
টরন্টোর আসন্ন মিউনিসিপাল নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। নির্বাচন বাকি মাত্র ছয় মাস, আর এই সময়েই নতুন এক জনমত সমীক্ষা শহরের রাজনৈতিক চিত্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, বর্তমান মেয়র অলিভিয়া চাউ জনসমর্থনের দিক থেকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যাড ব্র্যাডফোর্ডের তুলনায় ১১ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন।
লিয়াজোঁ স্ট্র্যাটেজিস পরিচালিত এই সমীক্ষাটি ১২ ও ১৩ এপ্রিল এক হাজার কানাডিয়ান নাগরিকের ওপর পরিচালিত হয়। এতে দেখা যায়, যারা ইতোমধ্যে ভোট দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদের মধ্যে ৪৬ শতাংশ ভোটার চাউকে সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে ব্র্যাডফোর্ড পেয়েছেন ৩৫ শতাংশ সমর্থন।
এছাড়া অ্যান্থনি ফিউরে পেয়েছেন ১১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন এবং ৬ শতাংশ ভোটার অন্য প্রার্থীদের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এখনও ২৬ শতাংশ ভোটার তাদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেননি। এই বড় অংশের ভোটারই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
সমীক্ষাটি ভোটারদের বয়স ও এলাকার ভিত্তিতেও বিশ্লেষণ করেছে। ডাউনটাউন কোর ও বয়স্ক ভোটারদের মধ্যে চাউয়ের অবস্থান এখনও দৃঢ়। তবে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্র্যাডফোর্ড প্রায় সমান জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
ভৌগোলিকভাবে দেখা যায় ইটোবিকো অঞ্চলে ব্র্যাডফোর্ড এগিয়ে আছেন। স্কারবোরোতে তার সমর্থন তুলনামূলক কম। অন্যদিকে ডাউনটাউন এলাকায় চাউয়ের প্রতি সন্তুষ্টি সর্বোচ্চ (৬৭%)। ইটোবিকোতে তার সন্তুষ্টি সবচেয়ে কম (৩২%)।
বর্তমান মেয়র হিসেবে চাউয়ের পারফরম্যান্স নিয়েও ভোটারদের মতামত উঠে এসেছে সমীক্ষায়। ৫৬ শতাংশ ভোটার তার কাজের প্রতি সন্তুষ্ট এবং ৪০ শতাংশ অসন্তুষ্ট। এটি নির্দেশ করে যে, চাউয়ের প্রতি সমর্থন থাকলেও একাংশ ভোটারের মধ্যে অসন্তোষও বিদ্যমান যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্র্যাডফোর্ড টরন্টো সিটি কাউন্সিলে আট বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ধীরে ধীরে নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি শক্ত করছেন। বিশেষ করে সাবেক মেয়র জন টোরি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর তার সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, কনজারভেটিভ বা মধ্যপন্থী ভোটব্যাংকের একটি অংশ ব্র্যাডফোর্ডের দিকে ঝুঁকছে।
“শহর কি সঠিক পথে এগোচ্ছে?” এই প্রশ্নে জনমত প্রায় সমানভাবে বিভক্ত: ৪৮ শতাংশ মনে করেন হ্যাঁ, ৪৮ শতাংশ মনে করেন না এবং ৩ শতাংশ নিশ্চিত নন। এই সমান বিভক্তি শহরের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকেই তুলে ধরে।
সমগ্র পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট হয়: টরন্টোর নির্বাচনে চাউ এখনও এগিয়ে থাকলেও ব্যবধান অটুট নয়। তরুণ ভোটারদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হচ্ছে। অনির্ধারিত ভোটারদের বড় অংশই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে “কিংমেকার” হতে পারে। শহরের উন্নয়ন নিয়ে বিভক্ত জনমত নির্বাচনী প্রচারে বড় ইস্যু হয়ে উঠবে।
নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ততই তীব্র হচ্ছে। বর্তমানে চাউ এগিয়ে থাকলেও, ব্র্যাডফোর্ডের উত্থান এবং অনিশ্চিত ভোটারদের উপস্থিতি নির্বাচনের ফলাফলকে এখনও খোলা রেখেছে।

