একজন ‘মিরাজ’ ওয়ে ওঠার গল্প
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট


খুলনা মহানগরীর বিআইডিসি সড়কের নর্থ জোনের ৭ নং প্লট। সেখানে সামান্য একটু জায়গা নিয়ে তৈরি করা টিনের চালাঘর। ছোট দুটি কক্ষের একটিতে শোকেসে সাজানো আছে বিভিন্ন ট্রফি ও মেডেল। সবই বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিস্ময় মেহেদী হাসান মিরাজের। দুই ভাইবোনের মধ্যে বড় মিরাজ এ বছরই এইচএসসি পাস করেছেন। আর ছোট বোন রুমানা আক্তার মিম্মা উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর ছাত্রী। বাবা মো. জালাল হোসেন একজন গাড়িচালক, মা মিনারা বেগম গৃহিণী। খবর বণিক বার্তা'র।

গতকাল মিরাজদের সেই ছোট্ট বাসায় ছিল উত্সবের ভিড়। সরু গলির মধ্যে সড়কবাতির আলো নেই। তবু অন্ধকার মাড়িয়ে ক্রিকেটভক্তরা মিরাজের মা-বাবাকে শুভেচ্ছা জানাতে তার বাসায় পৌঁছে গেছেন। হাতে মিষ্টির প্যাকেট। উচ্ছ্বাস ভরা হাসি নিয়ে মিষ্টি খাইয়ে দিচ্ছেন মিরাজের গর্বিত বাবা জালাল হোসেনকে। ঘরে বসতে দেয়ার মতো জায়গা নেই, তাই রাস্তায় চেয়ার দিয়ে সবার বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আবার ফোনেও আত্মীয়স্বজনের শুভেচ্ছা গ্রহণ করছেন তিনি। গতকাল রাত ৮টার দিকে মিরাজের বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে যান খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী কমিশনার মো. কামরুল ইসলাম। তিনি মিরাজের বাবাকে জড়িয়ে ধরেন। মিষ্টি তুলে দেন তার মুখে।

ওই বাড়িতেই কথা হয় মিরাজের বাবা জালাল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন ছেলের ক্রিকেটার হয়ে ওঠার গল্প। তার ভাষায়, ‘ছোটবেলা থেকে মিরাজ আমাকে ফাঁকি দিয়ে ক্রিকেট খেলতে যেত। আমাকেই সে বেশি ফাঁকি দিয়েছে। স্কুল থেকে চুপি চুপি ক্রিকেট খেলতে মাঠে চলে যেত আল মাহমুদের (প্রশিক্ষক) সঙ্গে। কতবার খুঁজে খুঁজে বাড়িতে ধরে আনতে হয়েছে তাকে।’

ছেলেকে ক্রিকেটে বাধা দেয়ার একমাত্র কারণ, সংসারের দৈন্যকে খুব ভয় পেতেন দরিদ্র বাবা। সবার মতো তিনিও চাইতেন, মিরাজ পড়াশোনা করে ভালো চাকরি করুক। ছেলের অনিশ্চিত জীবনের শঙ্কায় বারবার ক্রিকেট খেলতে বাধা দিতেন বাবা জালাল হোসেন।

তবে আজ ছেলের অভাবনীয় সাফল্যে আনন্দে আত্মহারা জালাল হোসেন নিজেই দোয়া চাইলেন মিরাজ ও বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের জন্য। কৃতজ্ঞতা জানালেন একসময়ের দারুণ অপছন্দের ব্যক্তি ও মিরাজের প্রশিক্ষক আল মাহমুদের প্রতি।

জালাল হোসেন জানান, ১৯৯৭ সালের ১৬ মে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার হলদিয়াপুর গ্রামে মিরাজের জন্ম। ২০০১ সালে পরিবার নিয়ে খুলনার খালিশপুর এলাকায় চলে আসেন তিনি। তখন মিরাজের বয়স পাঁচ বছর। মিরাজ ছোটবেলা থেকেই ছিল ক্রিকেটপাগল। সে যখন আসমা সরোয়ার স্কুলে প্রাইমারিতে পড়ত, তখন থেকেই ক্রিকেট খেলা শুরু করে। খালিশপুরের কাশীপুর ক্রিকেট একাডেমির প্রশিক্ষক মো. আল মাহমুদের হাত ধরেই মিরাজের ক্রিকেটযাত্রা। বাবার বাধা থাকলেও মায়ের অনুপ্রেরণা ছিল মিরাজের ক্রিকেটজীবনের শক্তি।

মিরাজের মা মিনারা বেগম জানান, ক্রিকেট ভালো না বুঝলেও ছেলেকে দেখার সুযোগ তিনি ছাড়েন না। দিনভর ছেলের খেলা দেখেছেন তিনি। ছেলের ধারাবাহিক সাফল্যে তিনি সবার চেয়ে বেশি খুশি, যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। মিরাজ আরো ভালো করুক, দেশের সেরা খেলোয়াড় হোক— আল্লাহর কাছে এটাই কামনা করেন তিনি।

মিরাজের প্রশিক্ষক আল মাহমুদ জানান, মিরাজের মধ্যে ছোটবেলা থেকে ক্রিকেটের প্রতি টান ছিল। ওর মধ্যে ক্রিকেটের সম্ভাবনা দেখেই তাকে প্রশিক্ষণ দিই। অসীম ধৈর্য আর চেষ্টায় সেই মিরাজ আজকের মিরাজ হয়েছে।









 


০৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২০:১৩:৫০