ঐক্যফ্রন্ট স্থবির : বেরিয়ে যেতে পারেন কাদের সিদ্দিকী
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তো দূরে থাক, প্রায় এক মাস ধরে নেই কোনো বৈঠক। কর্মসূচির তো বালাই নেই। এমনকি গণমাধ্যমেও আসে না কোনো বিবৃতি। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ভোটের আগে হইচই ফেলে দেওয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বর্তমান অবস্থা এটি। জাতীয় নির্বাচনের পর পুনঃভোটের দাবিতে সপ্তাহখানেক সরব থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় প্রায় ঝিমিয়ে পড়েছে ঐক্যফ্রন্ট। ফ্রন্টের প্রধান দল বিএনপি নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বেকায়দায় রয়েছে। দল শক্তিশালী করছে গণফোরাম। চুপচাপ ফ্রন্টের বাকি শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও নাগরিক ঐক্য। নিজেদের কর্মকান্ড চরম নাখোশ কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ আজই সংবাদ সম্মেলন করে ফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিতে পারে। এ অবস্থায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কার্যত স্থবির ও মৃতপ্রায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নামেমাত্র আর জিইয়ে থেকে লাভ কী?

ফ্রন্ট নেতৃত্বাধীন বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে কিছুটা আবেদন থাকলেও এখন একেবারেই ঐক্যফ্রন্টের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেছে। এখন ফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে নিজেদের মনোযোগ দেওয়াই বিএনপির মোক্ষম সময়। তবে ঐক্য টিকিয়ে রাখার পক্ষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

কর্মকান্ড স্থবির থাকার কারণ হিসেবে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের দাবি, ঢাকায় কোনো মিটিং করতে দিচ্ছে না সরকার। বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে আরও সময় নিচ্ছে। তবে এমন অজুহাতে অনেকেই বেশ ক্ষুব্ধ। 

এদিকে ফ্রন্টের শরিক বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে। সেখান থেকে জোট ছাড়ার ঘোষণা আসতে পারে। আর জোট ছাড়ার ঘোষণা হলে আরও কোণঠাসা হতে পারে ঐক্যফ্রন্ট। তবে কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ নিয়ে চিন্তিত নন নাগরিক ঐক্যের আহ্বয়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। সময়ের আলোকে তিনি বলেন, কাদের সিদ্দিকী চলে গেলে ফ্রন্টে তেমন প্রভাব পড়বে না। আমি মনে করি, ঐক্যকে আরও বৃহৎ করার চেষ্টা চালানো উচিত। তবে সবার আগে বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। তারা ঘুরে না দাঁড়ালে ফ্রন্ট ঘুরে দাঁড়বে না। 

এখন ঐক্যফ্রন্টের কোনো কার্যক্রম নেই উল্লেখ করে মান্না বলেন, আপাতত জোটের সব দলই নিজেদের গোছাতে ব্যস্ত। টানাপড়েন কিছুটা চলছে, তবে সংকট মিটিয়ে ঐক্যফ্রন্টকে কার্যকর করতে হবে। সার্বিক পরিস্থিতিতে জোট টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আলোচনা শুরু হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন বলেন, না, এখনও শুরু হয়নি। দলের সাংগঠনিক কিছু কাজ বাকি, সেগুলো শেষ হতে হবে আগে।

সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিএনপির ওপর ক্ষুব্ধ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। জাতীয় নির্বাচনের আগেই ঐক্যফ্রন্টের ভেতরে মতবিরোধ দেখা দেয়। সে মতবিরোধ এখনও আছে এবং এ কারণে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়া যাচ্ছে না। তবে বিএনপি সূত্রমতে, ঐক্যফ্রন্টকে যেকোনো মূল্যে টিকিয়ে রাখার পক্ষে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। 

ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বলছেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করার মধ্য দিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক জোটের যে অবস্থান ছিল, সংসদে বিএনপির অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তা পুরোপুরি প্রশ্নবিদ্ধ হলো। ক্রমেই ফিকে হয়ে যাচ্ছে পুনঃভোটের দাবি। সে হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। 

এ বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সময়ের আলোকে বলেন, এই কঠিন সময়ে আমি ঐক্যফ্রন্টকে টিকিয়ে রাখার পক্ষে। ফ্রন্টের পরবর্তী মিটিংয়ের অপেক্ষায় আছি। কিন্তু আপাতত কোনো মিটিং হচ্ছে না। ঐক্যে অনৈক্য দেখা দিলে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধান করা উচিত। এখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঐক্যকে মেরামত করাই বড় কাজ। 

এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান সময়ের আলোকে বলেন, বিএনপির শপথের পর দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের ইউটার্ন নিয়েছে। বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এ অবস্থায় ঐক্যফ্রন্টের আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই। তার দাবি, যে উদ্দেশ্য নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কোনো রোডম্যাপ নেই। দীর্ঘদিন ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক হয় না। এভাবে চলতে থাকলে ফ্রন্ট জনগণের কোনো কাজে আসতে পারবে না। এমন পরিস্থিতিতে ফ্রন্টের শরিকরা যে যার মতো করে বেরিয়ে যেতে পারে।

০৯ মে, ২০১৯ ০৯:২৪:৩৫