সাকিব-মাহমুুল্লাহের দাপটে লড়াইয়ে বাংলাদেশ
কার্ডিফে দুই বাঘের দাপটে ছিটকে গেল নিউজিল্যান্ড
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছে টাইগাররা। এই জয়ে বিভিন্ন দেশের তারকা ক্রিকেটারদের পাশাপাশি খেলাধুলা পাতায় সাকিব-মাহমুদুল্লাহদের প্রশংসায় ভাসিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। সেই তালিকায় রয়েছে ভারতের জনপ্রিয় বাংলাদেশ সংবাদপত্র আনন্দবাজার পত্রিকাও। শুক্রবার রাতে বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় জয়ের পর পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে টাইগারদের বন্দনা করে খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, যশোর (যদিও সাকিবের বাড়ি মাগুরা) ও ময়মনসিংহের দূরত্ব প্রায় সোয়া তিনশো কিলোমিটার। কিন্তু তাতে কী! শুক্রবার কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে যেন মিলিয়ে গেল এই দূরত্ব। দুই ক্রিকেট তারকা মিলিয়ে দিলেন দুই জেলাকে। সাকিব আল হাসান এবং মাহমুদউল্লাহ— দুই তারকার মহাকীর্তিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটে এল এক অসাধারণ জয়। যে জয় তাদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শেষ চারের দৌড়ে টিকিয়ে রাখল। ছিটকে দিল নিউজিল্যান্ডকে। নিউজিল্যান্ডের ২৬৫/৮ স্কোরের জবাবে একটা সময় ৩৩ রানে চার উইকেট খুইয়ে প্রায় দমবন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল মাশরফি মর্তুজাদের। এই জায়গা থেকে শুরু করে সাকিব-মাহমুদউল্লাহ জুটি ২২৪ রানের পার্টনারশিপ গড়ে। যা বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে রেকর্ড। মোসাদ্দেক হোসেনের শট থার্ডম্যান বাউন্ডারিতে পৌঁছতেই গ্যালারির সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। গ্যালারি তখন ভরে গিয়েছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের শয়ে শয়ে পুতুল ও জাতীয় পতাকায়।

সাকিব ১১৪ রান করে বোল্টের বলে বোল্ড হয়ে যান ১১টা চার ও একটা ওভারবাউন্ডারি মেরে। মাহমুদউল্লাহ ১০২ রানে অপরাজিত থেকে যান আটটা বাউন্ডারি ও জোড়া ছয় হাঁকিয়ে।  

এই জয়ের ফলে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শেষ চারে ওঠার দৌড়ে টিকে রইল বাংলাদেশ। শনিবার (আজ) তারা আধীর আগ্রহে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকবে। স্টিভ স্মিথরা হেরে গেলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শেষ চারে পৌঁছে যাবে বাংলাদেশই। ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলে অবশ্য শেষ চারে উঠে যাবে অস্ট্রেলিয়া।   

আনন্দবাজার পত্রিকায় আরও লেখা হয়েছে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগেই আয়ারল্যান্ডে তারা যা করেছিল, সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল এ দিন সোফিয়া গার্ডেনে। দুই তারকার অসাধারণ ব্যাটিংয়ের সামনে মাথা নত করতে হল টিম সাউদি, ট্রেন্ট বোল্টের মতো পেসারদেরও। ঠাণ্ডা মাথায় তাঁদের মোকাবিলা করে ২২৪ রানের পার্টনারশিপ তো গড়েনই তাঁরা, সাকিব ছয় ও মাহমুদউল্লাহ চার হাঁকিয়ে সেঞ্চুরিও করেন। নিউজিল্যান্ডের তোলা ২৬৫ রান টপকাতে তাদের লাগল ৪৭.২ ওভার।

অসাধারণ জয়ের পর সাকিব বলেন, ‘‘আমরা কথায় নয়, কাজে বেশি বিশ্বাসী। টার্গেটের কথা ভেবে ব্যাট করিনি। ৪০ ওভার টিকে থাকতে হবে আমাদের, এটাই মাথায় ছিল। সুইং ঠিকমতো সামলাতে পেরেছি। মারার বলগুলোও মারতে পেরেছি। ’’

আর পাশে দাঁড়ানো মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘‘আমরা ক্রিজে একে অপরের সঙ্গ উপভোগ করছিলাম। শুরুর দিকে বল যখন খুব সুইং করছিল, তখন একটু খেলতে অসুবিধা হচ্ছিল। কিন্তু ওই সময় ঠিকমতো সামলে নেওয়ায় পরের দিকে আর কোনও অসুবিধা হয়নি। ’’ 

নিজেদের দল নিয়ে সাকিব এ দিন বলেন, ‘‘গত দু’বছর ধরে আমরা এই দিনটা আনার জন্য প্রচুর চেষ্টা করেছি। আজ সেই চেষ্টা মনে হল সফল হয়েছে। ’’ 

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

 

১০ জুন, ২০১৭ ১২:২১:১৬