সিনহাকে যারা অপমানিত করছেন তারা অসভ্য : ড. কামাল
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন


বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে যারা অপমানিত করছেন, তারা অসভ্য। তাদের বিচার একদিন হবেই। বৃহস্পতিবার দুপুরে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আইনজীবী সমিতি আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, কোনো কারণে জেলের ভেতর এত নাটক করা হচ্ছে? বেসামরিক সময়ের তথাকথিত কারাগারের আদালত এখন কাঙ্ক্ষিত নয়। সামরিক সময়ে কর্নেল তাহেরের বিচারালয় কারাগারের ভেতর স্থাপনও মানুষ ভালো চোখে দেখেনি।

দুদকের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সনকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। রায়ের পর খালেদা জিয়াকে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের করা আরও এক মামলা তার বিরুদ্ধে বিচারাধীন। সেই মামলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ী আদালত বসানোর বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর থেকে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ী আদালতে এ মামলার কার্যক্রম চলছে।

আগামী নির্বাচনকে ঘিরে যে সর্বদলীয় ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে সেখানে জামায়াত থাকছে কি-না এমন প্রশ্নে কামাল বলেন, ‘না’। তাদের নেওয়া হবে না। এক কথায় উত্তর ‘না’।

‘আমরা স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছিলাম। তারা (জামায়াত ইসলামীর সমর্থকরা) অন্য চিন্তা করেছে। তারা স্বাধীনতাবিরোধী কাজ করেছেন। দল হিসেবে করেছে তারা। এটা তো বলা যায় না যে ব্যক্তি হিসেবে করেছেন।’

‘জামায়াত নিয়ে আমি যতদূর জানি... ওই দল থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কারা ছিলেন তা জানতে পারলে আমাদের কাজে লাগবে’- বলেন ড. কামাল। কামাল হোসেনের সঙ্গে বিএনপির জাতীয় ঐক্যের আলোচনা শুরুর পর প্রধানমন্ত্রী কথা বলেছেন গণফোরাম নেতাকে নিয়ে।

বলেছেন, তিনি কখনও ভোটে জিততে পারেন না। আর যতবার তিনি গরম বক্তব্য দেন, ততবার ব্যাগ গোছানো থাকে বিদেশে যাওয়ার জন্য।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কামাল হোসেন বলেন, ‘২০০৭-৮ এ আমরা যে মামলা করেছিলাম তাতে ১ কোটি ৪০ লক্ষ ভুয়া ভোটার বাতিল করা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশন পূনর্গঠন করা হয়েছিল। সর্বোপরি ইয়াজউদ্দিন আহমেদকে যখন আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান থেকে সরালাম তখন আমাদের চারজনের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহীর মামলা হলো। এরপর ২০১০ সালে সে মামলা থেকে আমরা মুক্ত হলাম। তখন তো আমরা দেশ ছেড়ে চলে যাইনি।’

‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য ২০০৭ সালে ২৩ টি শর্ত দিয়েছিলেন। ওই শর্তগুলো এখনও প্রযোজ্য হতো যদি তিনি বর্তমানে বিরোধী দলে থাকতেন। বিরোধী দলে থেকে যখন শর্তগুলো সমর্থন করেছিলেন, আশা করি সরকারে থেকেও তিনি সমর্থন করবেন।’


১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৮:৩৭:১১