অব্যাহতির আবেদন করেননি কেন?...খালেদার প্রশ্ন
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট


নাইকো দুর্নীতির মামলায় কেন অব্যাহতির আবেদন দেওয়া হয়নি বলে আইনজীবীদের কাছে জানতে চেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) দুপুরে পুরান ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানি শেষে খালেদা জিয়া আইনজীবীদের কাছে জানতে চান, এ মামলা থেকে তাকে অব্যাহতির আবেদন দেওয়া হয়নি কেন? উত্তরে আইনজীবী এ জে এম মোহাম্মদ আলী তাকে জানান, সব ডকুমেন্ট এখনো হাতে পাওয়া যায়নি। সব ডকুমেন্ট পাওয়ার পর অব্যাহতির আবেদন করা হবে।

এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কী যে করে আইনজীবীরা। এত দিন হলো, এখনো অব্যাহতির আবেদন দিতে পারেননি।

ঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বেলা ১টার দিকে আবারও কারাগারে নেয়া হয় তাকে। এর আগে বিচারক খালেদার আইনজীবীদের বলেন, চার বছর ধরে মামলাটির অভিযোগ গঠনে শুনানি চলছে। আপনারা বেগম জিয়ার পক্ষে অব্যাহতি চেয়ে এখনো কোনো আবেদন দেননি।

এ বিষয়ে খালেদার আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা মামলার প্রয়োজনীয় কাগজ পাইনি। কাগজ ছাড়া আমরা অব্যাহতির আবেদন লিখতে পারি না।

এ দিন খালেদার পক্ষে মামলাটির অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানি শুরু হওয়ার আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আদালতে উপস্থিত হন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় নাইকো দুর্নীতি মামলাটি করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

 


১৯ মার্চ, ২০১৯ ২০:১৩:৫২