খালেদার মামলার বিচারে আদালত বসবে কারাগারে
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারকাজ পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় করাগারে বসবে বলে জানা গেছে। এ মামলার প্রধান আসামি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অপর মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তিনি এ মামলায় নির্ধারিত তারিখে হাজিরা না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন এ মামলাটির প্রধান প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল। তবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, এটি হলে তা হবে আইনপরিপন্থী।

কাজল আরো বলেন, খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে কারাকর্তৃপক্ষ তাকে আদালতে হাজির করতে পারছেন না। ফলে মামলাটি শেষ মুহূর্তে গিয়ে ঠেকে আছে। কোনোভাবেই এগিয়ে নেয়া যাচ্ছে না। এ পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মামলাটির বিচার ঢাকা পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ী এজলাসে করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেছিলাম।

তিনি বলেন, এরই পরিপ্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয় মামলাটির বিচার কারাগারে করার বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন বলে শুনেছি। যদি রাতের মধ্যেই এ সম্পর্কীয় গেজেট প্রকাশিত হয় তবে কালই (৫ সেপ্টেম্বর) পুরাতন কারাগারে মামলাটির বিচার সম্ভব হবে। মামলাটিতে আসামিপক্ষে যুক্তি-তর্ক শুনানির জন্য দিন ধার্য আছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থ দণ্ডাদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এরপর থেকে খালেদা জিয়া নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। দুদকের কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার বিচার পুরোনো কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে অনুষ্ঠিত হবে। আজ-মঙ্গলবার আইনমন্ত্রণালয় এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারে। পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে সংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

কারাগারের ভেতরেই আদালত বসবে সেখানে গণমাধ্যমের কর্মীসহ জনগণের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে বিচার হবে বলেও জানান তিনি।

কারাগারেরের ভেতর বিচার অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, খালেদা জিয়ার বিচার কারাগারের ভেতর হবে, তারা এমন খবর জানেন না। কারাগারের ভেতর আদালত করা আইনের পরিপন্থী, এটা হতে পারে না।

আগামীকাল বুধবার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানির তারিখ ধার্য রয়েছে। মামলাটি যুক্তিতর্ক পর্যায়ে শুনানির জন্য রয়েছে।

প্রসঙ্গত: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার অপর আসামিরা হলেন হারিছ চৌধুরী, জিয়াউল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম খান।

 

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২১:৪৮:২৮