রাব্বানীর বিরুদ্ধে অনশনরত ছাত্রীদের হেনস্তার অভিযোগ
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসু নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনা কমছে না; বরং নতুন ইস্যুতে ছড়িয়ে পড়ছে উত্তাপ। নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে চার প্রার্থীর আমরণ অনশন শুরুর এক দিন পর বুধবার সন্ধ্যা থেকে পুনর্নির্বাচনসহ বেশকিছু দাবি আদায়ে রোকেয়া হলের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন হলটির পাঁচ ছাত্রী। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ডাকসু জিএস পদে বিজয়ী প্রার্থী গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, অনশনকারী এসব ছাত্রী ও তাদের সমর্থনকারীদের তিনি দলবলে হেনস্তা করেছেন। এ অভিযোগের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন অনশনকারী ছাত্রীরা। তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অনশনরত ছাত্রীদের হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অনশনকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও। এদিকে রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ গতকাল দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়েছেন, অনশনরত ছাত্রীদের হেনস্তার বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। তিনি এ-ও জানিয়েছেন, হলের গেটের বাইরে হেনস্তার ঘটনা তার উদ্বেগের কারণ নয়। তিনি উদ্বিগ্ন হলের শিক্ষার্থী যারা হলের বাইরে অনশন করছে, তাদের হলের ভেতরে নিয়ে যাওয়া। সর্বশেষ, হল প্রভোস্টের পদত্যাগ ও হল সংসদ নির্বাচনের পুনতফসিল ঘোষণায় ২৪ ঘণ্টা সময় বেধে দিয়ে অনশন স্থগিত করেছেন রোকেয়া হলের ৫ ছাত্রী। প্রক্টর গোলাম রাব্বানী, রোকেয়া হলের প্রভোস্ট জিনাত হুদা, ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর, জিএস গোলাম রাব্বানী, এজিএস সাদ্দাম হোসেন ও হলের টিউটররা এসে তাদের অনশন তুলে নেওয়ার আহ্বান জানালে গতকাল রাত সোয়া ৯টার দিকে তারা এ ঘোষনা দেন। 

এদিকে ভিপি পদে দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে গতকাল রাত পর্যন্ত কিছু বলেননি নুরুল হক নুর। পুনর্নির্বাচনের দাবিতে তার দেওয়া তিনদিনের আলটিমেটাম শেষ হবে আজ। এর পরই তিনি তার সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

ডাকসু নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে একদিকে যখন চলছে আমরণ অনশন, বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি, অন্যদিকে তখন চলছে ডাকসুর নতুন নেতৃত্বের অভিষেক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিও।

পুনরায় ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন, হল প্রভোস্টের পদত্যাগ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার দাবিতে বুধবার সন্ধ্যা থেকে আমরণ অনশনে বসেন রোকেয়া হলের পাঁচ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে চারজন ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন পদের প্রার্থী। হলের প্রধান ফটকের সামনে অনশন শুরুর পর তাদের সমর্থন জানিয়ে হলের ফটকের ভেতরে ও বাইরে অবস্থান নেন অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাত দেড়টার দিকে মোটরসাইকেলে করে শতাধিক নেতাকর্মীসহ রোকেয়া হলের সামনে আসেন গোলাম রাব্বানী। তিনি অনশনস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রক্টরকে বলেন, ‘হলের কিছু মেয়ে মধ্যরাতে গেট খুলে বাইরে অবস্থান করে অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘিœত করছে। এরা খুব বাড়াবাড়ি করছে স্যার। এদের সবগুলোর ফাইল দেখে চিহ্নিত করে, গার্ডিয়ান ডেকে এনে স্থায়ীভাবে একাডেমিক বহিষ্কার করেন।’ 

এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইশরাত কাশফিয়া ইরা, বর্তমান সভাপতি ও ডাকসুর কমনরুম-বিষয়ক সম্পাদক লিপি আক্তার, হল সংসদের সদস্য সুরাইয়া আক্তারসহ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেত্রী। রাব্বানী অনশনকারীদের কয়েকজন সমর্থক, যারা হলের গেটে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাদের দেখিয়ে ছাত্রলীগ নেত্রীদের প্রশ্ন করেন, ‘রাত দুইটার দিকে বোরকা, নেকাব পরা এরা কারা? ছাত্রী সংস্থা? শিবিরের কর্মী? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের অবস্থান নিষিদ্ধ।’

অনশনকারী শ্রবণা শফিক দীপ্তি জানান, চার দাবিতে তারা অনশন করছিলেন। বুধবার রাতে গোলাম রাব্বানী তার নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে গিয়ে তাদের এবং সমর্থনকারীদের হেনস্তা করেন। -আমাদের সময়

১৫ মার্চ, ২০১৯ ০৯:১১:০০