তিন দশক পর সক্রিয় ডাকসু: অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভিসির পদত্যাগ চাইল ছাত্রদল
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর সক্রিয় হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু) এবং হল সংসদসমূহ। গত এগারো মার্চ অনুষ্ঠিত কেন্দ্রী সংসদ ও হল সংসদের নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ এবং পুন:নির্বাচনের দাবীকে অমিমাংসিত রেখেই ডাকসুর নবনির্বাচিত নির্বাহী কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল শনিবার।

পদাধিকার বলে ডাকসুর সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামনের সভাপতিত্বে নির্বাহী কমিটির প্রথম সভায় আবাসিক হলগুলোতে মেধা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ দেয়া, অছাত্র ও বহিরাগতদের হল ছাড়া করা এবং  ক্যাম্পাসে রিকশা ভাড়া নির্ধারণ সহ  শিক্ষার্থীদের  স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি  প্রস্তাব গৃহিত হলেও ডাকসুতে প্রধানমন্ত্রীকে আজীবন সদস্য পদ দেয়া নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সুত্রপাত হয়েছে।

ডাকসু নির্বাচনের আয়োজনে সহযোগিতা করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আজীবন সদস্য পদ দেয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করে  ছাত্রলীগের সদস্যরা। তবে একটি  ত্রুটিপূর্ণ ও বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত ডাকসুতে প্রধানমন্ত্রীকে আজীবন সদস্য পদ দেয়ার  প্রস্তাবকে বিরোধীতা করেন নতুন দায়িত্ব নেয়া ভিপি  নুরুল হক নুর। এ সময় নুরুল হক নুর  ছাত্রদের দাবীর সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে জানান, ডাকসুতে নতুন তফসিল ঘোষনা করে পুন:নির্বাচন  দিতে হবে।

সভা শেষে ভিসি প্রফেসর ড. মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি নির্বাচিত ছাত্র সংসদের কার্যপরিচালনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

১৮টি হল সংসদের অভিষেক:

এদিকে গতকাল ডাকসুর সাথে ১৮টি হল সংসদেরও অভিষেক অনুষ্ঠান ও প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলের মধ্যে ৯টি হলেই ছাত্রলীগ পূর্ণাঙ্গ প্যানেল জয়ী হয়। সংশ্লিষ্ট  হলের প্রভোস্টগণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এর আগের দিনই হল সংসদের কার্য পরিচালনার জন্য একজন হাউজ টিউটরকে কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া হয়। হল সংসদের বৈঠকে নির্বাচিত নেতারা সংশ্লিষ্ট হলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করছেন,নতুন ছাত্রসংসদ  তাদের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং   ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকবে।

এদিকে, ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের সাথে জড়িতদের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রদল।  ছাত্রদলের দাবি, ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, এটা স্পষ্ট। এর দায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে পদত্যাগ করতে হবে। এছাড়া, যারা এই নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির সাথে জড়িত ছিল সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ সময় সেখানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

লাল কার্ড প্রদর্শন প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্যের:

তাছাড়া,  ডাকসুর বৈঠক চলাকালে ডাকসুতে দায়িত্ব নেয়া নির্বাচিতদের ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি লাল কার্ড প্রদর্শন করেছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট ও সম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্রঐক্য। তারা ডাকসু ভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় তফসিল ও নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবি জানায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র মৈত্রী, ছাত্রফ্রন্টসহ বিভিন্ন বাম ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

২৪ মার্চ, ২০১৯ ২৩:২২:২৯