যে কারণে খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকে প্রাধান্য দিয়ে পিছু হটলো বিএনপি
অ+ অ-প্রিন্ট
জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত হয়ে কারাভোগ করছেন খালেদা জিয়া
বাংলাদেশে বিরোধীদল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা শুরুর আগে পর্যবেক্ষণে রেখেছে। মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা বলেছেন, এখনো তারা মিসেস জিয়ার পুরোনো চিকিৎসাপত্রই বহাল রেখেছেন। বিএনপি দাবি করে আসছিল যে বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করাতে হবে। কিন্তু দলটির নেতারা এখন বলেছেন, তাদের নেত্রীর চিকিৎসা 'জরুরি হয়ে পড়েছে', এবং সেকারণেই তারা এ মুহুর্তে বঙ্গবন্ধৃ শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসায় রাজী হয়েছেন। মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক এম এ জলিল চৌধুরী বলেছেন, পুরোনো আর্থ্রাইটিস রোগের ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় খালেদা জিয়া বেশি অসুস্থবোধ করছেন।

"উনিতো অনেক দিন থেকে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে ভুগতেছে । ইদানিং ব্যথাটা বেড়েছে। এর ফলে উনি বাম হাতে মোটেই কাজ করতে পারেন না, কোনো কিছু ধরতে পারেন না। এটা আর্থ্রাইটিস বেশি পুরোনো হলে, তখন হয়।"

ডা. চৌধুরী বলেন, "উনি হাঁটতে গেলে হাত-পা কাঁপে। তারপর উনি নিজে নিজে বসতে পারেন না। কষ্ট করে বসলেও সাপোর্ট দিয়ে তারপর ওঠাতে হয়। আর দুইটা হাঁটুতো আগেই বদলানো আছে। উনি প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় হাঁটুতে মেটাল লাগিয়েছিলেন। প্যারালাইসিস হবে না। কিন্তু হাত যদি ব্যবহার করতে না পারে। এটাতো তার জন্য গুরুতর।" বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের নেত্রীর চিকিৎসাকে প্রাধান্য দিয়েই তারা এ মুহুর্তে এই ব্যবস্থায় রাজী হয়েছেন। শনিবার খালেদা জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, এবং হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী পাঁচজন চিকিৎসকের সমন্বয়ে একটি বোর্ড গঠন করা হয়। এরই মধ্যে মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য পরিবর্তন করা হয়েছে। ডা: সজল কুমার ব্যানার্জির পরিবর্তে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ তানজিনা পারভিনকে নেয়া হয়েছে।

এই মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা আজ তাদের প্রথম বৈঠকে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য এবং পুরোনো চিকিৎসাপত্র নিয়ে পর্যালোচনা করেন।

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার একতরফাভাবে তাদের চিকিৎসকদের দিয়ে এই মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে।

"হাইকোর্টে রিটের কারণে যে আদেশ দিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, তাঁকে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে, এবং তাঁর পছন্দমতো ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। সে অনুযায়ী হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছে, মেডিকেল বোর্ডের পাঁচজনের মধ্যে তিনজনই থাকবে তাঁর পছন্দের ডাক্তার, সরকারের ডাক্তার থাকবে দুইজন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, বোর্ডে তাঁর পছন্দের কোনো ডাক্তারকে নেয়া হয়নি" - বলেন মি. আলমগীর। এ ছাড়া ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালকের সাথে দেখা করে হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। তবে এসব অভিযোগ মানতে রাজী নয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মেডিকেল বোর্ডের অধ্যাপক এম এ জলিল চৌধুরী বলেছেন, তাদের মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়ার একজন ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সার্বক্ষণিক সহায়তা নিচ্ছে।

"এখন আমাদের পর্যবেক্ষণ চলছে। উনি যে আমাদের চিকিৎসা নেবেন, উনারতো একটা মানসিক প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে। আমরা এখন তাঁকে প্রস্তুত করছি।"

তিনি আরও বলেছেন, "হাইকোর্ট যেটা বলেছেন, ম্যাডামের চাহিদা অনুযায়ী মেডিকেল বোর্ড যদি অনুমতি দেয়, তবে পছন্দের চিকিৎসক আনা যাবে। সেটা যদি পরে উনি চান, আর আমরা যদি মনে করি উনার পছন্দের ডাক্তার আসলে উপকার হবে, সেটা অনুমতি দেবো আমরা। তাতে অসুবিধা নাই। এছাড়া উনার ব্যক্তিগত একজন চিকিৎসক মামুন আমাদের সাথে থাকুক, সেটা উনি চান। ফলে ডা: মামুন আজ আমাদের সাথে ছিল।"

গত মে মাসেও খালেদা জিয়া কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তখন কর্তৃপক্ষ তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিতে চেয়েছিল। তিনি সেখানে চিকিৎসার জন্য রাজী না হওয়ায় সে সময় তাঁকে আর ঐ হাসপাতালে নেয়া হয়নি।কিন্তু এবার তিনি সেই হাসপাতালেই এলেন।

জিয়া এতিমখানা মামলায় দন্ডিত মিসেস জিয়া ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন।

সম্প্রতি তাঁর চিকিৎসার বিষয় নিয়ে বিএনপি হাইকোর্টেও গিয়েছিল। দু'দিন আগে চৌঠা অক্টোবর বাংলাদেশের হাইকোর্ট এক রায়ে খালেদা জিয়ার পছন্দমত তিন জন টিকিৎসক সহ পাঁচ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে বিএসএমএমইউতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার নির্দেশ দেন। বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে বিদেশ থেকেও চিকিৎসক এনে যুক্ত করা যাবে বলে আদালত মতামত দেয়। এর পর শনিবার বিকেলে খালেদা জিয়াকে পুলিশের একটি গাড়িতে করে বিএসএমএমইউতে নিয়ে আসা হয়।

 

 

০৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১৫:৫৮