স্যামসাংয়ের বাজারে অধোগতি
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
স্যামসাং ইলেকট্রনিকস কোম্পানির বাজারে অধোগতি এবং বাজার ঘিরে অনিশ্চয়তা নেমে এসেছে। বিশ্ব মুদ্রাবাজারে অস্থিতিশীলতা এবং ক্রমবর্ধমান বাজার রক্ষণশীলতার কারণে বিশ্বের প্রথম সারির এই ইলেকট্রনিকস পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এছাড়া ২০১৬ ছিল স্যামসাংয়ের জন্য সবচেয়ে বাজে বছর, সবচেয়ে লোকসানের বছর।

সোমবার স্যামসাংয়ের ভাইস চেয়ারম্যান এবং সহ-প্রধান নির্বাহী (কো-সিইও) কিও ওহ হিউন নতুন বছর শুরুর বক্তৃতায় স্যামসাংয়ের বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে আলোকপাত করেন। বার্ষিক এই বক্তৃতায় তিনি স্যামসাংয়ের কর্মীদের আহ্বান করেন যেন ব্যর্থতা থেকে তারা শিক্ষা নেয়।

গত বছরটি ছিল স্যামসাংয়ের জন্য বড় ব্যর্থতার বছর। স্যামসাংয়ের সবচেয়ে আলোচিত প্রজেক্ট নোট সেভেন-স্মার্টফোন মারাত্মক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় নোট সেভেন ব্যবহারকারীরা তাদের পছন্দের মোবাইলে আগুন ধরে যেতে দেখেন। এমনকি বিমানেও নোট সেভেন স্মার্ট ফোনে আগুন ধরে যাওয়ার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটে। বিমান সংস্থাগুলো তাই নোট সেভেন বহন নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল।

নতুন বছরের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ার সুউন এ অবস্থিত স্যামসাংয়ের সদরদফতরে স্যামসাংয়ের সহ-প্রধান নির্বাহী কিও ওহ হিউন স্যামসাংয়ের কর্মীদের আহ্বান করেন-‘পণ্যের মান বা সমস্যা নিয়ে আমরা বিন্দুমাত্রও ছাড় দিতে পারি না। চলেন, আমরা আমাদের গর্ব ফিরিয়ে আনি আমাদের উৎপাদন প্রক্রিয়া ও পণ্য নিরাপত্তার বিষয়টির দিকে মনোযোগ দিয়ে।’স্যামসাংয়ের বাজারে অধোগতি

স্যামসাংয়ের আলোচিত নোট সেভেন ফোনটিতে হঠাৎ করে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা প্রতিষ্ঠানটির বাজার ও সুনামে ব্যাপক ধস নামায়। বাধ্য হয়ে নোট সেভেনের সকল পণ্য উঠিয়ে নেয় স্যামসাং। যাদের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল তাদের কাছ থেকে ফিরিয়ে নেওয়া হয় নোট সেভেন। এটা স্যামসাংয়ের জন্য অর্থনৈতিকভাবে অনেক বড় ক্ষতির কারণ ছিল। তারা প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতির মুখে পড়ে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই মোবাইল কোম্পানির জন্য এটা ছিল সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। এছাড়া ২০১৫ সালের একটি দুর্নীতির অভিযোগের খড়গও ঝুলছে স্যামসাংয়ের উপর।

ভেতরে ও বাইরে যখন স্যামসাং এমন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সেই সময়ে প্রতিপক্ষ স্মার্টফোনের ভবিষ্যত কী হবে, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বড় আকারের ডাটা কিভাবে সংরক্ষণ করা যায় তা নিয়ে গবেষণা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।    

সূত্র: ব্লুমবার্গ

০৩ জানুয়ারি, ২০১৭ ১৪:২৫:৩৬