আওয়ামী লীগের পতন নয়, সুষ্ঠু নির্বাচন চাই : কাদের সিদ্দিকী
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট


কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন- আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য গঠন করা হোক। এখানে যদি বিএনপিকে টানা হয়, তাহলে আওয়ামী লীগও চলে আসতে পারে। শনিবার দলীয় কার্যালয়ে দলের বর্ধিত সভা শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাদের সিদ্দিকী এসব কথা বলেন।

আগামী সংসদ নির্বাচনে দলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন- অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হলে কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ নির্বাচনে অংশ নেবে। আমরা কোনও জোটে থেকে নির্বাচন করব নাকি এককভাবে করবো তা সময় বলে দেবে।

আওয়ামী লীগের পতন নয়, সুষ্ঠু নির্বাচন চান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, আমরা ২০-৩০ দিনের জন্য শেখ হাসিনার পতন চাই না। অল্প দিনের জন্য শেখ হাসিনা কিংবা বর্তমান সরকারের পতন চাই না। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।

ড. কামাল ও বি চৌধুরীর নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জানিয়ে বঙ্গবীর বলেন, ‘বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে সমদূরত্বে রেখে জাতীয় ঐক্য গড়তে চাচ্ছি। আমাদের ঐক্য শুভ-অশুভ হতে পারে, তবে জাতির ক্ষতি করবে না।’

জাতীয় ঐক্য আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে হতে পারে না- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের এমন কথা যথার্থ বলেও মনে করেন এক সময়কার এই প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা।

নির্বাচন নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেই বক্তব্য তার দেয়ার এখতিয়ার নেই বলে মনে করেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, এমনকি কোনো মন্ত্রী-এমপিরও এখতিয়ার নেই। এমন বক্তব্য শুধু নির্বাচন কমিশন দেবেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, সবাই জানে বিএনপির শাসন, এখন দেখছে আওয়ামী লীগের শাসন। আমরা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির থেকে সমদূরত্ব বজায় রেখে একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলাম, এখনো করছি। আমরা বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের থেকে সমদূরত্বে থেকে প্রবীণ নেতা বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটা জাতীয় ঐক্য চাই। সেই ঐক্যের পথে অনেক শুভ পদক্ষেপ থাকবে, অনেক অশুভ কর্মকাণ্ডও ঘটবে। কিন্তু জাতীর প্রত্যাশা অপূর্ণ থাকবে না। আমরা শেষ দিন পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যের চেষ্টা চালাব। কাদের সিদ্দিকী বলেন, এখনো পর্যন্ত আমরা কোন জোট মহাজোটে আমরা যাচ্ছি না। কোথায় যাব সেটা সময় বলে দেবে। আমি বলেছি, আমরা যে জাতীয় ঐক্যের চেষ্টা করছি সেটা যতক্ষণ পর্যন্ত করা সম্ভব হবে ততক্ষণ পর্যন্ত করব। যখন সেটার সীমা শেষ হয়ে যাবে তখন আমরা করব না।

ড. কামাল, বি. চৌধুরী, মাহামুদুর রহমান মান্না এবং আসম আব্দুর রবের দেয়া বক্তব্য তাদের বক্তিগত সিদ্ধান্ত দাবি করে তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত জাতীয় ঐক্য যেহেতু গঠিত হয় নাই, সেহেতু কোনো সিদ্ধান্ত হয় নাই। তারা যে সমস্ত বক্তব্য দিয়েছেন, সেটা তাদের ব্যক্তিগত মত।

জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ ঠিক থাকলে অংশ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, সামনে একটি নির্বাচন, সেটা আদৌ হবে কি হবে না, জানি না। যদি বিশ্বাসযোগ্য প্রভাবমুক্ত নির্বাচন হয়, আমরা আনন্দের সাথে বলতে চাই সে নির্বাচনে আমরা অংশ নেব।


০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৯:৫৫:৩৬