৫ দফা দাবিতে আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা, বিপাকে কর্তৃপক্ষ
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
দীর্ঘ আটাশ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করে সংকটের মুখে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সোমবার অনশনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠককালে আশ্বাস দিয়েছেন, তদন্ত কমিটি করে অনিয়মগুলো খতিয়ে দেখা হবে। বৈঠকে অনশনকারী শিক্ষার্থীরা ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের নানা অনিয়মের প্রমাণ ভিসির হাতে তুলে দেন।

তবে ভিসি বলেছন, ডাকসুর আগের নির্বাচনগুলোতে বেশি অনিয়ম হয়েছে। সংঘর্ষ ও খুনের ঘটনাও ঘটেছে। সে তুলনায় এবারের নির্বাচনে অনিয়মগুলো স্বাভাবিক। এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ফল বাতিল এবং পুনঃতফসিল ঘোষণাসহ পাঁচ দফা দাবিতে দুপুর থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভিসি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

সকাল এগারোটার দিকে রাজু ভাস্কর্য থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ভিসির কার্যালয়ের সামনে এসে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় আন্দোলনকারীরা ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানায়। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেয় নির্বাচন বর্জনকারী প্যানেলগুলো। এরপর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের সাথে কথা না বলার জন্য ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানকে ধিক্কার জানিয়ে বিকেল ৫ টায় এ অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করেন।

এ সময় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ডাকসুর জিএস প্রার্থী রাশেদ খান জানিয়েছেন, নির্বাচনে অংশ নেয়া পাঁচ প্যানেল সম্মিলিতভাবে বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করবে।

এর আগে রোববার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নবনির্বাচিত ‌ভি‌পি নুরুল হক নুর বলেছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা যে দাবি তুলেছে, আমরা দেখেছি নির্বাচনে অনিয়ম কারচুপি হয়েছে। সে জায়গা থেকে বিভিন্ন প্যানেল ও প্রার্থীরা যে দাবি তুলেছে তার সাথে আমরা একাত্মতা পোষণ করছি। ডাকসুতে যে নির্বাচন হয়েছে সে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। এই নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কালিমা লেপে দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, নির্বাচন আবার দিতে হবে। যেখানে অবাধ ও সুষ্ঠু একটি নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে বিভিন্ন পদে থেকে যারা ভূমিকা রেখেছে তাদেরও পদত্যাগ করে করতে হবে।’

নূর বলেন, ‘আমরা আমাদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করছি। আমরা শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন চাই।'

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন চাওয়া-পাওয়ার কথা বলার পাশাপাশি নির্বাচনে যে অনিয়ম কারচুপি হয়েছে সেসবও তার দৃষ্টিতে দিয়েছি।’

সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের পাঁচ দফা দাবি ঘোষণা করেন। দাবিগুলো হচ্ছে, জালিয়াতির ডাকসু নির্বাচন বাতিল করতে হবে; পুনরায় তফসিল ঘোষণা করতে হবে; এই নির্বাচনের সাথে জড়িত রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ ভিসির পদত্যাগ করতে হবে; মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে; হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করতে হবে।  

গত ১১ মার্চ  অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ২৫টি পদের মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) ও সমাজসেবা সম্পাদক ছাড়া অন্য ২৩টি পদে জয় পায় ছাত্রলীগ মনোনিত প্যানেলের প্রার্থীরা।

নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রলীগ ছাড়া অন্যসব প্যানেল ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়। এরপরই নির্বাচনে অংশ নেয়া পাঁচটি প্যানেলের প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।

 

১৮ মার্চ, ২০১৯ ২৩:১৪:১৭