সকল নাগরিকের অধিকার সমান

সকল নাগরিকের অধিকার সমান - the Bengali Times
দেশে সরকারীভাবে জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন না থাকার ফলে ভাল লোকজন রাজনীতি ও প্রশাসনে কাজ করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন

দেশে সরকারীভাবে জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন না থাকার ফলে ভাল লোকজন রাজনীতি ও প্রশাসনে কাজ করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। সংবিধান অনুযায়ী সকল নাগরিকের অধিকার সমান এবং কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

কিন্তু বাংলাদেশে আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা না থাকায় যে কেউ যে কারো বিরুদ্ধে যে কোন সময় সম্মানহানিকর যে কোন বিষয়ে আঙুল তুলতে পারে, লিখে দিতে পারে। কোন তথ‍্য প্রমাণ বা কোর্ট কাচারির দরকার হয় না। যেহেতু দেশের ভিজিবল একটা বড় সংখ্যক মানুষ দল ও নেতাদের প্রতি সাংঘাতিক রকম অনুরক্ত, ফলে দলীয় হীন রাজনৈতিক স্বার্থে যে কোন অভিযোগের পক্ষে এবং বিপক্ষে তারা দাঁড়িয়ে যায়। কোন অভিযোগ উঠলেই কেউ সেটা বিশ্বাস করে আবার কেউ করে না।

- Advertisement -

অভিযোগটা যত গুরতরই হোক না কেন, প্রশাসন সেটা আমলে নিবে কি নিবে না তাও নির্ভর করে অর্থ ও দলের উপর। অথচ যারা ছোটবেলা থেকে সচেতনভাবে টাকার চেয়ে মান সম্মান ও সততাকে জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ বলে মনে করে তাদের পক্ষে কোন ভাবেই রাজনীতি বা প্রশাসনিক কোন কাজে আর জড়িত হওয়া সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। সে কারণেই আজকে একজন গুরুত্বপূর্ণ সাবেক উচ্চপদস্থ সরকারী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব‍্যক্তিকে বলতে শুনলাম তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল ঐ সরকারী দায়িত্ব গ্রহণ করাটা।

তিনি আক্ষেপ করে লিখেছেন তার নিজ কাজে তিনি ভালই করছিলেন এবং সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন কিন্তু যেই তিনি সেই সরকারী দায়িত্ব পালন করতে গেছেন তখনই তিনি মান সম্মান নিয়ে টানাটানিতে পড়ে গেছেন। তিনি যতই হিসাব দেন না কেন, যতই ট্রান্সপারেন্ট বা স্বচ্ছ থাকেন না কেন, তার বিরুদ্ধে একটা বিশেষ মহল লিখেই চলেছেন। কথা হলো, লিখলেন ভাল কথা। তবে সেই লেখার পরিণতি কী? একটা জায়গায় গিয়েতো সেটার সমাপ্তি হতে হবে। অভিযোগটার একটা নিস্পত্তি হতে হবে, হয় দোষী না হলে নির্দোষ। দোষী হলে শাস্তি হতে হবে আর নির্দোষ হলে মানহানির মামলা হবে এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে। তা কি হচ্ছে? হচ্ছে না।

একটা হেড লাইন শেষ হতে না হতেই আরো একটা হেডলাইন। আমার প্রশ্ন হলো, আগের দিন যে সংবাদটা বের হলো, সেটার কি কোন নিস্পত্তি হয়েছে? কারো কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। যেন হৈ চৈ বা ভাইরাল হলেই সব লক্ষ‍্য অর্জন হয়ে গেল। এভাবেতো চলতে পারে না। চলতে পারে তাদেরই যাদের কোন ন‍্যায় নীতির বালাই নাই, মান সম্মানের ভয় নাই। একটা গালি খাবে তারপর আবার নির্লজ্জের মত অফিসে যাবে, আবারও দুর্নীতি করবে, আবারও গালি খাবে, টাকা খেয়ে বা কিছু পাওয়ার আশায় কেউ কেউ হয়তো প্রশংসাও করবে।

এভাবেই চলছে এবং আগামীতেও এর কোন পরিবর্তন আমি দেখতে পাচ্ছি না। কারণ সিস্টেমেটিক জবাবদিহিতা দেশের অনেকেই বুঝতেই পারে না আবার বুঝলেও তারা এটা কায়েম করতে চায় না। কারণ জবাবদিহিতা কায়েম মুখে মুখে হয় না বা কোন ব‍্যক্তির আঙুলের ইশারায় হয় না। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে করতে হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলো যখনই সেই প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা কায়েমের সুযোগ এসেছে, কায়েমী স্বার্থবাদী মহল সেটাকে মাটির নীচে জীবন্ত গেড়ে ফেলার চেষ্টা করেছে। এই হলো বাস্তবতা। মনে রাখা দরকার, যে ফলের গাছ পুতবেন, সেই ফলের গাছই জন্মাবে এবং সেই ফলই আপনাকে ভোগ করতে হবে।

 

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles