শামীমা বেগমের বিষয়টি বাংলাদেশের কোন বিষয় নয় বললেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
শামীমা বেগম ও তার সদ্যোজাত ছেলে সিরিয়ায় একটি শরণার্থী শিবিরে বাস করছেন।
পনের বছর বয়সে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএসে যোগ দেয়া শামীমা বেগম ব্রিটিশ নাগরিকত্ব হারাতে পারেন বলে জানিয়েছেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে যেহেতু তার বয়স ১৯ হয়েছে, তাই তিনি অন্য দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য। সে কারণেই শামীমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে শামীমা বেগম বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত, যদিও বিবিসিকে তিনি বলেছেন তার কখনই বাংলাদেশী পাসপোর্ট ছিল না এবং তিনি কখনই বাংলাদেশে যাননি। ব্রিটেনে সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত আইনের সাবেক পর্যালোচনাকারী লর্ড কার্লাইল বলেছেন শামীমা বেগমের মা যদি বাংলাদেশী হয়ে থাকেন- যেটা তাদের ধারণা - তাহলে বাংলাদেশী আইন অনুযায়ী শামীমা বেগমও বাংলাদেশী হবেন। কিন্ত শামীমার বাংলাদেশী নাগরিকত্ব এবং বাংলাদেশে তার আশ্রয় লাভের সম্ভাবনার ব্যাপারে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ কতটা জানেন?

বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা কাদির কল্লোল ঢাকা থেকে জানাচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে এম আব্দুল মোমেন এবং পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক দুজনেই বলেছেন "শামীমা বেগমের বিষয়টি বাংলাদেশের কোন বিষয় নয়- এটি ব্রিটিশ সরকারের বিষয়। তার ব্যাপারে বাংলাদেশের কিছুই জানা নেই।"

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আজ (বুধবার) একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকাকে। তাতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে শামীমা বেগম বাংলাদেশী নাগরিক নন এবং তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেবার "কোন প্রশ্নই'' ওঠে না।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সরকার শামীমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের খবর সংবাদ মাধ্যম থেকে জেনেছে। মি: আলম বলেছেন, "শামীমা বেগমের দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে এমন তথ্য সঠিক নয় এবং এই ভুল খবরের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।''

"বাংলাদেশ স্পষ্ট ভাষায় জানাচ্ছে মিজ শামীমা বেগম বাংলাদেশী নাগরিক নন। তিনি জন্ম সূত্রে ব্রিটিশ নাগরিক এবং কখনই বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন নি। কাজেই তাকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেবার কোন প্রশ্নই নেই।''

অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে অন্য যারা আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় গেছেন - এখন খেলাফতের পতনের পর তাদের ফিরে আসার একটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বলেছেন সিরিয়ায় যারা ধরা পড়বে তারা যেদেশ থেকে সেখানে যুদ্ধ করতে গেছে, সেই দেশগুলোকে তাদের ফিরিয়ে নিতে হবে।

এই পটভূমিতে তাদের ব্যাপারে বাংলাদেশে কর্তৃপক্ষ কতটা তৈরি রয়েছেন?

বাঘুজ থেকে ট্রাকে করে আইএস যোদ্ধারা কুর্দী নেতৃত্বাধীন সিরিয় ডেমোক্রাটিক বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করছে।

বিবিসি বাংলার এ প্রশ্নে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী কেউ আইএস থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে যাবার চেষ্টা করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। বাংলাদেশের সেই প্রস্তুতি রয়েছে। পুলিশের একাধিক সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কাদির কল্লোলকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ থেকে সিরিয়া গিয়ে আইএসে যোগ দিয়েছিল এমন সন্দেহভাজনদের একটি তালিকা বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোতে দেয়া হয়েছে।

ওই তালিকার কেউ বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। তবে তালিকায় কতজনের নাম রয়েছে তা পুলিশ কর্মকর্তারা জানাতে চান নি। তারা বলছেন এই সন্দেহভাজনদের ভারত হয়ে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আসার সুযোগ নেই। তারা একমাত্র বিমানবন্দর দিয়েই ঢোকার চেষ্টা করতে পারে। এমন ধারণা থেকেই বিমানবন্দরগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে তারা জানাচ্ছেন।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন তারা ফিরে আসলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক আব্দুর রব খান অতীত বাস্তবতার কথা তুলে ধরে বলেছেন আগে তালেবানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ করতে আফগানিস্তানে অনেক বাংলাদেশী গিয়েছিলেন, যারা দেশে ফিরে জঙ্গী তৎপরতা শুরু করেছিলেন।

বিভিন্ন জঙ্গী নেতাদের অনেকেই আফগানিস্তান ফেরত ছিলেন বলে বিভিন্ন মামলা ও তথ্যপ্রমাণে উঠে এসেছিল। এখনও জঙ্গীদের অনেকে ধরা পড়ছে বলে মি: রব খান জানান। সেই প্রেক্ষাপটে সিরিয়ায় আইএসের পক্ষে লড়াই করা কোন বাংলাদেশী দেশে ফেরার চেষ্টা করে করলে সেটা দেশটির নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হবে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন।

 

 

 

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০৬:৫৯:০৪