্ণনা করেন।

অ্যানা ও ওয়েন্ডির অভিজ্ঞতা
অ্যানা (ছদ্মনাম) বলেন, ১৯৯০-এর দশকে ১৭ বছর বয়সে তিনি স্পোর্ট পত্রিকার একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। প্রতিযোগীদের নিজেদের ছবি পাঠাতে বলা হয়েছিল। তিনি জানান, পরে মায়ের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে গেলে সুলিভান তাকে আলাদা ডেকে বলেন যে, তিনি তার সঙ্গে অনৈতিক শারীরিক সম্পর্কে রাজি হলে তাকে তারকা বানাতে পারবেন। অ্যানা বলেন, আমার মা তখন একই কক্ষে ছিলেন। আমি একা যাইনি বলে এখন খুশি হই। কারণ একা গেলে কী হতে পারত জানি না। তিনি সুলিভানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। পরে তার ছবি প্রকাশিত হলেও তিনি আর পারিশ্রমিক পাওয়া যায় এমন কাজ পাননি।
অন্যদিকে ওয়েন্ডি (ছদ্মনাম) বলেন, ১৯৮০-এর দশকে প্রায় ২০ বছর বয়সে মাকে সঙ্গে নিয়ে সুলিভানের বাড়িতে যান। তার অভিযোগ, সুলিভান তাকে উপরের একটি শোবার ঘরে নিয়ে পোশাক খুলতে বলেন। এরপর তার শরীর নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করে বলেন, এই শিল্পে সফল হতে হলে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। ওয়েন্ডি বলেন, আমি মনে মনে ভাবলাম, যদি সফল হওয়ার জন্য তোমার এটা করতে হয়, তাহলে সফল না হওয়াই ভালো। তিনি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং পরে আর স্পোর্টের কোনো কাজ পাননি।

বেথের বর্ণনা
বেথ (ছদ্মনাম) নামে এক নারী বলেন, ১৯৯০-এর দশকে কিশোরী বয়সে তার এজেন্ট তাকে একটি মডেলিং অডিশনের জন্য নিয়ে যান। পরে তিনি বুঝতে পারেন সেটি ছিল সুলিভানের বাড়ি। তার দাবি, তাকে একা উপরে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি সুলিভানকে বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখেন। তার গায়ে ছিল ড্রেসিং গাউন এবং বুক খোলা ছিল। বেথ বলেন, সুলিভান তাকে বিছানার পাশে টপলেস হয়ে দাঁড়িয়ে শরীর প্রদর্শনের নির্দেশ দেন। বর্তমানে তিনি একজন মা। অতীতের কথা স্মরণ করে বলেন, এখন ভাবি একজন তরুণী হিসেবে আমি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিলাম।

সাশা ওয়ালের অভিযোগ
সাশা ওয়ালই একমাত্র নারী যিনি নিজের নাম প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ১৯৯৮ সালে মডেলিং সংক্রান্ত একটি বৈঠকের কথা বলে তাকে এসেক্সের একটি ঠিকানায় ডাকা হয়। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন সেটি সুলিভানের ব্যক্তিগত বাসভবন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সুলিভান তার মডেলিং পোর্টফোলিও দেখার সময় এমনভাবে মন্তব্য করেন, যা তাকে অস্বস্তিতে ফেলে। পরে তিনি তাকে উপরে নিয়ে অন্তর্বাস পরে আসতে বলেন। ওয়াল বলেন, তিনি ভেবেছিলেন এটি হয়তো মডেল হিসেবে শরীর দেখানোর অংশ। কিন্তু এরপর সুলিভান তাকে নিজের পাশে বসতে বললে তিনি বুঝতে পারেন পরিস্থিতি অন্যদিকে যাচ্ছে। তার অভিযোগ, সুলিভান তাকে বলেন যে- এক পরিচিত গ্ল্যামার মডেল তার বিশেষ বন্ধু এবং তিনিও একই ধরনের সহায়তা পেতে পারেন যদি বিশেষ বন্ধু হয়ে যান। ওয়াল বলেন, তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে পত্রিকায় সুযোগ পাওয়ার জন্য তিনি সুলিভানের সঙ্গে বিছানায় যাবেন না। তার দাবি, সুলিভান তখন অন্যরকম যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। কিন্তু ওয়াল তা প্রত্যাখ্যান করেন। ওয়ালের অভিযোগ, এরপর তিনি কক্ষ ত্যাগ করতে চাইলে দেখেন দরজা বন্ধ। তিনি ভয় পেয়ে যান। চিৎকার করে দরজা খুলতে বলেন। পরে সুলিভান দরজা খুলে দিলে তিনি দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।

পুলিশি অভিযোগ ও তদন্ত
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে অন্তত আটজন নারী সুলিভানের আচরণ নিয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশ বা এসেক্স পুলিশের কাছে তথ্য দিয়েছেন। ২০০৮ সালে এক ২৫ বছর বয়সী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে এসেক্স পুলিশ সুলিভানকে যৌন নিপীড়নের সন্দেহে গ্রেপ্তার করে। তবে শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন অভিযোগ পর্যালোচনা করে তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে ফৌজদারি মামলা করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ফুটবল কর্তৃপক্ষের জন্য প্রশ্ন
প্রতিবেদনটি ইংল্যান্ডের নতুন ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্যও প্রশ্ন তৈরি করেছে। কারণ, সংস্থাটির বর্তমান ক্লাব মালিকদের সততা ও যোগ্যতা তদন্ত করার ক্ষমতা রয়েছে। সুলিভান ২০১০ সাল থেকে ওয়েস্ট হ্যামের সবচেয়ে বড় একক শেয়ারহোল্ডার। এর আগে তিনি ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বার্মিংহাম সিটির সহ-মালিক ছিলেন। ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার বিরুদ্ধে একটি সুরক্ষা সংক্রান্ত তদন্তও চালিয়েছিল। তবে তারা পৃথক মামলার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

সুলিভানের প্রতিক্রিয়া
সুলিভান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন শিল্পে দীর্ঘ কর্মজীবনের কারণে তিনি হাজার হাজার নারীর সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন এবং সে কারণে কিছু অভিযোগ ওঠা দুঃখজনক হলেও অবশ্যম্ভাবী। তিনি অভিযোগগুলোকে মিথ্যা বলে বর্ণনা করেন এবং বলেন, গণমাধ্যম তাকে যে রূপে উপস্থাপন করছে তিনি সেই ব্যক্তি নন। এছাড়া তিনি বিবিসির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles