মেসির হাতে বিশ্বকাপ দেখতে চান ম্যারাডোনা
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
ফুটবলের মহম্মদ বিন তুঘলক তিনি! খামখেয়ালিপনায় তাঁর জুড়ি মেলা ভার৷ তিনি ‘হ্যান্ড অফ গড’-এর সষ্ট্রা দিয়েগো আর্মান্দো ম্যারাডোনা৷ রাশিয়ায় বিশ্বকাপ শুরুর কয়েকদিন আগে বলেছিলেন এবার গ্রুপ পর্বেই বিদায় নেমে আর্জেন্তিনা৷ আর বিশ্বকাপ শুরুর দু’দিন পর লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপ দেখার ইচ্ছেপ্রকাশ মারাদোনার৷ শনিবার মস্কোর স্পার্টাক স্টেডিয়ামে আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করছে দু’বারের (১৯৭৮ ও ১৯৮৬) চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা৷

১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপে শেষবার আর্জেন্তিনা বিশ্বজয়ের স্বাদ পেয়েছিল মারাদোনার হাত ধরে৷ গত ৩২ বছর যা আর্জেন্তাইন ফুটবলে লোকগাঁথা হয়ে রয়েছে৷ তিন দশক পর মেসির হাতে তাঁর স্বপ্নের স্মৃতিচারণ করতে চান ‘ফুটবল ঈশ্বর’৷ দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া-র কলামে মারাদোনা লিখেছেন, ‘লিও-কে প্রমাণ করার জন্য বিশ্বকাপ জেতার দরকার নেই৷ কিন্তু এই ট্রফি জেতার জন্য ও মুখিয়ে রয়েছে৷ এটা দলকে মোটিভেট করবে৷ ওর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ অত্যন্ত ইতিবাচক৷ আমরা সবাই জানি ও কীভাবে সেকেন্ডের মধ্যে ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারে৷’

৩০ বছরের আর্জেন্তাইন ফুটবলের রাজপুত্র দেশের হয়ে বিশেষ সাফল্য না-পেলেও ক্লাব বর্সেলোনার হয়ে সাফল্যের ডালি সাজিয়েছেন৷ এবার তাই দেশের জার্সিতে বিশ্ব মঞ্চে নিজেকে সেরা প্রমাণ করতে মরিয়া মেসি৷ তাঁর সাফল্য কামনা করে মারাদোনা লিখেছেন, ‘বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করা অত্যন্ত কঠিন৷ আমি চাই মেসিরও সেই অভিজ্ঞতা হোক৷’

২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে স্বপ্নের ফর্মে ছিলেন মেসি৷ কিন্তু অল্পের জন্য স্বপ্নপূরণ হয়নি৷ গাঁথা হয়নি রূপকথা৷ ফাইনালে জার্মানদের কাছে হেরে বিশ্বজয়ে মারাদোনাকে ছোঁয়ার বাসনা অতৃপ্ত রয়ে যায় মেসির৷ রাশিয়ায় সেই স্বপ্নপূরণ করতে মরিয়া লিও৷ ৮৬ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক মারাদোনা লিখেছেন, ‘ ২০১৪ ও সেভাবে সার্পোট পায়নি৷ তার পর রাশিয়া বিশ্বকাপে কোয়ালিফায়ারেও স্ট্রাইকাররা সেভাবে স্কোর করতে পারেনি৷ লিও একাই সেটা করে দেখিয়েছে৷ ও যতক্ষণ দলে রয়েছে, আর্জেন্তিনার পক্ষে সব কিছু সম্ভব৷ তবে সতীর্থদের সাপোর্ট পাওয়াটা অত্যন্ত জরুরি৷’ প্রথম ম্যাচে আইসল্যান্ডকে হালকাভাবে নেওয়ার উচিত হবে না বলেই মনে করেন মারাদোনা৷

তিনি জানান, ‘আইসল্যান্ডকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত হবে না, কারণ এটা ওদের প্রথম বিশ্বকাপ৷ দু’বছর আগে প্রথমবার ইউরো কোয়াটার্র ফাইনালে খেলেছে আইসল্যান্ড৷ ওদের ট্যকটিস ভালো৷ শর্ট বলে ওদের দক্ষতা রয়েছে৷ বিশেষ করে ওরা প্র্যাকটিক্যাল ফুটবলে ওরা দক্ষ৷ শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ওরা নিজের হাফ মজবুত রাখে৷ এই পরিস্থিতিতে ওদের বিরুদ্ধে গোল করা সহজ হবে না৷ আন্ডারডগদের বিরুদ্ধে শুরুতেই এগিয়ে যাওয়াটা অত্যন্ত জরুরি৷ কারণ প্রতিপক্ষকে রুখে দিলে ওদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে৷’

 

১৬ জুন, ২০১৮ ১৭:৪৪:৫২