
সৃষ্টিকর্তার কাছে বহু অভিযোগ আছে আমার। কোনোদিন যদি সৃষ্টিকর্তার সাথে দেখা হবার সুযোগ ঘটে তাহলে আমার প্রথম প্রশ্ন থাকবে- হে ঈশ্বর আমি কি তোমার এতই অপ্রিয় বান্দা যে আমার ছোট ছোট স্বপ্ন গুলিও তুমি কখনো পুরন করলে না? মানুষ কত বড় বড় স্বপ্ন দেখে আর তুমি কত সহজে তাদের স্বপ্নগুলো পুরন করে দাও। আমার অপরাধতা কি একটু আমাকে খুলে বলবে ঈশ্বর?
আজ মনে বড় কষ্ট নিয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে নানা অভিযোগ উথাপন করছি , কারন এবারের স্বপ্নটা ছিলো ক্ষুদ্র থেকেও ক্ষুদ্রতম। স্বামী গেছে চার দিনের জন্য আমেরিকাতে কনফারেন্সে। এই চার দিনের স্বাধীন জীবন যাপনের মহা আনন্দের একটা খসড়া মনে মনে তৈরী করে ফেললাম। প্রথমটি হোল- রাত দুইটা পর্যন্ত টিভি তে মুভি দেখব।
দ্বিতীয়টি হোল রাত তিনটা পর্যন্ত ফেস বুকে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেবো।
তৃতীয়টি ছিলো সারাদিন চই চই করে ঘুরে বাড়াবো। বাড়ীতে রান্না খাবারের কোন ঝামেলা রাখবো না। কিছু বন্ধুকে কতবার কথা দিয়েছিলাম আড্ডা দিতে আসবো। কিন্তু নানা ব্যস্ততা ও কিছুতা অলসতার দরুন আমার কথা রাখা হয়নি। আমার চারদিনের স্বপ্ন তালিকাতে বন্ধুদের বাড়ীতে আড্ডা দেবার ব্যাপারটাও যোগ করলাম।
আপনারা হয়তো ভাবছেন এগুলো কি কোন স্বপ্ন দেখার জিনিষ? কিন্তু আমার কারন আছে । সেটা হোল, আমি রাত জাগতে পারিনা। আমার শৃক্ষলায় আবদ্ধ স্বামী অনেক রাত জেগে থাকেন না। রাত জেগে বসে থাকাটা তার কাছে বেশ অপছন্দের। রাত জাগলে শরীর খারাপ করবে সে চিন্তা ধারাতে বিশ্বাসী হয়ে তিনি আমাকে রাত বারটার বেশী রাত জাগার অনুমতি প্রদান করেন না। আমিও বাধ্য স্ত্রীর মতো তার নির্দেশ পালন করি। মাঝে মাঝে অবাধ্য স্ত্রী হয়ে রাত সাড়ে বারটা পর্যন্ত কম্পিউটারে বসে থাকি, লেখা লেখি করি কিংবা বন্ধুদের সাথে চেট করি। কদাচিৎ কখনো যদি রাত একটা বেজে যায় ঘুমাতে যেতে, স্বামী কুঞ্চিত কপালে আমার দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘ এতক্ষনে তোমার সময় হোল ঘুমাবার’? আমি অপরাধী আসামীর মতো কাচুমাচু মুখ করে চোখ বন্ধ করে বিছানাতে শুয়ে পরি- ঘুম আসুক বা না আসুক।
এখন আপনারাই বলুন আমার এ স্বপ্নগুলো কি খুবই অহেতুক ছিলো? মাত্র চার দিন চার মাসও না চার বছরও না। কিন্তু হোল না কিছুই হোল না। স্বামী যেদিন সকালে গেলেন সেদিন বিকেলে এক বন্ধুর ছেলের বিয়ের নিমন্ত্রনে যেতে হোল। স্বামীকে ছাড়া বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়াটা আমার কাছে মোটেও আনন্দের ব্যপার ছিল না। কিন্তু দায়িত্ব পালনের জন্য যেতে হোল। বাড়ি ফিরে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পরলাম। সে রাতে আমার আর রাত জাগা হোল না।
পরদিন সকালে মুক্ত বিহঙ্গ হবার পরিকল্পনা নিয়ে বসলাম। হায় আমার কপাল পরিকল্পনা শেষ করে সেটা বাস্তবায়িত করার উদ্দেশে উঠে দাঁড়াবার সময় মাসুল পুল করে সরাসরি বিছানাতে পরে গেলাম। বিছানা থেকে উঠে বসার কোন শক্তি আমার রইলো না। কোথায় গেলো আমার রাত জেগে থাকা কোথায় গেলো সারাদিন চই চই করে ঘুরে বেড়ানো? ছেলে মেয়েরা ছুটি নিয়ে পালা করে আমার সেবা করে যাচ্ছে। এখন আপনারাই বলুন সৃষ্টিকর্তার কাছে আমার অভিযোগটা কি অহেতুক?
ম্যাল্টন, কানাডা

