'আমাকে ফেরত পাঠানোর আগে এখানেই গুলি করতে হবে'
অ+ অ-প্রিন্ট
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ‘ইউএনএইচসিআর’র বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি
রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিনে দেখতে বাংলাদেশ সফর করছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ‘ইউএনএইচসিআর’র বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। তিনি গত সোমবার ও মঙ্গলবার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করেন। এসময় ধর্ষিতা রোহিঙ্গা নারীদের সাথে কথা বলেন হলিউডের এই অভিনেত্রী।

এরপর মঙ্গলবার কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘যেসব রোহিঙ্গা পরিবারের সাথে আমি দেখা করেছি তাদের সাথে অন্যান্য শরণার্থীদের একটা জায়গায় মিল আছে। তারা সবাই ঘরে ফিরতে চায় এবং এটা তাদের অধিকার। কিন্তু এটা হতে হবে তখন যখন তারা স্বেচ্ছায় যেতে চাইবে এবং তারা নিশ্চিত হবে যে, তাদের অধিকারের প্রতি সম্মান দেয়া হবে।’

জোলি মনে করেন, রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে রাখাইনে ফিরতে পারে, সেই পরিস্থিতি তৈরি করার দায়িত্ব মিয়ানমারের।

জোলি জানান, সোমবার তিনি এক রোহিঙ্গা নারীর সঙ্গে কথা বলেছেন যে মিয়ানমারে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ওই নারী তাকে বলেছে, ‘যদি আমার অধিকার ছাড়া আমাকে ফেরত পাঠানো হয়, তার আগে আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি সেখানেই আামাকে গুলি করতে হবে।’

জোলি বলেন, ‘আজ কক্সবাজারে যেখানে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, সেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আশ্রয়শিবিরটি। এখানে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গার আশ্রয় হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সব শরণার্থীই অসহায়। তবে রোহিঙ্গারা শুধু বিতাড়িতই হয়নি, তাদের একেবারে প্রাথমিক মৌলিক অধিকারটুকুও দেয়া হয়নি। তাদের জন্মভূমিতে তাদের নাগরিকত্ব দেয়া হয়নি। এমনকি তাদের রোহিঙ্গা নামে ডাকাও হচ্ছে না যেটা তাদের অধিকার। তাদের এসব অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব মিয়ানমারের।’

এ সময় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন জোলি। সূত্র: বিবিসি বাংলা

০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১১:০৭:০৪