
কানাডাজুড়ে অনলাইন ও ডাক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে পরিচালিত একটি বৃহৎ অবৈধ মাদক বিতরণ নেটওয়ার্ক ভেঙে দিয়েছে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি)। প্রায় দুই মাসব্যাপী তদন্তের পর এই চক্রের সন্ধান মেলে, যা মূলত একটি অনলাইন স্টোরফ্রন্টের মাধ্যমে দেশজুড়ে ক্যানাবিসসহ বিভিন্ন মাদক সরবরাহ করত।
তদন্তের সূত্রপাত ঘটে কানাডা পোস্টের মাধ্যমে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পাঠানো একটি সন্দেহজনক পার্সেল আটকের ঘটনায়। ওই পার্সেলে বিপুল পরিমাণ ক্যানাবিস ও সংশ্লিষ্ট পণ্য থাকার প্রমাণ মেলায় বিষয়টি আরসিএমপির নজরে আসে। এরপরই শুরু হয় বিস্তৃত তদন্ত, যা ধীরে ধীরে একটি সুসংগঠিত অপরাধচক্রের দিকে ইঙ্গিত করে।
তদন্তে উঠে আসে, “কালচার ক্যানাবিস কানাডা” নামের একটি ওয়েবসাইটকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছিল এই অবৈধ ব্যবসা। অনলাইনে অর্ডার গ্রহণ করে ডাকযোগে দেশব্যাপী ক্যানাবিস, এডিবল, ভেপ এবং সাইলোসিবিন (মাশরুমজাত সাইকেডেলিক মাদক) সরবরাহ করা হতো। আধুনিক ই-কমার্স পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
গত ১০ মার্চ অটোয়ার দক্ষিণাঞ্চলে দুটি আবাসিক স্থাপনায় তল্লাশি চালায় আরসিএমপি। অভিযানে উদ্ধার করা হয় প্রায় ৪৮৫ কিলোগ্রাম শুকনো ক্যানাবিস, ৩৬ কিলোগ্রাম হ্যাশ, ১৮ কিলোগ্রাম সাইলোসিবিন, এবং সাত হাজারেরও বেশি ক্যানাবিস-সংমিশ্রিত খাদ্যপণ্য ও ভেপ ডিভাইস। এছাড়া নগদ ১ লাখ ১৫ হাজার ৩৬০ ডলার এবং চক্র পরিচালনায় ব্যবহৃত একটি যানবাহন জব্দ করা হয়।
এই ঘটনায় অটোয়া থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪১ বছর বয়সী জুলি মিশেল ল্যাঙ্গেভিনের বিরুদ্ধে ক্যানাবিস আইন, কন্ট্রোলড ড্রাগস অ্যান্ড সাবস্ট্যান্সেস অ্যাক্ট এবং ফৌজদারি বিধির আওতায় একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়া ৩৩ বছর বয়সী দীপক পারমারের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মাদক সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ, তরুণদের কাছে ক্যানাবিস সহজলভ্য করে তোলা, সাইলোসিবিন পাচার, অপরাধলব্ধ সম্পদ অর্জন এবং আনস্ট্যাম্পড তামাক রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে ৩৩ বছর বয়সী ইশা ভরদ্বাজের বিরুদ্ধেও।
এই ঘটনা আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারের একটি স্পষ্ট উদাহরণ। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ও ডাকব্যবস্থার সমন্বয়ে কীভাবে একটি অপরাধচক্র দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালাতে পারে, তা এই ঘটনায় পরিষ্কারভাবে উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে এমন অপরাধ রোধে সাইবার নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি ডাক ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও কঠোর করা প্রয়োজন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের অবৈধ নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি নাগরিকদেরও সন্দেহজনক অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

