ধান ব্যবসায়ী থেকে খাদ্যমন্ত্রী
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
আওয়ামী লীগের সাংসদ সাধন চন্দ্র মজুমদার
একাদশ জাতীয় সংসদে খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ সাধন চন্দ্র মজুমদার। নওগাঁর এই আসন থেকে এই প্রথম কোনো সাংসদ মন্ত্রিসভার সদস্য হলেন। তবে এর বাইরে তার সম্পর্কে আরও যে তথ্যটি অবাক করার মতো তা হলো তিনি একজন মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের ছেলে ছিলেন। বাবা ছিলেন ধানের ব্যবসায়ী। এক সময় তিনি নিজেও ধান-চালের ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।খবর আমাদের সময়'র । 

সাধন মজুমদারের উঠে আসার গল্প বলেছেন তার ছোট ভাই নিয়ামতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনা মজুমদার। তিনি বলেন, ‘স্কুলশিক্ষক বাবা মারা যাওয়ার পর কৃষিজমি চাষাবাদ ও ধান-চালের আড়তের ব্যবসার ওপর দিয়ে আমাদের নয় ভাইবোনের বড় সংসার চলেছে। এমপি হওয়ার আগ পর্যন্ত সাধন দাদা নিজেও কৃষিকাজ ও আড়তের ব্যবসা করতেন। দাদার জমিজমা ও আড়তের ব্যবসা এখন আমি ও আমার অন্য ভাইয়েরা দেখাশোনা করি।’

কৃষক পরিবারের ছেলে সাধন মজুমদারের জন্ম ১৯৫০ সালে ১৭ জুলাই। নওগাঁ ডিগ্রী কলেজ থেকে বিএ (স্নাতক) পাশ করেন। তার পৈত্রিক বাড়ি জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার হাজীনগর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে। তবে বর্তমানে নওগাঁ শহরের পোস্ট অফিস পাড়ায় সপরিবারে বসবাস করেন তিনি।

১৯৮৪ সালে নিজ জন্মস্থান হাজীনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯০ সালে নিয়ামতপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির মনোনিত প্রার্থী ডা. ছালেক চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন তিনি। এরপর ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছালেক চৌধুরীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন সাধন চন্দ্র মজুমদার। এরপর ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

সবশেষ ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মোস্তাফিজুর রহমানকে পরাজিত করে তৃতীয়বারে মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এ নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ৯৭ হাজার ৫৯২ ভোট এবং বিএনপির মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেনে এক লাখ ৪১ হাজার ৩৬৪ ভোট।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় পর গত ১০ বছর তার নির্বাচনী এলাকায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করেছেন সাধন মজুমদার। নওগাঁর খরা কবলিত এলাকা হিসেবে পরিচিত এ অঞ্চলটিতে এখন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে গভীর নলকূপের পানি সেচের মাধ্যমে জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদন হচ্ছে। এ তিন উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা, পানির সুব্যবস্থা, বনায়ন, শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃষ্টান্ত মূলক অবদান রেখেছেন তিনি।

সাপাহার উপজেলা ৮৫ শতাংশ এবং পোরশা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন উদ্বোধন করেছেন। সব মিলিয়ে তিন উপজেলায় তিনি নিজের ও নিজ দল আওয়ামী লীগের গ্রহণযোগ্য ভাবমূর্তি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। দলমত বির্নিশেষে তিনি ছিলেন সবার ভালবাসা ও শ্রদ্ধার পাত্র।

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এনামুল হক তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘স্বাধীনতার পর এই প্রথম নওগাঁ-১ আসন থেকে আমরা মন্ত্রী পেয়েছি। এ জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

এনামুল হক আরও বলেন, ‘অবহেলিত এই নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার উপজেলাসহ নওগাঁর ১১ উপজেলায় একযোগে ব্যাপক উন্নয়ন করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সাধন চন্দ্র মজুমদার খাদ্যমন্ত্রী হওয়ায় নওগাঁবাসীর দাবি গ্যাস সংযোগ, ইপিজেড, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সাধারণ মানুষের সব ধরনের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণের একটি পথ সৃষ্টি হলো।’

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৭ সালে নওগাঁ-৫ (সদর) আসন থেকে বাণিজ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আবদুল জলিল। ২০১৪ সালে তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসন থেকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী হন মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক। আর চতুর্থবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর খাদ্য মন্ত্রী হলেন নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য সাধন চন্দ্র মজুমদার।

 

০৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ০৯:২২:৪৯