চার যুবকের হত্যাকাণ্ডে বিভ্রান্ত পরিবার, পুলিশ
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
বাংলাদেশে ঢাকার কাছে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মহাসড়কের পাশে পড়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া চারটি মৃতদেহ সোমবার সনাক্ত করার পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশের কাছ থেকে বুঝে পেয়ে মৃতদেহগুলো পাবনার গ্রামে নিয়ে যাওয়ার পথে দুইজন অভিভাবকের সাথে টেলিফোনে কথা হয় বিবিসির। কেন তাদের সন্তানরা ঢাকায় কাজ করতে এসে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হলো তা নিয়ে তাদের কণ্ঠে বিভ্রান্তি ছিল স্পষ্ট।

নিহত সবুজের বাবা খাইরুল ইসলাম জানান, নিহত সবুজ, ফারুক হোসেন এবং জহিরুল - এরা তিনজনই সম্পর্কীয় ভাই, এবং তিনজনই ঢাকার কাছে তারা একটি বেকারিতে কাজ করতেন। থাকতেনও একসাথে।

"তিনজনের লাশ আজ গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছি," গভীর শোক এবং আক্ষেপের সাথে বলেন খাইরুল ইসলাম। তিনি জানান, লিটন নামে তার ছেলের আরেক খালাতো ভাই এখনও নিখোঁজ, এবং তিনি যেন ধরেই নিচ্ছেন সেও আর বেঁচে নেই।

কীভাবে তাদের সন্তানদের এমন মৃত্যু হলো? এই প্রশ্নে দুই অভিভাবক দু'রকম কথা বলেন। নিহত ফারুক হোসেনের সৎ বাবা জামাল ফকির বলেন, একজন আত্মীয় মারফত তিনি শুনেছেন ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে বাসা থেকে এদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুলিশের কাছে সে কথা তিনি বলেছেন কিনা- এই প্রশ্নে জামাল ফকির বলেন, আড়াইহাজার থানায় সে কথা তিনি বলেছেন।

কিন্তু এসব কথার মধ্যেই জামাল ফকিরের হাত থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে নিহত সবুজের বাবা খাইরুল ইসলাম বলেন, তার বিশ্বাস পারিবারিক শত্রুতার জের ধরে তাদেরই এলাকার কিছু লোক তাদের সন্তানদের হত্যা করেছে।

"আমার ব্যাটাকে মারছে আমার দেশের লোক...প্রশাসন মারলে মাথা ফাটিয়ে মারেনা, তারা গুলি করে। তাছাড়া, আমার ছেলে কোনো অপরাধের সাথে জড়িত ছিলনা, কোনো মামলা ছিলনা।"

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বিবিসিকে বলেছেন, নিহত চারজনেরই মাথায় মারাত্মক জখম ছিল। "দুজনের মাথার মগজ পর্যন্ত বেরিয়ে ছিল।"

তিনি জানান, ঘটনাস্থলে দুটি পিস্তল এবং এক রাউন্ড গুলি পাওযা গেছে। "কিন্তু গুলিতে নাকি অন্য কোনোভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে, ময়দা তদন্তের রিপোর্টের পরই তা জানা যাবে।।

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে দু'একজন অভিভাবকের বক্তব্যের প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মি মামুন বলেন, এরকম কোন অভিযোগ তারা পাননি। তিনি বলেন, পরিবার অভিযোগ করলে অবশ্যই তা তদন্তের আওতায় আসবে। ঐ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে তাদের সন্দেহ যে ডাকাত বা সন্ত্রাসীদের কোন্দলে ঐ হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকতে পারে।

 

 

 

 

 

 

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০৬:২১:০৪