চিকিৎসকের আত্মহত্যা
একাধিক যুবকের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেছেন মিতু
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
অ+ অ-প্রিন্ট
চট্টগ্রামের চিকিৎসক স্বামী মোস্তফা মোরশেদ আকাশকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গ্রেপ্তার তানজিলা হক মিতু একাধিক যুবকের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে স্বামীর আত্মহত্যার ঘটনায় নিজের বন্ধুদের প্ররোচনার বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন তিনি। পুলিশ অবশ্য বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চায়।

এদিকে আকাশের মা জুবেদা বেগম বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেছেন। এতে মিতু, মিতুর বাবা ও মা, ছোট বোন, মিতুর দুই বন্ধু ডা. মাহবুব ও প্যাটেলকে আসামি করা হয়েছে। সেই মামলায় গতকাল বিকালে আদালতে হাজির করা হলে জামিন নামঞ্জুর করে মিতুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর নন্দনকানন এলাকার একটি বাসা থেকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা মিতুকে গ্রেপ্তার করেন। পরে গতকাল সকালে নগরীর দামপাড়া চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কার্যালয় মিলনায়তনে ব্রিফিং করেন অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. মিজানুর রহমান। তিনি মিতুর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘদিন ভালোবেসে বছর তিনেক আগে প্রেম করে বিয়ে করেন আকাশ ও মিতু।

বিয়ের পর পরই স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। তখন থেকেই বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ১৩ জানুয়ারি মিতু দেশে আসার পর তাদের মধ্যে তিক্ততা আরও বেড়ে যায়। গত বুধবার রাতে এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হাতাহাতিও হয়। সেদিন রাতেই ইঞ্জিনিয়ার আনিসুল হক চৌধুরী এসে আকাশদের বাসা থেকে মেয়েকে নিয়ে যান। আর ভোরের দিকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আত্মহত্যা করেন আকাশ। এ ঘটনায় মিতুর কোনো বন্ধুর প্ররোচনা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বন্ধুদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ কর্মকর্তা মিজান জানান, বিয়ের আগ থেকেই মেডিক্যালের ছাত্রী মিতু ছিলেন বহুগামী। একাধিক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ও হোটেলে রাত কাটানোর ঘটনা জেনেও শুধু মানসম্মানের কথা ভেবে আকাশ তাকে বিয়ে করেন। মৃত্যুর আগে আকাশের দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব কথা উঠে আসে। গত বৃহস্পতিবার রাতভর আকাশের চাঁদগাও আবাসিক এলাকার বাসায় তাদের মধ্যে তুমুল কলহ বাঁধে। ওই সময় একটি ভিডিও ধারণ করা হয়, যেখানে মিতু তার একাধিক বন্ধুর সঙ্গে পরকীয়া এবং অনৈতিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। তবে ভিডিওতে তাকে আতঙ্কিত দেখা গেছে এবং ঠোঁট ছিল রক্তাক্ত। পুলিশের ধারণা, ওই ভিডিওটি আকাশ নিজেই ধারণ করেন।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর মিতুকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরকীয়া এবং স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ নিয়ে তিনি কিছু বিষয় স্বীকারও করেছেন, আবার কিছু বিষয় এড়িয়ে গেছেন। আকাশের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়েছে। তবে আকাশ তার ফেসবুকে স্ত্রী মিতুর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ ও বিভিন্ন ছবিসংবলিত যে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন, সেটি কে বা কারা ডিলিট করে দিয়েছে।’

০২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১১:৪০:৩২