কীভাবে নুসরাতকে মারা হয়েছিল - বাংলাদেশ পুলিশের ভাষ্য
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
ফেনীর সোনাগাজিতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার ষড়যন্ত্র কীভাবে করা হয়েছিল, কীভাবে তা কার্যকর হয়েছিল - পুলিশের কেন্দ্রীয় তদন্ত বিভাগের প্রধান তা সাংবাদিকদের বলেছেন।

৯ই এপ্রিল মামলাটি পাওয়ার পর গত পাঁচদিন ধরে তদন্ত করে পুলিশের কেন্দ্রীয় তদন্ত বিভাগ বা পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বলছে, তারা নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছে।

ফেনির সোনাগাজি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলার সূত্র ধরে ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে রাফির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ১০ই এপ্রিল সে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যায়। মামলাটি নিয়ে স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ ওঠার পর ৯ই এপ্রিল মামলাটি তদন্তের ভার দেয়া পিবিআই 'কে।

আজ ঢাকায় পিবিআই প্রধান বনজ কান্তি মজুমদার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তারা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছেন, এবং প্রধান আসামীদের ধরতে পেরেছেন।

হত্যার পরিকল্পনা কীভাবে হয়

বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ৫ই এপ্রিল সকালে মাদ্রাসার একটি হস্টেলে বসে রাফিকে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনা করা হয়। "মাদ্রাসার দুটো ছাত্রাবাসের একটিতে - পশ্চিম হস্টেল- বসে পাঁচজন মিলে রাফিকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে মারা পরিকল্পনা করা হয়।"

মি মজুমদার বলেন, দুটি কারণে তাকে হত্যার এই পরিকল্পনা হয়।

এক, হত্যাকারীরা মনে করেছে সে (রাফি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করে 'আলেম সমাজকে হেয় করেছে'। 

দ্বিতীয় কারণ, নুসরাত আসামীদের একজনের প্রেমের প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করায় ঐ ব্যক্তি তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল।

হত্যার এই পরিকল্পনা তারা মাদ্রাসার আরো পাঁচজন ছাত্রছাত্রীকে জানায় যাদের দুজন ছাত্রী। "একটি মেয়ের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয় তিনটি বোরকা এবং কেরোসিন জোগাড় করে আনার।"

বনজ মজুমদার বলেন, ৬ই এপ্রিল পরীক্ষার দিনে সকালে পরীক্ষা শুরুর কিছু আগে পরিকল্পনা অনুযায়ী ঐ দুই ছাত্রীর একজন অন্য এক ছাত্রীকে মারা হচ্ছে বলে নুসরাতকে ফুসলিয়ে মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে অপেক্ষারত অন্য কজন ওড়না পেঁচিয়ে তাকে বেঁধে ফেলে কেরোসিন ঢেলে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

বাইরে গেটে বেশ কজন পাহারায় ছিল। ঘটনা শেষে, কয়েকজন বোরকা পরে বেরিয়ে যায়।

বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ৬ই এপ্রিল তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় নুসরাত জাহান রাফি সন্দেহভাজনদের সম্পর্কে তার ভাইয়ের কাছে যে বিবৃতি দিয়েছিলেন, সেটা নিয়ে প্রথমে তাদের সন্দেহ হলেও পরে তাতে সত্যতা খুঁজে পেয়েছেন তারা।

রাফির এই 'উস্তাদ' কে?

"প্রথমে আমাদের সন্দেহ হয়েছিল এরকম শারীরিক অবস্থায় এ ধরনের বিবৃতি দেওয়া কী সম্ভব? সে আরো কিছু বলে কিনা তা জানতে আমাদের দুজন অফিসার হাসপাতালে রাতদিন ছিলেন। মূর্ছার মধ্যে সে যা বলার চেষ্টা করেছে, সে সব বক্তব্যের সাথে তার ভাইকে দেওয়া বক্তব্যের মিল রয়েছে।"

মি মজুমদার বলেন, ঘোরের মধ্যে রাফি মাঝে মধ্যে 'উস্তাদ' শব্দটি বলতো । "এই উস্তাদটি কে আমরা তা বের করার চেষ্টা করবো।"

পিবিআইয়ের প্রধান বলেন, নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকাণ্ডের সাথে তারা এখন পর্যন্ত ১৩ জনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছেন। এই ১৩ জনের মধ্যে একজন নারী সহ আটজন আটক হয়েছেন।

"এরা ভেবেছিল তারা ঘটনা সামাল দিতে পারবে। কারণ আগেও রাফির গায়ে চুনকালি মাখিয়েছিল তারা, তার জন্য রাফিকে পাহাড়তলি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল । সে ঘটনা তারা সামলেছিল। তারা ভেবেছিল এবারও তারা পারবে।" -বিবিসি বাংলা

১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ২২:৫০:২৭