‘হত্যাকারী আমার ভাই, তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি’
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
ক্রাইস্টচার্চে হামলার সময় আল নুর মসজিদে নামাজ পড়ছিলেন ফরিদ আহমেদ। মসজিদে হামলার ঘটনা শুনেই ফরিদ আহমেদের স্ত্রী হুসনা আহমেদ হুইলচেয়ারে চলাফেরা করা স্বামীকে উদ্ধারে ছুটে যান। সন্ত্রাসী হামলায় স্বামী ফরিদ আহমেদ বেঁচে গেলেও বাঁচতে পারেননি স্ত্রী। কিন্তু এতকিছুর পরেও হত্যাকারী ব্রেন্টন ট্যারান্টকে ক্ষমা করে দিয়েছেন হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ফরিদ।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি ওই ব্যক্তিকে ভালোবাসি কারণ তিনি মানুষ, আমার ভাই। সম্ভবত কোনো কারণে সে আহত। তার জীবনে সম্ভবত কোনো কিছু ঘটেছিল। আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং আমি নিশ্চিত আমার স্ত্রী জীবিত থাকলে তিনিও তাই করতেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা সন্ত্রাসী হামলা চালায়, তারা চায় লোকজন ভয় পাক। তারা এক গোষ্ঠীর সঙ্গে অন্য গোষ্ঠীর উত্তেজনা তৈরি করতে চায়। হয়তো তারা ভাবে, যদি তারা মুসলমানদের আঘাত করে, তাহলে মুসলমানরা নিশ্চয়ই প্রতিশোধ নেবে। কিন্তু আমরা মুসলিম নেতারা বলছি, এমনটা হবে না। এসব হামলার কারণে আমরা কাউকে ভীত হতে বা অন্যদের ঘৃণা করতে দেব না।’

হামলার সময় ফরিদ আহমেদ নিজেকে রক্ষা করতে পেরেছিলেন। ঘটনা বুঝতে পেরেই তিনি একটি গাড়ির পেছনে লুকিয়ে যান। গুলি চালিয়ে ব্রেন্টন চলে যাওয়ার পর হুইলচেয়ারে করেই তিনি মসজিদের ভেতরে যান এবং আহত ও জীবিতদের সাহায্য করেন। লাশের স্তূপ সরিয়ে আহতদের কাছে যাওয়া তার জন্য অনেক কষ্টকর ছিল। ছয় বছর আগে গাড়ি দুর্ঘটনায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন ফরিদ। ১৯৮৮ সালে তিনি নিউজিল্যান্ডে যান। স্ত্রীকে নিয়ে অনেক গর্ব ফরিদের। তার স্ত্রী কমিউনিটিতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতেন। মসজিদে শিশুদের পড়াতেন। স্ত্রী অন্যদের বাঁচাতে নিজের জীবন দিয়েছেন এবং এটাই ছিল তার শেষ কাজ।

হামলার সময়ের বর্ণনায় ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘চারপাশে রক্ত। আহত লোকজন পড়ে আছে। লাশ পড়ে রয়েছে। লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক। একজন অন্যজনকে ধাক্কা দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করছেন। তিনি ভাবছিলেন, তিনি কীভাবে বের হবেন। তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে ক্রাইস্টচার্চে আল নুর মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসল্লিদের ওপর প্রথমে সন্ত্রাসী হামলা হয়। কিছু পরে লিনউড মসজিদে দ্বিতীয় হামলা হয়।

১৯ মার্চ, ২০১৯ ০৯:৩৯:০০