পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ : পুলিশি দমনপীড়ন বন্ধে জার্মানি রাষ্ট্রদূতের টুইট বার্তা
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট


টানা পঞ্চম দিনের মতো আজকেও রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়েছেন পোশাক শ্রমিকরা। তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। শ্রমিকদের সড়কে অবস্থানের কারণে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজধানী ও অশেপাশের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং জনদূর্ভোগের সৃষ্টি হয়। এদিকে, আন্দোলনরত গার্মেন্ট শ্রমিকদের ওপর পুলিশি দমনপীড়ন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোলজ। শ্রমিকদেরকে ন্যায্যা মজুরি দেয়ার জন্য তিনি কারখানা মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এক টুইটে তিনি আজ এসব কথা বলেছেন বলে খবর দিয়েছে ডেইলি স্টার।

টুইটে তিনি লিখেছেন, আন্দোলনরত গার্মেন্ট শ্রমিকদের ওপর পুলিশের দমনপীড়ন চালানো উচিত নয়। এর জন্য প্রয়োজন সমঝোতা। তা করতে হবে কারখানা মালিকদের। ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ দিন। দুর্ঘটনা বা এক্সিডেন্ট বিষয়ক ইন্সুরেন্স প্রতিষ্ঠা করুন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ ক্রেতা দেশ জার্মানি। এক্ষেত্রে প্রথম অবস্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে, পোশাক শিল্পে ন্যূনতম মজুরিকে ঘিরে সৃষ্ট শ্রম অসন্তোষ প্রশমনে মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এক মাসের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেয়া হয়েছে গত মঙ্গলবার। তারপরও প্রশমিত হয়নি অসন্তোষ। গতকালও বিক্ষোভ, ভাংচুর, সড়ক অবরোধ হয়েছে ঢাকাসহ শিল্প অধ্যুষিত সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে। সব মিলিয়ে বন্ধ হয়েছে ৮০টির মতো কারখানা।

শ্রমিকদের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান। তিনি বলেন, আমরা তড়িঘড়ি করে সমস্যার সমাধান করতে চাচ্ছি। যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, তাতে যোগ-বিয়োগের কোনো ভুল থাকতে পারে, মিটিংয়ে এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করে সমাধান সম্ভব। মঙ্গলবার গঠিত ত্রিপক্ষীয় কমিটি বৃহস্পতিবার (আজ) প্রথম বৈঠকে বসে। এ বৈঠকেই সমাধান আসবে বলে আশা করছে সরকার পক্ষ। ওদিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে মোট আট প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরে।

এদিকে পোশাক খাতের শ্রম অসন্তোষ নিয়ে সচিবালয়ে গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এ সময় তিনি বলেন, উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে তৈরি পোশাক কারখানার মালিকপক্ষের পাঁচজন, শ্রমিকপক্ষের পাঁচজন এবং বাণিজ্য, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এক মাসের মধ্যে সমস্যা সমাধান করা হবে। কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।

মন্নুজান বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত শ্রমিকবান্ধব। তিনি নিজেই সুপারিশ করে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর ব্যবস্থা করেছেন। এখন নতুন মজুরি কাঠামোর কোথাও কোনো অসুবিধা থাকলে আলোচনা করে তা ঠিক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই আর কোনো বিশৃঙ্খলা নয়। সবাইকে কাজে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করছি। -পার্সটুডে


১০ জানুয়ারি, ২০১৯ ২০:২০:২৪