সুলতান ও মোকাব্বির খানকে অপেক্ষার পরামর্শ গণফোরামের
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খান
গণফোরাম থেকে মনোনয়ন পাওয়া ও বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে নির্বাচিত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এবং উদীয়মান সূর্য নিয়ে নির্বাচিত মোকাব্বির খান আপাতত অপেক্ষায় থাকুন—এমনটাই চায় গণফোরাম।  দলটি চায়, শপথ নেওয়ার জন্য উন্মুখ এই দুই সংসদ সদস্য নৈতিক দিক বিবেচনা করে হলেও দল ও জোটের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুক। গণফোরামের শীর্ষ নেতাদের ধারণা, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক বিএনপি শেষ মুহূর্তে সংসদে যাবে।  তখন গণফোরামের দুই সংসদ সদস্যের শপথ গ্রহণে আর কোনো বাধা থাকবে না।  বিষয়টি নিয়ে কেউ  প্রশ্নও তুলবে না। খবর সারাবাংলা'র।

দলটির শীর্ষ নেতাদের মতে, বিএনপির সংসদ সদস্যদের আগে শপথ নিলে জোটের অস্তিত্ব যেমন সংকটের মুখে পড়বে, তেমনি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বীর খানের নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।  তাই শপথ গ্রহণের ব্যাপারে তাড়াহুড়ো না করে ‘রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন’ পর্যন্ত অপেক্ষা করাটাই শ্রেয় মনে করছে গণফোরাম।

গণফোরামের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কৌশলগত কারণ ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অখণ্ডতা রক্ষায় সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খানের শপথ গ্রহণের ব্যাপারে আপাতত তারা বিরোধিতা করলেও গণফোরামের দুই জন প্রতিনিধি সংসদে যাক—দলের বেশিরভাগ নেতাই তা চান। তবে তা যেন হয় দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে।

প্রসঙ্গত, জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ‘এই মুহূর্তে’ সংসদে যাওয়া বা শপথ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।’

এই প্রসঙ্গে গণফোরামের শীর্ষ নেতারা বলছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যে অন্তত এতটুকু বোঝা যাচ্ছে, ‘এই মুহূর্তে’ সংসদে না গেলেও পরিস্থিতি বদলালে ‘শেষ মুহূর্তে’ সংসদে যেতে পারে বিএনপি।  তাদের দুই প্রধান নেতার (খালেদা জিয়া-তারেক রহমান) কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেলে আগামী এপ্রিল নাগাদ শপথ নিতে পারেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা।  সেক্ষেত্রে গণফোরামের দুই সংসদ সদস্য এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করলে ক্ষতি কী?

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘পরিস্থিতি বদলালে বিএনপিও শপথ নিতে পারে।  যদি তারা শপথ নেন, তখন আমাদের দুই জনও শপথ নেবেন— এত তাড়াহুড়ো করার কী আছে?’

এদিকে, গণফোরামের কাছ থেকে মনোনয়ন, বিএনপির কাছ থেকে প্রতীক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানার নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সুলতান মুহম্মদ মনসুর শপথ গ্রহণের ব্যাপারে মাঝখানে খুব তোড়জোড় শুরু করলেও এই মুহূর্তে অনেকটা নীরব রয়েছেন।  বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে ‘আগবাড়িয়ে’ কিছু বলতে চাচ্ছেন না তিনি।

রোববার (০৩ ফেব্রুয়ারি) শপথ গ্রহণের ব্যাপারে জানতে চাইলে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেন, ‘এ ব্যাপারে আর একটা কথাও বলতে চাই না।  যা বলার, আগেই বলে দিয়েছি।  আপনি পত্রিকা দেখুন।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গণফোরাম থেকে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খানকে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, শপথ গ্রহণের ব্যাপারে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সুলাতন মোহাম্মদ মনসুর দুই দিক থেকেই সমস্যায় পড়বেন বলে মনে করেন গণফোরামের নীতিনির্ধারকরা।

দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন, গণফোরামের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দলের কাছে তিনি দায়বদ্ধ।  দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হলে তার সদস্যপদ থাকবে না। অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করায় বিএনপিও তার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে ‘আপত্তিপত্র’ দিতে পারে। সেক্ষেত্রে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হবে।

অন্যদিকে, সরাসরি গণফোরামের মনোনয়ন ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করায় মোকাব্বির খানও তার দলের কাছে দায়বদ্ধ।  দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হলে সংসদ সদস্য পদ হারাবেন তিনি—এমনটিই বক্তব্য গণফোরামের নীতি-নির্ধারকদের। এ প্রসঙ্গে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেওয়ার সুযোগ তাদের (সুলতান মনসুর-মোকাব্বির খান) নেই।  আমরা তাদের অনুরোধ জানাব, দল থেকে পদত্যাগ করে উপ-নির্বাচনে অংশ নিতে।  দল, জোট ও প্রতীক (ধানের শীষ-উদীয়মান সূর্য)-এর বাইরে গিয়ে ব্যক্তি ইমেজ কাজে লাগিয়ে তারা যদি জিতে আসতে পারেন, সেটা তাদের জন্যও সম্মানজনক হবে।’

সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘সব চেয়ে ভালো হয়, তারা যদি আরেকটু অপেক্ষা করেন। পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে বিএনপি যদি শপথ নেয়, তারাও শপথ নিতে পারবেন।’

দলের দুই সংসদ সদস্যর শপথ গ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাইলে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, ‘জোট ও দলের সিদ্ধান্ত তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১০:৩০:৫৭