বাংলাদেশ-পাকিস্তান ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ আজ
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
এশিয়া কাপের সুপার ফোরে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যকার সেমিফাইনাল হ‌ওয়া ম্যাচটিতে ফাটিয়ে দে‌ওয়ার আশা করছেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। সোজাসুজি বলেই দেন তিনি, ‘সেমিফাইনাল হয়ে ওঠা ম্যাচে ফাটিয়ে দেব।’ আফগানিস্তানের বিপক্ষে গত রবিবার শ্বাসরুদ্ধকর, নাটকীয় ম্যাচে ৩ রানে জিতে বাংলাদেশ। তাতে করে ফাইনালের আশা টিকে থাকে। আজ আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে ‘সুপারফোরের শেষ ম্যাচটি ‘অঘোষিত’ সেমিফাইনাল রূপে পরিণত হয়েছে। যে দল জিতবে তারাই ভারতের বিপক্ষে শুক্রবার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে লড়াই করবে।

সবাই জানে, পাকিস্তানকে নিয়ে আগাম কিছু অনুমান করা কঠিন। এশিয়া কাপের গ্রুপপর্ব হোক কিংবা এখন পর্যন্ত ‘সুপারফোরে’ ম্যাচগুলোতে হোক; পাকিস্তান নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। গ্রুপপর্বে হংকংকে সহজেই হারিয়েছে। কিন্তু এরপর ভারতের কাছে অনায়াসে হেরেছে। পাত্তাই পায়নি। ‘সুপারফোরে’ গিয়ে আফগানিস্তানের সঙ্গে জয় পেতে বেশ ঘাম ঝড়াতে হয় তাদের। ভারতের বিপক্ষে তো নাস্তানাবুদ হয়েই চলেছে। আবারও ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে। এবার বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান।

বাংলাদেশও যে খুব ভাল ক্রিকেট খেলছে তা নয়। গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু এরপরই আফগানিস্তানের বিপক্ষে পাত্তাই পায়নি। ‘সুপারফোরে’ ভারতের কাছেও একই হাল টাইগারদের। সুপার ফোরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দল শেষ পর্যন্ত জিতেছে। কিন্তু শেষ ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের ‘ম্যাজিক’ বোলিং না হলে জয় মিলত না। তবে এমন জয়ে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে ক্রিকেটারদের। যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে দেয়াও সম্ভব। পাকিস্তান যে এবার এশিয়া কাপে বাংলাদেশের চেয়েও খারাপ খেলছে।

অবশ্য যে কোন মুহূর্তে পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়াতে পারে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তা দেখাও গেছে। এমনকি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ফেবারিট তালিকায় না থেকেও শিরোপা জিতেছিল তারা। আর এশিয়া কাপে দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ইতিহাস তো আছেই। তবে পাকিস্তানই বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটির আগে ভয় পাচ্ছে। তাদের দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ মিকি আর্থার কিন্তু দলকে নিয়ে আছেন চরম ভয়ে। তিনি বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, এই মুহূর্তে খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্কট চলছে। ব্যর্থতার ভয় কিছুটা হলেও ড্রেসিংরুমে গ্রাস করেছে। ক্রিকেট দল হিসেবে এখন আমরা কি অবস্থায় আছি সেটা খুব ভাল করেই বুঝতে পারছি আমরা।’

শোয়েব মালিক, ইমাম উল হক, বাবর আজম, সরফরাজ আহমেদকে নিজেদের মেলে ধরতে পারছেন। কিন্তু যাদের দিকে নজর, সেই ব্যাটসম্যান ফখর জামান, বোলার মোহাম্মদ আমির, হাসান আলিরা কিছুই করতে পারছেন না। আত্মবিশ্বাসও পাক ক্রিকেটারদের নড়বড়ে হয়ে গেছে। মিকি আর্থার যেমন জানান, ‘ক্রিকেট আত্মবিশ্বাসের খেলা। অথচ ফখর জামানকে দেখুন। আমরা সবাই জানি ও’ কতটা অবিশ্বাস্য খেলোয়াড়। ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়া খেলোয়াড় সে। আমাদের প্রত্যাশা থাকে ও ভাল শুরু এনে দেবে দলকে। কিন্তু এই মুহূর্তে নিজের খেলা নিয়ে ও’র মধ্যে যেন দ্বিধাদ্বন্দ্ব চলছে।’

পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়াবে তাছাড়া কোন গতি নেই; জানিয়েছেন আর্থার, ‘তবে আমাদের তো এখানেই থেমে যাওয়ার উপায় নেই। এগিয়ে যেতে হবে। আশাকরি দ্রুতই আমরা ঘুরে দাঁড়াব এবং আরও ভাল এবং শক্তিশালী দল হিসেবে ফিরে আসব।’

এদিকে, পাকিস্তানকে বিদায় করেই ফাইনালে খেলার আশা করছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালের এপ্রিলে দুই দল পরস্পরের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল। বাংলাদেশের মাটিতে সেই সিরিজের প্রতিটি ম্যাচেই হেরেছিল পাকিস্তান। এবারও পাকিস্তানকে হারাতে বদ্ধপরিকর বাংলাদেশ।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও ইমরুল কায়েস চাপের মধ্যে থেকেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন। ষষ্ঠ উইকেটে রেকর্ড ১২৮ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় স্কোর দাঁড় করানোয় বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। এরপর শেষ ওভারে গিয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মুস্তাফিজের ম্যাজিক বোলিংয়ে জয় পায় টাইগাররা। আর এমন পারফর্মেন্সকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচেও দেখতে চান আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ সেরা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তিনি বলেন, ‘এই খেলাটাকে আমাদের পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে।’

সেটা করতে পারলেই আজকের ‘অঘোষিত’ সেমিফাইনাল জেতাও হয়ে যাবে। বাংলাদেশ আবারও এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলাও নিশ্চিত করবে।

 

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১০:৩৮:১৫