নির্বাচনী কারচুপি নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের প্রথম প্রতিবাদ, কিন্তু শীর্ষ নেতারা নেই
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মানব-বন্ধন
বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ত্রিশে ডিসেম্বরের নির্বাচন বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবিতে আজ (বুধবার) ঢাকায় কালো ব্যাজ ধারণ ও মানব-বন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। বিতর্কিত নির্বাচনের পর এটিই ছিল রাস্তায় ঐক্যফ্রন্টের প্রথম প্রতিবাদ। কিন্তু শীর্ষ নেতাদের অধিকাংশই সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন।

এমনকি যিনি এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন, সেই বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ছিলেন না। কর্মসূচিতে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে শুধুমাত্র যোগ দিয়েছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান। মি. আলমগীর ছাড়াও এই জোটের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন, আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক নেতাই অনুপস্থিত ছিলেন। সঙ্গত কারণেই নেতা কর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণও ছিলো জোটের অন্য অনেক কর্মসূচির তুলনায় অনেক কম।

তাহলে কি বিরোধী নেতৃত্ব আপাতত রণে ভঙ্গ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? ঐক্যজোটে ঐক্য কি এখনও অটুট রয়েছে? নেতা-কর্মীরা কি হতাশ?

এসব প্রশ্ন উঠেতে পারে ভেবেই হয়তো জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিনিয়র নেতাদের একজন জাসদ সভাপতি আসম আব্দুর রব স্বতঃ:প্রণোদিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন কেন বুধবারের কর্মসূচিতে জোটের শীর্ষ অনেক নেতা নেই।

তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনে নেতা-কর্মীদের অনেকেই ক্লান্ত এবং অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ড. কামাল হোসেন বাতের ব্যথায় আসতে পারেননি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং মাহমুদুর রহমান মান্না চিকিৎসার জন্য বিদেশে। কাদের সিদ্দিকী পারিবারিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তবে, আব্দুর রব বলেন, ''জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আছে ও থাকবে।''

যেখানে বিরোধীরা নিশ্চিতভাবে মনে করছেন যে সরকার পুলিশ ও প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে জবরদস্তি করে নির্বাচন তাদের পক্ষে নিয়ে গেছে, সেখানে তার প্রতিবাদে মানব-বন্ধনের মত সাদামাটা একটি কর্মসূচি কি নেতা-কর্মীদের হতাশ করবে না? এই প্রশ্নে গণফোরাম এবং ঐক্যফ্রন্ট নেতা সুব্রত চৌধুরী মঙ্গলবার রাতে বিবিসিকে বলেন, এখনও তাদের নেতা-কর্মীদের যেভাবে ধরপাকড় করা হচ্ছে, তাতে বড় কোনো কর্মসূচি দিতে তারা কিছুটা সময় নিচ্ছেন।

"আমরা এমন কিছু এখন করতে চাইনা যেটা হঠকারি হবে, আমাদের নেতা-কর্মীদের আরো বিপদের মুখে ফেলে দেবে।"

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে কারচুপি নিয়ে একটি জাতীয় সংলাপের জন্য তারা ঢাকায় অনুমতি পাননি। একটি ভেন্যু জোগাড় করতে ব্যর্থ হয়েছেন। জাসদ নেতা আব্দুর রব বুধবার ঘোষণা করেছেন, আগামী ২৪শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় একটি গণশুনানির আয়োজন তারা করবেন যেখানে এবারের নির্বাচনে কিভাবে কারচুপি হয়েছে তার তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হবে। সেই গণশুনানি শেষ পর্যন্ত তারা করতে পারবেন কীনা - তা নিয়ে বিরোধী নেতাদের মধ্যে এখনও সংশয় কাজ করছে। -বিবিসি বাংলা

০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:১২:৩৯