কে এই হামলাকারী, কেন এই হামলা
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় প্রায় অর্ধশত প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে; ওই হামলার দায় এখনও কেউ স্বীকার না করলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে তার পরিচয় ও হামলার উদ্দেশ্য। হামলাকারীর করা ভিডিও লাইভে দেখা গেছে, গাড়ির পেছনে রাখা স্বয়ংক্রিয় শটগান ও রাইফেল। এর মধ্যে দুইটি অস্ত্রই হাতে নেন তিনি। সেটা নিয়েই হেঁটে হেঁটে প্রধান ফটক দিয়ে মসজিদ প্রাঙ্গণে ঢোকেন। এসময় মসজিদের ভেতরে প্রবেশ গেটের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন একজন। প্রথমে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গেটের সামনেই পড়ে যায় লাশ।

এরপর ভেতর ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালাতে থাকেন ওই ব্যক্তি। গুলিতে মানুষের লাশ পড়তে থাকে। বাঁচার জন্য আর্তচিৎকার করতে থাকে মানুষ। মারা যাওয়ার আগে গোঙানির আওয়াজ শোনা যায়। গুলি শেষ হয়ে গেলে আবারো গুলি লোড করেন হামলাকারী। শুধু তাই নয়, ওই হামলাকারী ঘুরে ঘুরে লাশের উপরও গুলি চালাতে থাকেন। গাড়ি নিয়ে রাস্তায় উঠে সেখানেও নির্বিচারে গুলি চালান। এমনই এক ভয়ঙ্কর দৃশ্যের অবতারণা হয় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে। বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে ক্রাইস্টচার্চে আল নূর নামের মসজিদে এই হামলা হয়। আল নূর ছাড়াও হামলা হয়েছে ক্রাইস্টচার্চের আরেকটি মসজিদেও। এতে সব মিলিয়ে ৪৯ জন নিহত হয়। নিউজিল্যান্ডের সংবাদ মাধ্যম এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ২৮ বছর বয়সী ওই হামলাকারী একজন শ্বেতাঙ্গ। তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছেন। দুই বছর ধরে হামলার পরিকল্পনার ছিল তার।

ডেইলি স্টার জানিয়েছে, হামলা চালানোর আগে ৯৪ পৃষ্ঠার একটি ঘোষণাপত্র ছড়িয়েছেন তিনি। এতে ওই যুবক নিজেকে ব্রিন্টন ট্যারান্ট বলে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি 'সন্ত্রাসী হামলায় হাজার হাজার ইউরোপীয়ানের প্রাণহানির' প্রতিশোধের প্রতিজ্ঞার কথা জানিয়েছেন ওই ঘোষণাপত্রে। ওই ঘোষণাপত্রে হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি বলেন, 'আমাদের ভূমি কখনই তাদের ভূমি নয়। যতদিন পর্যন্ত শ্বেতাঙ্গরা বেঁচে থাকবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের বাসভূমি আমাদের। তারা কখনই আমাদের ভূমি দখল বা আমাদের মানুষদের ভূমি ত্যাগ করাতে পারবে না।'

২০১১ সালের নরওয়েতে হামলা চালিয়ে ৭৭ জনকে হত্যার ঘটনাটিকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ক্রাইস্টচার্চের হামলাকারী। তার ভাষ্যমতে, সুইডেনে হামলার প্রতিশোধ তার এই হামলা। 

হামলার সময় মাথার সঙ্গে লাগানো একটি বিশেষ ক্যামেরা দিয়ে ওই ঘটনা ফেসবুকে লাইভ প্রচার করেন হামলাকারী। আল নূর ছাড়া অন্য মসজিদটিতে কে হামলা চালিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওই মসজিদের হতাহতের সংখ্যা নিয়েও তথ্য পাওয়া যায়নি। এই হামলাকে সন্ত্রাসী হামলা উল্লেখ করে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আডের্ন বলেছেন, সন্ত্রাসীদের স্থান নিউজিল্যান্ডে নেই। 

১৬ মার্চ, ২০১৯ ০৮:৪৩:৫৭