
নোভা স্কশিয়ার পিক্টো কাউন্টিতে প্রস্তাবিত দুটি বিতর্কিত গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন এখন সরাসরি প্রাদেশিক সরকারের কাছে বিকল্প সমাধান খোঁজার আহ্বান জানিয়েছে, যা এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।
সোমবার অনুষ্ঠিত পিক্টো কাউন্টির কাউন্সিল সভায় ওয়ার্ডেন রবার্ট পার্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবে বলা হয়, প্রদেশ যেন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এই তথাকথিত ‘পিকার প্ল্যান্ট’-গুলোর বিকল্প সম্ভাবনা যাচাই করে। কাউন্সিলের সকল সদস্য সর্বসম্মতভাবে এই প্রস্তাব অনুমোদন করেন যা ইঙ্গিত দেয় যে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে পার্কার জানান, এই ইস্যুতে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বাসিন্দাদের কাছ থেকে বিপুল প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন। ২০০৮ সাল থেকে কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পার্কারের মতে, “আমরা চাই প্রাদেশিক সরকার এই বিষয়ে আরও সময় নিয়ে চিন্তা করুক এবং সম্ভাব্য বিকল্পগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করুক। যদি তারা বিকল্প খোঁজার প্রয়োজনই অনুভব না করে, তাহলে তা দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত হবে না।”
এই প্রকল্পের বিরোধিতার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ পরিবেশগত উদ্বেগ। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কারণে এলাকার ভূগর্ভস্থ জলাধার বা অ্যাকুইফার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই অ্যাকুইফারই বহু পরিবারের কুয়োর পানির প্রধান উৎস। ফলে এর ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়লে তা সরাসরি জনজীবনে প্রভাব ফেলবে।
শুধু তাই নয়, এই জলাধার আশেপাশের নদী ও জলপ্রবাহের সঙ্গেও সংযুক্ত, যা স্যামন মাছের আবাসস্থলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে পরিবেশবিদরা মনে করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য এবং মৎস্যসম্পদ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
উল্লেখ্য, গত বছর ইন্ডিপেন্ডেন্ট এনার্জি সিস্টেম অপারেটর অব নোভা স্কশিয়া এই গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। মূলত বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে ‘পিকার প্ল্যান্ট’ হিসেবে এই কেন্দ্রগুলো ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল যেগুলো চাহিদার সময় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের বিরোধিতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তা নয়, বরং পরিবেশ ও জনস্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
পিক্টো কাউন্টির এই উদ্যোগ প্রাদেশিক সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয় সরকার কি বিকল্প পথ খুঁজতে আগ্রহী হয়, নাকি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যায়। এই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এলাকার পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের দিকনির্দেশনা।

