প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, জানতে চান কূটনীতিকরা
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। এসময় তাদের ৭ দফা দাবি ও ১১ লক্ষ্য কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরা হয়। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেক শোরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সূচনা বক্তব্য দেন। এরপর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। লিখিত বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন, অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের উদ্দেশে ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি ও ১১ লক্ষ্য তুলে ধরেন। এ সময় কূটনীতিকদের প্রশ্নের জবাবও দেন ড. কামাল হোসেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, কাতার, ভিয়েতনাম, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা  উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনের পরিবেশ থাকলে খালেদা জিয়াকে ছাড়াই ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে কূটনৈতিকদের জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ। বৈঠকে কূটনৈতিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ এ কথা বলেন বলে সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়া তোমরা তো নির্বাচনে যাবে না- বৈঠকে কূটনৈতিকদের এই প্রশ্নের জবাবে ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ বলেন, সেটা নয়। নির্বাচনের পরিবেশ থাকলে আমরা নির্বাচনে যাবো।

সূত্রটি আরো জানায়, বৈঠকে কূটনৈতিকরা ঐক্যফ্রন্টের কাছে জানতে চান যে, জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক আছে কী না? এই বিষয়ে ড. কামাল হোসেন কূটনৈতিকদেরকে বলেন, স্বাধীনতা স্বপক্ষের শক্তিদেরকে নিয়ে আমরা জোট করেছি। আর জামায়াতের তো এখন নিবন্ধন নাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে উপস্থিত বিএনপির এক শীর্ষ নেতা বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, বৈঠকে একজন কূটনৈতিক প্রশ্ন করেছিলেন, তোমাদের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? এই প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, এটা তো যৌথ আন্দোলন। আর যৌথ আন্দোলনে লিডার তো এভাবে হয় না।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও জমির উদ্দিন সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, তানিয়া রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ।

বিএনপি, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, জেএসডি, গণফোরাম ও নাগরিক ঐক্য মিলে ১৩ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আত্মপ্রকাশ ঘটে। নতুন জোটের আহ্বায়ক করা হয়েছে গণফোরামের সভাপতি ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনকে। নতুন জোটের পক্ষে ৭ দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য ঘোষণা করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। এরইমধ্যে ঐক্যফ্রন্টটি জনসভার কর্মসূচি ঘোষণা হয়েছে।

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ২২:৪০:৪২