বিএনপিকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে : ওবায়দুল কাদের
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের
বিএনিপির মাস্টারমাইন্ড ড. জাফর উল্লাহ চৌধুরী সেনাবাহিনীর প্রধানকে নিয়ে যে স্পর্শকাতর বক্তব্য দিয়েছে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার না করলে বিএনপিকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শনিবার (১৩ অক্টোবর) সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুরে চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কের সংযোগ সড়কের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

বিএনপিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিষফোঁড়া হিসেবে মন্তব্য করে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, কানাডা ও দেশের অভ্যন্তরীণ আদালতে রায়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে বিএনপি একটি আর্ন্তজাতিক সন্ত্রাসী দল। তাদের কোনো নীতি নৈতিকতা ও আদর্শ নেই। তাদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হচ্ছে সন্ত্রাস। যারা পলিটিক্স ও ভায়োলেন্সকে একত্রিত করে ফেলেছে। তারা এখন বেসামাল হয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে পিলখানার হত্যাকান্ড টেনে সরকারের বিরুদ্ধে তথাকথিত সংশ্লিষ্ট্রতার অভিযোগ তুলছে।

তিনি বলেন, ২১ আগষ্ট হত্যা মামলার রায় হওয়ার পর তারা আসলেই ধরা পড়ে গেছে।সত্যকে আড়াল করার জন্য মুখের বিষ ও গলার জোর দিয়ে আবোল তাবোল বলছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকে সতর্ক করে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, কথাবার্তা শালীনতা বজায় রেখে বলা উচিত। শালীনতার সীমা রেখার বাইরে যাওয়া উচিত নয়।

মন্ত্রী বলেন, সবশেষ তাদের মুখের বিষ এসে পড়ছে স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর। সেনাপ্রধানের মতো স্পর্শকার জায়গায়ও তাদের মুখের বিষ এসে ঝরে পড়ছে। তারা এখানেও হাত দিয়েছে। তাদের বুদ্ধিজীবী এক নেতা সেনাপ্রধানকেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি।পরে আবার স্লিপ হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন। এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। সেনাপ্রধান সম্পর্কে না জেনে মিথ্যা বানোয়াট অসত্য মন্তব্যের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করার আহবান জানান তিনি।

ড. কামাল হোসেন ও ড. বদরুদ্দোজা চৌধুরিকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘যারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নীতি আদর্শের কথা বলেন, তারা এখন যোগ দিয়েছেন খুনি সন্ত্রাসীদের সাথে। তিনি বলেন,  আমি অবাক হচ্ছি যারা নীতি নৈতিকতা ও গণতন্ত্রের কথা বলে তারা খুনি ও সন্ত্রাসী দলের সঙ্গে তথাকথিত জাতীয় ঐক্য করতে যাচ্ছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ২১ আগস্ট মাস্টার মাইন্ড হিসেবে যাবজ্জীবন দণ্ডিত হয়েছেন। এই রায়ে পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেপরোয়া বাসের চালেকের চেয়ে বেশি বেপরোয়া বক্তব্য দিতে শুরু করেছেন। 

মন্ত্রী বলেন, পিলখানায় হত্যাকন্ডের বিচার হয়েছে কেউ প্রশ্ন তোলেনি। আজকে বিএনপি সেখানেও তাদের মুখের বিষ ঢেলে দিচ্ছে। তারা বলছে, সরকারি নাকি দায়ী। মন্ত্রী বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে জানতে চান ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় বাড়ি ছেড়ে কোথায় পালিয়ে গিয়েছিলেন বিএনপির নেত্রী।  পিলখানার ঘটনায় বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সংশ্লিষ্টতা দাবি করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বেগম জিয়া তাহলে ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা কেন নিখোঁজ ছিলেন?

তিনি বলেন, ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামিদের মতো পিলখানা হত্যাকান্ডের আসামিদেরও পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন একটি টিম নিয়োজিত ছিল। এটা আমার সাজানো কথা নয়। যিনি সকাল এগারোটার আগে ঘুম থেকে উঠেন না। তিনি কেন সকাল সাড়ে সাতটায় বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেলেন। কেঁচো খুঁড়তে চান কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বিষধর সাপ বেরিয়ে আসবে। সেই সাপে আপনাদেরই দংশন করবে।

 

১৩ অক্টোবর, ২০১৮ ২৩:২৫:৪২