আরসিএমপির জনবল সংকট চরমে

আরসিএমপির জনবল সংকট চরমে - the Bengali Times
কানাডার ফেডারেল পুলিশ বাহিনী রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ আরসিএমপি তে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট এখন গুরুতর আকার ধারণ করেছে

কানাডার ফেডারেল পুলিশ বাহিনী রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি)-তে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট এখন গুরুতর আকার ধারণ করেছে। এই সংকটের পেছনে পরিকল্পনার বড় ধরনের ভুল ও নীতিগত দুর্বলতাকে দায়ী করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি দিয়েছেন কানাডার অডিটর জেনারেল কারেন হোগান।

আরসিএমপি তাদের প্রকৃত চাহিদার তুলনায় অনেক কম নিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ফলে বাহিনীটি দীর্ঘদিন ধরেই পর্যাপ্ত সংখ্যক নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। অডিটে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে আরসিএমপির প্রকৃত প্রয়োজন ছিল প্রায় ২,৭০০ নতুন কর্মকর্তা। কিন্তু তারা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল মাত্র ১,২৮০ জনের জন্য। বাস্তবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মাত্র ৮৯২ জনকে যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম।

- Advertisement -

এই ভুল পরিকল্পনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাহিনীর সামগ্রিক জনবলে। ২০২৫ সাল নাগাদ আরসিএমপিতে প্রায় ৩,৪০০ জন কর্মীর ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘাটতির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পুলিশি সেবায় অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল, প্রেইরি অঞ্চল এবং কিছু আটলান্টিক প্রদেশ। এসব এলাকায় জনবল সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষানবিশ কর্মকর্তাদের প্রথম পোস্টিং বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এই নমনীয়তা অনেক ক্ষেত্রে জনপ্রিয় বা সুবিধাজনক এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত জনবল সৃষ্টি করেছে, কিন্তু দূরবর্তী বা কঠিন অঞ্চলে সংকট বাড়িয়েছে। ফলে জাতীয় পর্যায়ে জনবলের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ২০২৩ সাল থেকে আরসিএমপি তাদের কর্মী পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ বন্ধ করে দেয়। এর মধ্যে ছিল : মোট জনবল সংখ্যা, শূন্য পদের সংখ্যা এবং কমিউনিটি পুলিশিংয়ের বাইরের প্রকৃত চাহিদা। কেন এই তথ্য প্রকাশ বন্ধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে অডিটর জেনারেলকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এই তথ্যের অভাবে বাহিনীটি বাস্তব চাহিদা নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছে।

আরসিএমপি তাদের নিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী নয়, বরং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ তহবিলের ভিত্তিতে। অর্থাৎ, তারা যতজনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব, সেই সংখ্যাকেই নিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ধরেছে যা বাস্তব প্রয়োজনের অর্ধেকেরও কম।

একাধিক বিশেষজ্ঞ বলেছেন,  এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ফ্রন্টলাইন কর্মকর্তাদের ওপর কাজের চাপ বাড়বে, মানসিক অবসাদ ও বার্নআউটের ঝুঁকি বাড়বে এমনকি জনসাধারণের নিরাপত্তা সেবায় প্রভাব পড়তে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া আরসিএমপি পর্যাপ্ত সংখ্যক নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে পারবে না।

জানা গেছে, আরসিএমপির জনবল সংকট কোনো আকস্মিক সমস্যা নয়, বরং দীর্ঘদিনের পরিকল্পনাগত ত্রুটি, তথ্য গোপন এবং নীতিগত দুর্বলতার ফল। যদি দ্রুত কার্যকর সংস্কার না আনা হয়, তাহলে এই সংকট ভবিষ্যতে আরও গভীর হতে পারে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles