ওরা আমাকে ‘পাগল’ বলার চেষ্টা করছেন
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
‘ওয়াসার লোকের পরিচয়ে একদল মানুষ হুট করে আজ পূর্ব জুরাইনে আমার শশুর বাড়ির ঠিকানায় আসেন। সেখানে আমার স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শাশুড়ি ছিলেন। ওয়াসার প্রকৌশলী পরিচয়ে তারা অনুমতি ছাড়াই বাসার ভেতরে ঢুকে যান এবং ভিডিও করতে থাকেন। আমি তখন বাড়ির বাইরে ছিলাম। গতকাল বিকেলেও পাঁচ-ছয় জন মানুষ ওই বাসায় আসে। তারা উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকে ও ছবি তোলে। আমি অস্বস্তিতে আছি।’—বলেন মিজানুর রহমান। ২৪ এপ্রিল (বুধবার) সন্ধ্যায় টেলিফোনে কথাগুলো এই প্রতিবেদককে জানাচ্ছিলেন ওয়াসার এমডিকে শরবত পান করানোর কর্মসূচির ডাক দেওয়া রাজধানীর জুরাইন এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘এলাকার পানি সমস্যার বিষয়টি তো আমার ব্যক্তিগত সমস্যা না। এটি পুরো এলাকার সমস্যা। কিন্তু উনারা বিষয়টিকে আমার ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে নিয়ে আমাকে ‘পাগল’ বলার চেষ্টা করছেন। গতকাল সারাদিন আমাদের  সঙ্গে দেখা দিলেন না ওয়াসার এমডি। তবে আজ তিনি  গণমাধ্যমের কাছে বলেছেন আমি পাগল নয়তো কেউ আমাকে উসকাচ্ছে।’

মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বাসার ঠিকানা দিয়ে এসেছি কিন্তু উনারা যাচ্ছেন আমার শশুরবাড়ির ঠিকানায়। গত ৮ বছর ধরে আমি পূর্ব জুরাইন এলাকার পানি সমস্যা সমাধানে দৌঁড়াচ্ছি। ২০১২ সালে এলাকার তিন হাজার মানুষের গণস্বাক্ষর নিয়ে বর্তমান এই এমডির কাছেই জমা দিয়েছিলাম। ৮ বছর ধরে তিনি ওই পদেই আছেন। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি। উল্টো এখন আমাকেই পাগল বলছেন।  এলাকার মানুষ জানে আমি একজন সমাজসেবক। আমার নিজের কোনো স্বার্থ নেই। শুধু সমস্যার সমাধান চাই। এলাকার সবার সঙ্গে আজ বসে সিদ্ধান্ত নেব-এখন আমি কী করবো।’

গত ২০ এপ্রিল  রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খান দাবি করেছিলেন, ঢাকা শহরের অধিকাংশ মানুষ ফুটিয়ে নয় সরাসরি ওয়াসার ট্যাপের পানি পান করেন। আর ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়।

এই বক্তব্যের দুইদিন পরই  সেই ‘সুপেয়’ পানিতে ওয়াসার এমডিকে শরবত পান করানোর কর্মসূচির ডাক দেন রাজধানীর জুরাইন এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান। তার সঙ্গে আসেন স্ত্রী শামীম হাশেম খুকি ও তাদের মেয়ে। এছাড়া একই এলাকা থেকে আসেন মতিয়ার রহমান। পূর্ব রামপুরা থেকে যোগ দেন মনিরুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ওয়াসা ভবনের উল্টো দিকের বিএফডিসি ভবনের নিচে অবস্থান নেন তারা। সঙ্গে করে তারা নিয়ে আসেন ওয়াসার ‘সুপেয়’ পানিতে তৈরি শরবত। তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড।ওয়াসা ভবনের উল্টোদিকে এসেই তারা ওয়াসার পানি দিয়ে শরবত তৈরি করেন। লেবু-চিনির সেই শরবতই ওয়াসার এমডিকে পান করাতে চান তারা। কিন্তু ওইদিন বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তারা ওয়াসা পরিচালকের দেখা পাননি।

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০২:৪৩