নগ্ন ছবি প্রকাশ্যে আসার আগেই প্রাক্তন প্রেমিককে খুন
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
পুরনো প্রেমিকের কাছে থাকা নিজের নগ্ন ছবি প্রকাশ্যে চলে আসতে পারে, এই আশঙ্কাতেই তাকে খুন করেছিল ২১ বছরের ডলি চৌধরী। আর এই খুনে নিজের বর্তমান প্রেমিককে দোসর হিসেবে বেছে নিয়েছিল সে। গত ১১ অগস্ট হওয়া এই খুনের কিনারা অবশেষে করে ফেলল দিল্লি পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে প্রেমিক যুগলকে।

সুশীল কুমার। এই যুবকের সঙ্গে ডলির সম্পর্ক ছিল প্রায় ছয়-সাত বছর। পাকাপাকি এই সম্পর্কে হঠাৎই ফাটল ধরে বছর দুয়েক আগে। কাজের খোঁজে গ্রেটার নয়ডা এলাকায় গিয়ে মোহিত মাভি নামের এক যুবকের সঙ্গে আলাপ হয় ডলির। ডলিকে মাসে দশ হাজার টাকা বেতনের একটি কাজ দেয় মোহিত। একই সঙ্গে ডলির জীবনে আসে মোহিত, আর দূরে সরে যেতে থাকে পুরনো প্রেমিক সুশীল কুমার।

ডলির এই চলে যাওয়া মেনে নিতে পারেনি সুশীল। প্রতিশোধ নিতে সে ব্ল্যাকমেলের রাস্তায় হাঁটে । ডলির কাছে পাঠাতে থাকে নিজের সংগ্রহে থাকা একের পর এক নগ্ন ছবি। একই সঙ্গে সেই সব ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস করে দেওয়ার হুমকিও দেয় সে।

হুমকিতে অতিষ্ঠ হয়ে সুশীলকে শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয় ডলি। শুরু হয় পরিকল্পনা। এর মধ্যে অবশ্য আবার পাল্টে গিয়েছে তার প্রেমিক। এখনকার প্রেমিক ২৮ বছরের মনীশ চৌধরীকে সঙ্গে নিয়েই শুরু হয় সুশীলকে নিকেশ করার ষড়যন্ত্র।

১১ অগস্ট মথুরার হোটেলে একটি রুম বুক করে নব্য প্রেমিক যুগল। এর পর সুশীলকে মথুরা রেলওয়ে স্টেশনে ফোন করে ডাকে ডলি। তারা একসঙ্গে ঘুরে দেখে মথুরা শহর। এর পর হোটেলের সেই রুমে পৌঁছয় তারা। কোল্ড ড্রিংকস আর খাবারের অর্ডার দিয়ে টয়লেটে যায় সুশীল। এই সুযোগে কোল্ড ড্রিংকসে বিষ মিশিয়ে দেয় ডলি। খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই অচৈতন্য হয়ে পড়ে সুশীল।

অপারেশনের প্রথম পর্ব সফল হওয়ায় নিজের নতুন প্রেমিক মনীশকে খবর দেয় ডলি। দুজনে মিলে মথুরার লক্ষীনগরের কাছে ওল্ড যমুনা ব্রিজে নদীতে ফেলে দেয় সুশীলের দেহ। সফল হয় তাদের ষড়যন্ত্র।

কিন্তু ছেলেকে খুঁজে না পাওয়ায় ১৬ অগস্ট দিল্লি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন মৃত সুশীল কুমারের বাবা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নামে দিল্লি পুলিশ। গত শুক্রবার ডলির খোঁজ পান তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকেরা। লাগাতার জেরার পর নিজের দোষ কবুল করে ডলি। গ্রেফতার করা হয় তার প্রেমিক ও এই খুনের দোসর মনীশকেও।

   

 

০২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:১৯:৪৩