ছাত্রীর আপত্তিকর ভিডিও বানিয়ে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
নারীদের জুতার সঙ্গে তুলনা করে ক্লাসে উদাহরণ দেন ঢাকা স্টেট কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজাউল হক। এমনকি ক্লাস নেওয়ার সময় মেয়েদের শরীরে আপত্তিকর স্পর্শ করারও অভিযোগ রয়েছে। তাই যৌন নিপীড়ন ও অশ্রাব্য ভাষা প্রয়োগের প্রতিকার চেয়ে অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন কলেজের ৪৯ ছাত্রী।

শ্রেণিকক্ষে মেয়েদের নিয়ে বাজে বাজে উদাহরণ দিয়ে পাঠদানসহ ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নয়টি অভিযোগ উল্লেখ করেছেন তারা। এমনকি ছাত্রীদের আপত্তিকর ভিডিও বানিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেন ওই শিক্ষক। জানা গেছে, রেজাউল হক দীর্ঘদিন ধরেই কলেজের ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করে আসছেন। তবে ভয়ে কেউই প্রতিবাদ করত না।

এক পর্যায়ে ২০০৮ সালে এক ছাত্রীর অভিভাবক ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। পরে তা সুকৌশলে মোকাবিলা করে পার পেয়ে যান। শুধু তাই নয়, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ওই অভিযোগ ধামাচাপাও দেন এ শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ২০০৮ সালের অভিযোগের পর কিছু দিন এ কাজ থেকে বিরত থাকলেও ফের ছাত্রীদের সঙ্গে একই আচরণ শুরু করেন শিক্ষক রেজাউল হক।

তাই এক পর্যায়ে গেল সেপ্টেম্বরে কলেজের একটি শাখার ৪৯ ছাত্রী কলেজ অধ্যক্ষ বরাবর এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জানান। ছাত্রীরা মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করেন ওই অভিযোগপত্রে। এতে উল্লেখ করা হয়, রেজাউল হক শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীদের সঙ্গে অস্বস্তিকর এবং অপমানজনক আচরণ করেন। এ কারণে ছাত্রীরা মানসিকভাবে বিপর্যন্ত। তারা ওই শিক্ষকের অশালীন আচরণের কিছু নমুনাও তুলে ধরেন।

ছাত্রীরা জানান, রেজাউল হক ছাত্রীদের বিশেষ বিশেষ স্থানে বাজেভাবে স্পর্শ করতেন। পাঠদানের সময়ও বাজে বাজে উদাহরণ দিতেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ছাড়াও ছাত্রীদের দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকানো, ক্লাসে চলাফেরার সময় বিভিন্নভাবে তাদের স্পর্শ করার চেষ্টা, বিভিন্ন সময় নারীদের জুতার সঙ্গে তুলনা করাসহ নানাভাবে অশোভন আচরণ করেন এ শিক্ষক।

তবে এসব আচরণের বিরুদ্ধে কথা বলা বা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার দিলে সব ছাত্রীর আপত্তিকর ভিডিও বানিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেন তিনি। অভিযোগ প্রসঙ্গে সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজাউল হক বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র, সাজানো অভিযোগ।’ ষড়যন্ত্র কেন, প্র্রশ্নের জবাবে ওই শিক্ষক বলেন, ‘গত বছর শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে নামার অনুমতি না দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ।’

তবে ২০০৮ সালে শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আপনি সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন, সেটাও কি ষড়যন্ত্র? কিছুক্ষণ চুপ থেকে তিনি বলেন, ‘না ওটা শেষ পর্যন্ত প্রমাণ হয়নি।’ এদিকে ছাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক একটি তদন্ত করে। এতে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় রেজাউল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি তদন্তাধীন।

এ কমিটিতে আছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার বেগম সানজিদা পারভীন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডিন কারিকুলাম) প্রফেসর মো. বিন কাশেম ও ঢাকা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খান রফিকুল ইসলাম। এ বিষয়ে ঢাকা স্টেট কলেজের অধ্যক্ষ দিলওয়ারা ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবহিত। কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’

১৬ মে, ২০১৯ ০৯:৪১:৪৮